بسم الله الرحمن الرحيم
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ঈদ এ মিলাদুন নবী ﷺ মুবারক Sunni Whatsapp Group Click : আমাদের সুন্নি বাংলা WhatsApp গ্রুপে যুক্ত হোন,আমাদের মুফতি হুজুরগণ আপনার ইসলামিক সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিবেন ইন শা আল্লাহ,জয়েন করতে ক্লিক করেন Sunni Bangla Whatsapp group আর Dui Bangla facebook group এবং Sunni Bangla facebook group মাসলাক এ আলা হজরত জিন্দাবাদ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত জিন্দা বাদ ৭৩ফিরকা ১টি হক পথে ।নবিﷺ এর প্রেমই ঈমান।ফরজ সুন্নাত তাসাউফ সূফীবাদ নফল ইবাদতের আরকান আহকাম সমুহ মাস'আলা মাসায়েল ইত্যাদি জানতে পারবেন।নবিﷺ সাহাবাرضي الله عنه ওলি গণের জীবনি ও অমুল্য বাণী জানতে পারবেন।মুসলিম জগতের সকল খবর ও ম্যাগাজিন পাবেন এখানেহাদিস শরীফ, কুর'আন শরীফ , ইজমা কিয়াস সম্বলিত বিশ্লেষণ, বাতিলদের মুখোশ উম্মচন করে প্রমাণ সহ দলীল ভিত্তিক আলোচনা ।জানতে পারবেন হক পথে কারা আর বাতিল পথে কারা জা'আল হক। বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্নি আলিমদের বাংলায় নাত গজল ওয়াজ নসিহত অডিও ভিডিও ডাউনলোড করুন এখান থেকে অনলাইনে সুন্নি টিভি Live দেখতে আর রেডিও Live শুনতে পাবেন। প্রচুর সুন্নি বাংলা কিতাব ডাউনলোড করুন এখান থেকে।সুন্নি ইসলামিক কম্পিঊটার এপ্লিকেশন এন্ড্রইড এপ্স পাবেন এখানে। প্রতিদিন ভিজিট করুন প্রতিদিন নতুন বিষয় আপডেট পেতে ।ভিজিট করার জন্য ধন্যবাদ জাজাকাল্লাহু খায়ের ।

নবীজি صلى الله عليه وسلم জাতীতেই নুর। (সমস্ত পর্ব)

নবীজি صلى الله عليه وسلم জাতীতেই নুর। (সমস্ত পর্ব)

edited November 13 in Ja-al-haq
ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ
ﻧﺤﻤﺪﻩ ﻭﻧﺼﻠﻰ ﻭﻧﺴﻠﻢ ﻋﻠﻰ ﺭﺳﻮﻟﻪ ﺍﻟﻜﺮﻳﻢ
সকল সৃষ্টির অস্তিত্ব লাভের ওসিলা সৃষ্টির মূল রাসূল মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম এর পবিত্র সত্ত্বা আল্লাহ পাকের এমন সৃষ্টি যা মহান রবের গর্বের চাঁদর। স্রষ্টা হিসেবে আল্লাহ অতুলনীয় আর তাঁরই সৃষ্টি হিসেবে তুলনাহীন নবীয়ে কায়েনাত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অতুলনীয় সৃষ্টি সে মহান সত্ত্বার পবিত্র জাত (জিনস) প্রকৃতই কি মানব (বাশার)? তাঁকে কি বাশার বা মানব বলে সম্বোধন করা যাবে?? এক্ষেত্রে আকল (বিবেক)-কে প্রাধান্য না দিয়ে নকল (কুরআন-সুন্নাহর ইবারত)-কে প্রাধান্য দিতে হবে। কারন ইসলাম-আক্বীদা শুধু মাত্র আকল দিয়ে অনুধাবনের বিষয় নয় বরং তা ওহীর উপর নির্ভরশীল। এতএব বিষয়টি আলেকপাত করার প্রয়াস পাচ্ছি এ কঠিন বাস্তবতাটিকে মাথায় রেখেই। আল্লাহর নিকট তাওফীক কামনা করছি এবং পানাহ্ চাচ্ছি স্বীয় নফসের প্ররোচনা থেকে।
অনাদি-অনন্ত মহান সত্ত্বা রব তা‘আলা একাই ছিলেন, ছিলেন গুপ্ত। ইচ্ছা করলেন নিজেকে প্রকাশ করার, সে অনুযায়ী সৃষ্টি করলেন গোটা সৃষ্টি জগত। আর এ সকল সৃষ্টির কেন্দ্র বানিয়েছেন যাকে, যাকে করেছেন সকল সৃষ্টি অস্তিত্বে আসার মাধ্যম তিনি হুযুর সাইয়্যেদে আলম সরকারে কায়েনাত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন- ﻭَﻣَﺎ ﺧَﻠَﻘْﺖُ ﺍﻟْﺠِﻦَّ ﻭَﺍﻻِٔﻧْﺲَ ﺇِﻻَّ ﻟِﻴَﻌْﺒُﺪُﻭﻥِ ‘আমি জ্বীন এবং মানবকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার ইবাদাতের জন্য।’ (সূরা যারিয়াত: ৫৬)
এ আয়াতের তাফসীরে আল্লামা মাহমুদ আলুসী বাগদাদী একটি হাদিসে কুদছীর উদৃতি দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন-
ﻛﻨﺖ ﻛﻨﺰﺍ ﻣﺨﻔﻴﺎ ﻓﺎٔﺣﺒﺒﺖ ﺍٔﻥ ﺍٔﻋﺮﻑ ﻓﺨﻠﻘﺖ ﺍﻟﺨﻠﻖ ﻻﻋﺮﻑ
‘আমি ছিলাম সুপ্ত গুপ্ত ভান্ডার, পছন্দ করলাম পরিচিত হতে। এতএব পরিচয়ের জন্য সৃষ্টি করলাম এক সৃষ্টিকে।’ (আল্লামা আলুসী, রুহুল মা‘আনী: ২৭ পারা, ২২ পৃষ্ঠা; শায়খ ইবনু আরাবী, ফুতুহাতে মাক্কিয়া: ১৪২; আল্লামা আবু সাউদ উমাদি, আবু সাউদ: ২/১৩০)
আর সে সৃষ্টি ধারার সর্ব প্রথম সৃষ্টি যিনি, যাকে আবর্তন করে অন্যান্য সকল সৃষ্টি, তিনি কে- এ বিষয়ে প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ এবং হাদীস যাচাই-বাছাইয়ে অত্যন্ত কঠোরনীতি অবলম্বনকারী ইমাম ইবনু জাওযী বিশিষ্ট তাবেয়ী কা‘ব আহবার থেকে একটি হাদীস নকল করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
ﻋﻦ ﻛﻌﺐ ﺍﻻٔﺣﺒﺎﺭ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺍٔﻧﻪ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻟﻤﺎ ﺍٔﺭﺍﺩ ﺍﻟﻠﻪ ﺳﺒﺤﺎﻧﻪ ﻭﺗﻌﺎﻟﻰ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻤﺨﻠﻮﻗﺎﺕ ﻭﺧﻔﺾ ﺍﻻٔﺭﺿﻴﻦ ﻭﺭﻓﻊ ﺍﻟﺴﻤﻮﺍﺕ ﻗﺒﺾ ﻗﺒﻀﺔً ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ ﺳﺒﺤﺎﻧﻪ ﻭﺗﻌﺎﻟﻰ ﻭﻗﺎﻝ ﻟﻬﺎ ﻛﻮﻧﻰ ﻣﺤﻤﺪﺍً ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﺼﺎﺭﺕ ﺗﻠﻚ ﺍﻟﻘﺒﻀﺔ ﻋﻤﻮﺩﺍً ﻣﻦ ﻧﻮﺭ ﻓﺴﺠﺪ ﻭﺭﻓﻊ ﺭﺍﺳﻪ ﻭﻗﺎﻝ : ﺍﻟﺤﻤﺪﻟﻠﻪ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻻٔﺟﻞ ﻫﺬﺍ ﺧﻠﻘﺘﻚ ﻭﺳﻤﻴﺘﻚ ﻣﺤﻤﺪﺍً ﻓﺒﻚ ﺍٔﺑﺪﺍٔ ﺍﻟﻤﺨﻠﻮﻗﺎﺕ ﻭﺑﻚ ﺍٔﺧﺘﻢ ﺍﻟﺮﺳﻞ
‘আল্লাহ তা‘আলা যখন সকল সৃষ্টিকে সৃষ্টি করতে ইচ্ছা করলেন এবং জমিনকে নিচে ও আসমানকে উপরস্থ করতে, (তখন) তিনি নিজ নূর হতে মুষ্ঠি নূর নিলেন এবং এর উদ্দেশ্যে বললেন (স্বীয় নূরের বিচ্ছুরনকে সম্বোধন করলেন)- তুমি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হয়ে যাও। অতঃপর ঐ নূরের বিচ্ছুরন এক নূরানী সত্ত্বায় সৃষ্টি হয়ে সিজদায় পতিত হয়ে গেলেন। অনন্তর সিজদা হতে তাঁর মাথা মুবারক উত্তোলন করতঃ বললেন আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর)। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করলেন, এজন্যইতো আপনাকে সৃষ্টি করলাম এবং নাম রাখলাম মুহাম্মদ (সর্বাধিক প্রশংসিত)। আপনার মাধ্যমে সৃষ্টি রাজির সুচনা করব এবং আপনার দ্বারাই রিসালাতের সমাপ্তি ঘটাবো।’ (ইমাম ইবনু জাওযী, আল মাওলিদুল আরুস: ১৬; ইমাম আবদুর রহমান ছাফুরী শাফেয়ী, নুজহাতুল মাজালিস: ১/২৫২, ইবনে আব্বাস হতে)
অনুরূপ মারফূ‘-মুত্তাসিল সূত্রে হুযুর পাকের একনিষ্ঠ খাদেম ও মদীনার ৬ষ্ঠ সাহাবী হযরত জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত-
ﻗﺎﻝ ﺳﺄﻟﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻋﻦ ﺍﻭﻝ ﺷﺊ ﺧﻠﻘﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻓﻘﺎﻝ ﻫﻮ ﻧﻮﺭ ﻧﺒﻴﻚ ﻳﺎ ﺟﺎﺑﺮ ﺧﻠﻘﻪ ﺍﻟﻠﻪ
‘হযরত জাবের রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আরয করলাম যে, আল্লাহ্ তা‘আলা সবকিছুর পূর্বে সর্বপ্রথম কি সৃষ্টি করেছেন? জবাবে আল্লাহ’র রাসূল বললেন- হে জাবের, আল্লাহ্ সর্বপ্রথম তোমার নবীর নূরকে সৃষ্টি করেছেন।’ (ইমাম আবদুর রাযযাক, আল-মুসান্নাফ, আল-জুযউল মাফকুদ মিনাল জুযইল আওয়াল: ০১/৬৩, ছাপা: দুবাই থেকে ড. ঈসা বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন মানে‘ আল হিমইয়ারী’র তাহক্বীক্ব সম্বলিত, ২০০৫ইং)
উক্ত হাদীসটি ‘আল মুসান্নাফ’ কিতাবে ইমাম আবদুর রাযযাক মুত্তাসিল ও মারফূ‘ সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি স্বয়ং ইমাম বুখারীর দাদা উস্তাদ এবং ইমাম মালেকের ছাত্র। পরবর্তীতে এ হাদীসখানা উক্ত মুসান্নাফ এর সূত্রে কিছু শব্দগত পার্থক্যসহ প্রায় পঞ্চাশোর্ধ হাদীস বিশারদগণ তাঁদের স্ব-স্ব গ্রন্থেও সন্নিবেশিত করেন। তন্মধ্যে কয়েকটি হল-
১) শারেহে বুখারী ইমাম কাসতালানী’র আল মাওয়াহেবুল লাদুনিয়াহ্: ১/৭২।
২) আল্লামা ইউসুফ নাব্হানী রচিত আনোয়ারে মুহাম্মদীয়াহ্: ৯।
৩) ইমাম যারকানী এর শারহুল মাওয়াহেব: ১/৮৯।
৪) ইমাম বায়হাকী রচিত দালায়েলুন্ নবূয়াত: ১৩/৬৩।
৫) আল্লামা আযলুনীর কাশফুল খফা: ১/৩১১।
৬) ইমাম বুরহানুদ্দীন হালাবীর ইনসানুল উয়ূন: ১/৩৭।
৭) ইমাম ইবনু হাজার হাইতামীর ফাতাওয়ায়ে হাদীছিয়্যাহ: ৪৪।
৮) আল্লামা ফাসী এর মাতালিউল মাসরাত: ২১।
৯) আল্লামা আব্দুল হক মুহাদ্দেসে দেহলবী কৃত মাদারেজুন্নবুয়াত।
১০) আ‘লা হযরত ইমাম আহমাদ রেযা খান রচিত সালাতুস্ সফা ফী নূরিল মুস্তফা: ৫।
১১) নূর অস্বীকারকারীদের মান্যবর আশরাফ আলী থানবী এর নশরুত্বীব: ৯, প্রভৃত্তি।
আল্লামা ইমাম কাসতালানী আল মাওয়াহেবুল লাদুনিয়ায় ‘মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক’ এর সূত্রেই উক্ত হাদীস শরীফটি নিম্নোক্ত শব্দে বর্ণনা করেন- নূর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে সম্বোধন করে বলেন-
ﻳﺎ ﺟﺎﺑﺮ ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻗﺪ ﺧﻠﻖ ﻗﺒﻞ ﺍﻻﺷﻴﺎﺀ ﻧﻮﺭ ﻧﺒﻴﻚ ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ
‘হে জাবির! নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সমুদয় বস্তুর পূর্বে তাঁর নূর থেকে তোমার নবীর নূর সৃষ্টি করেছেন।’ (ইমাম কাসতালানী, আল মাওয়াহেবুল লাদুনিয়াহ্: ১/৭২)
আল্লামা যারকানী আলাইহির রাহমাহ এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন- ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ ﺍﻯ ﻣﻦ ﻧﻮﺭ ﻫﻮ ﺫﺍﺗﻪ (আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঐ নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন যা ﻋﻴﻦ ﺫﺍﺕ ﺍﻟﻬﻰ আল্লাহর প্রকৃত যাত অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় যাত থেকে কোন মাধ্যম ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন)। (ইমাম যারকানী, শারহুল মাওয়াহেব: ১/৮৯; আ‘লা হযরত, সালাতুস সফা ফী নূরিল মুস্তফা)
অতএব, উল্লেখিত উদৃতিসমূহ হতে বুঝা গেল যে, হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই হলেন রবের সর্ব প্রথম সৃষ্টি আর সবকিছু মূলতঃ তাঁর থেকেই সৃষ্টি হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা হলেন সত্ত্বাগত নূর (সৃষ্টি বা উপমাযোগ্য নয় বরং কাদীমী নূর)। আর সেই যাতী নূরের জ্যোতি হতেই নূরে মুহাম্মদী পয়দা। সাথে তাও বুঝাগেল যে, তখনও হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি বিশেষ আকৃতিতে ছিলেন। কারন হুযুর পাকের সিজদা করা এবং সিজদা থেকে মাথা মুবারক উঠানোর কথা স্পষ্ট এসেছে।
হযরত আদম আলাইহিস সালাম হলেন মানব জাতীর পিতা এবং সর্ব প্রথম মানুষ। আর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁরও অনেক পূর্বে সৃষ্টি। এ ব্যাপারে আরও একটি স্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায় হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে মারফূ‘ সূত্রে। নবীজী ইরশাদ করেন-
ﻋﻦ ﻋﻠﻲ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ : ﻛﻨﺖ ﻧﻮﺭﺍ ﺑﻴﻦ ﻳﺪﻱ ﺭﺑﻲ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ ﻗﺒﻞ ﺍﻥ ﻳﺨﻠﻖ ﺍٓﺩﻡ ﺑﺎٔﺭﺑﻌﺔ ﻋﺸﺮ ﺍٔﻟﻒ ﻋﺎﻡ
‘আমি আদম সৃষ্টির চৌদ্দ হাজার বছর পূর্বে আমার রবের নিকট নূর রূপে ছিলাম।’ (ইমাম কাসতালানী, আল-মাওয়াহেব: ১/৭৪; ইমাম যারকানী, শারহুল মাওয়াহেব: ১/৯৫; ইমাম বুরহানুদ্দীন হালাবী, সিরাতে হালবীয়া: ১/৩০; ইমাম আযলুনী, কাশফুল খফা: ১/২৩৭; ইবনু কাছির, আল-বেদায়া ওয়ান-নেহায়া: ২/৪০২)
আল্লামা ইমাম ফাসী তাঁর ‘মাতালিউল মাসরাত’ কিতাবে বর্ণনা করেন, ইমামে আহলে সুন্নাত আবুল হাসান আশ‘আরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন-
ﺍﻧﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻧﻮﺭ ﻟﻴﺲ ﻛﺎﻻﻧﻮﺍﺭ ﻭﺍﻟﺮﻭﺡ ﺍﻟﻘﺪﺳﻴﺔ ﻟﻤﻌﺔ ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ ﻭﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﺷﺮﺭ ﺗﻠﻚ ﺍﻻﻧﻮﺍﺭ ﻭﻗﺎﻝ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺍﻭﻝ ﻣﺎ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭﻯ ﻭﻣﻦ ﻧﻮﺭﻯ ﺧﻠﻖ ﻛﻞ ﺷﺊ
অর্থাৎ, আল্লাহ তা‘আলা নূর, তবে অন্য কোন নূরের মত নন। আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র রূহ্ সে নূরেরই ফয়য বা জ্যোতি। আর ফেরেশ্তাগণ ঐ জ্যোতিরই ফুল। হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- “আল্লাহ সর্বপ্রথম আমার নূরকে সৃষ্টি করেছেন, আর আমার নূর হতেই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন”। (আ‘লা হযরত, সালাতুচ্ছফা ফী নূরিল মুস্তফা: ০৩)
আ‘লা হযরত শাহ ইমাম আহমাদ রেযা খান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন-
ﻧﻮﺭ ﻣﺤﻤﺪﯼ ﺟﺐ ﻗﺪﯾﻢ ﺍﻭﺭ ﺍﺯﻟﯽ ﻧﻮﺭ ﮐﯽ ﭘﮩﻠﯽ ﺗﺠﻠﯽ ﮨﮯ ﺗﻮ ﮐﺎﺋﻨﺎﺕ ﻣﯿﮟ ﺑﮭﯽ ﺍﻟﻠﮧ ﺗﻌﺎﻟﯽ ﮐﮯ ﻭﺟﻮﺩ ﮐﺎ ﻭﮬﯽ ﺳﺐ ﺳﮯ ﭘﮩﻠﮧ ﻣﻈﮭﺮ ﮨﮯ
‘নূরে মুহাম্মদী যখন নূরে কাদীম ও নূরে আযালী তথা আল্লাহর যাতের প্রথম তাজাল্লী। কাজেই সৃষ্টিসমূহের মধ্যেও তিনিই হলেন আল্লাহ তা‘আলার ওজুদ বা অস্তিত্বের প্রথম প্রকাশ।’ (আ‘লা হযরত, সালাতুস সফা ফী নূরিল মুস্তফা)
আ‘লা হযরত শাহ ইমাম আহমাদ রেযা খান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আরো বলেন-
ﺣﻀﻮﺭ ﭘﺮ ﻧﻮﺭ ﺳﻴﺪ ﻋﺎﻟﻢ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑﻼﺷﺒﮧ ﺍﻟﻠﮧ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ ﮐﮯ ﻧﻮﺭ ﺫﺍﺗﯽ ﺳﮯ ﭘﯿﺪﺍ ﮨﯿﻦ
‘হুযুর পুর নূর সাইয়্যেদে আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিঃসন্দেহে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এর যাতী নূর থেকে সৃষ্টি।’ (আ‘লা হযরত, সালাতুস সফা ফী নূরিল মুস্তফা)
‘আল্লাহর প্রকৃত যাত ( ﻋﻴﻦ ﺫﺍﺕ ﺍﻟﻬﻰ ) থেকে সৃষ্টি’ এর দ্বারা কি উদ্দেশ্য- এ ব্যাপারে আ‘লা হযরত কিবলা বলেন-
ﮬﺎﮞ ﻋﯿﻦ ﺫﺍﺕ ﺍﻟﮭﯽ ﺳﮯ ﭘﯿﺪﺍ ﮨﻮﻧﮯ ﮐﮯ ﯾﮧ ﻣﻌﻨﯽ ﻧﮩﯿﮟ ﮐﮧ ﻣﻌﺎﺫ ﺍﻟﻠﮧ ﺫﺍﺕ ﺍﻟﮭﯽ ﺫﺍﺕ ﺭﺳﺎﻟﺖ ﮐﮯ ﻟﮱ ﻣﺎﺩﮦ ﮨﮯ ﺟﯿﺴﮯ ﻣﭩﯽ ﺳﮯ ﺍﻧﺴﺎﻥ ﭘﯿﺪﺍ ﮨﻮﺍ ﯾﺎ ﻋﯿﺎﺫ ﺑﺎﻟﻠﮧ ﺫﺍﺕ ﺍﻟﮭﯽ ﮐﺎ ﮐﻮﺋﻰ ﺣﺼﮧ ﯾﺎ ﮐﻞ ﺫﺍﺕ ﻧﺒﯽ ﮨﻮﮔﯿﺎ ﺍﻟﻠﮧ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ ﺣﺼﮯ ﺍﻭﺭ ﭨﮑﺮﮮ ﺍﻭﺭ ﮐﺴﯽ ﮐﮯ ﺳﺎﺗﮧ ﻣﺘﺤﺪ ﮨﻮﺟﺎﻧﮯ ﯾﺎ ﮐﺴﯽ ﻣﯿﮟ ﺣﻠﻮﻝ ﻓﺮﻣﺎﻧﮯ ﺳﮯ ﭘﺎﮎ ﻭﻣﻨﺰﮦ ﮨﮯ ﺣﻀﻮﺭ ﺳﯿﺪ ﻋﺎﻟﻢ ﺻﻠﯽ ﺍﻟﻠﮧ ﻋﻠﯿﮧ ﻭﺳﻠﻢ ﺧﻮﺍﮦ ﮐﺴﯽ ﺷﺊ ﮐﻮ ﺟﺰﺀ ﺫﺍﺕ ﺍﻟﮭﯽ ﺧﻮﺍﮦ ﮐﺴﯽ ﻣﺨﻠﻮﻕ ﮐﻮ ﻋﯿﻦ ﻭﻧﻔﺲ ﺫﺍﺕ ﺍﻟﮭﯽ ﻣﺎﻧﻨﺎ ﮐﻔﺮ ﮨﮯ
‘আইনে যাতে এলাহী বা আল্লাহর প্রকৃত যাত থেকে সৃষ্টি হওয়ার অর্থ এ নয় যে, (আল্লাহর পানাহ!) আল্লাহর যাত রাসূল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যাত সৃষ্টির জন্য মাদ্দা বা মূল ধাতু, যেমন মাটি দ্বারা মানুষ সৃষ্টি করা হয়েছে। অথবা (নাউজুবিল্লাহ!) এর অর্থ এটাও নয় যে, আল্লাহর যাতের কোন অংশ বা আল্লাহর পূর্ণ যাত বা সত্ত্বা নবী হয়ে গিয়েছেন। মহান আল্লাহ অংশ, টুকরো এবং কোন কিছুর সাথে একাকার হয়ে যাওয়া অথবা কোন বস্তুর মধ্যে হুলুল (ভর করা বা একীভূত) হওয়া থেকে পবিত্র। হুযুর সাইয়্যেদে আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনকি কোন বস্তুকে আল্লাহর যাতের অংশ এমনকি কোন সৃষ্টিকে প্রকৃত যাত ও নফসে যাতে এলাহী মানা বা আক্বিদা রাখা কুফুরী।’ (আ‘লা হযরত, সালাতুস সফা ফী নূরিল মুস্তফা)
সুতরাং আল্লাহর প্রকৃত যাত (ﻋﻴﻦ ﺫﺍﺕ ﺍﻟﻬﻰ ) থেকে সৃষ্টি এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, কোন মাধ্যম ছাড়াই আল্লাহ তা‘আলার যাতের তাজাল্লী। এ ব্যাপারে আ‘লা হযরত কিবলা আরো বলেন-
ﺍﻟﻠﮧ ﺗﻌﺎﻟﯽ ﻧﮯ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﯽ ﺍﻟﻠﮧ ﻋﻠﯿﮧ ﻭﺳﻠﻢ ﮐﯽ ﺫﺍﺕ ﭘﺎﮎ ﮐﻮ ﺍﭘﻨﯽ ﺫﺍﺕ ﮐﺮﯾﻢ ﺳﮯ ﭘﯿﺪﺍﮐﯿﺎ ﯾﻌﻨﯽ ﻋﯿﻦ ﺫﺍﺕ ﮐﯽ ﺗﺠﻠﯽ ﺑﻼ ﻭﺍﺳﻄﮧ ﮨﻤﺎﺭﮮ ﺣﻀﻮﺭ ﮨﯿﮟ ﺑﺎﻗﯽ ﺳﺐ ﮨﻤﺎﺭﮮ ﺣﻀﻮﺭ ﮐﮯ ﻧﻮﺭ ﻭﻇﮭﻮﺭ ﮨﯿﮟ
‘আল্লাহ তা‘আলা হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র সত্বাকে স্বীয় যাতে করীম থেকে সৃষ্টি করেছেন, এর অর্থ হল- কোন মাধ্যম ছাড়াই আল্লাহ পাকের প্রকৃত যাতের তাজাল্লী আমাদের হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আর বাকী সব আমাদের হুযুরের নূরে প্রকাশ।’ (আ‘লা হযরত, সালাতুস সফা ফী নূরিল মুস্তফা)
অতএব, হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিঃসন্দেহে আল্লাহ পাকের যাতী নূর থেকে সৃষ্টি তথা তিনি কোন মাধ্যম ছাড়াই আল্লাহর জাতী নূরের ফয়য বা জ্যোতি (বিচ্ছুরন) এবং তিনিই আল্লাহ পাকের প্রথম তাজাল্লী।
আবার ‘হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর নূর থেকে’ এ ইযাফত বা সম্বন্ধটি নবীজীর বিশেষ মর্যাদার প্রতিও নির্দেশ করে। তখন এ ইযাফতটিকে ইযাফতে তাশরীফী বা সম্মানসূচক সম্বন্ধ বলা হবে। যেমন আল্লামা ইমাম যারকানী লিখেন-
ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ ﺍﺿﺎﻓﺔ ﺗﺸﺮﻳﻒ ﻭﺍﺷﻌﺎﺭ ﺑﺎﻧﻪ ﺧﻠﻖ ﻋﺠﻴﺐ ﻭﺍﻥ ﻟﻪ ﺷﺎﻧﺎ ﻣﻨﺎﺳﺒﺔ ﻣﺎ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﺤﻀﺮﺓ ﺍﻟﺮﺑﻮﺑﻴﺔ ﻋﻠﻰ ﺣﺪ ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻭﻧﻔﺦ ﻓﻴﻪ ﻣﻦ ﺭﻭﺣﻪ
অর্থাৎ ‘মিন নূরিহী’ তথা ‘তাঁর (আল্লাহর) নূর হতে’ এটি ইযাফাতে তাশরীফিয়াহ বা সম্মানসূচক সম্বন্ধ। কাজেই এর দ্বারা এটা বুঝিয়ে দেয়া উদ্দেশ্য যে, নূরে মুহাম্মদী সৃষ্টি জগতের এক আশ্চর্য বস্তু। তাঁর একটি পৃথক মর্যাদা রয়েছে আল্লাহ পাকের দরবারে। যেমনটি প্রমান করে আল্লাহর ঐ বাণী- ﻭﻧﻔﺦ ﻓﻴﻪ ﻣﻦ ﺭﻭﺣﻪ ‘আদম আলাইহিস সালামের দেহ মুবারকে তাঁর (আল্লাহর) রূহ ফুঁকলেন’। (ইমাম যারকানী, শারহুল মাওয়াহেব: ১/৮৯)

image
tmp-cam--590509427.jpg
320 x 318 - 27K

Comments


  • নুরে খোদা মুহাম্মাদ মোস্তফা صلى الله عليه وسلم (২য় পর্ব )
    হযরত আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে-
    ﻋﻦ ﺍٔﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﺍٔﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺳﺎٔﻝ ﺟﺒﺮﻳﻞ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﻓﻘﺎﻝ ﻳﺎ ﺟﺒﺮﻳﻞ ﻛﻢ ﻋﻤﺮﺕ ﻣﻦ ﺍﻟﺴﻨﻴﻦ؟ ﻓﻘﺎﻝ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﺴﺖ ﺍٔﻋﻠﻢ، ﻏﻴﺮ ﺍٔﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﺤﺠﺎﺏ ﺍﻟﺮﺍﺑﻊ ﻧﺠﻤﺎ ﻳﻄﻠﻊ ﻓﻲ ﻛﻞ ﺳﺒﻌﻴﻦ ﺍٔﻟﻒ ﺳﻨﺔ ﻣﺮﺓ، ﺭﺍٔﻳﺘﻪ ﺍﺛﻨﻴﻦ ﻭﺳﺒﻌﻴﻦ ﺍٔﻟﻒ ﻣﺮﺓ ﻓﻘﺎﻝ : ﻳﺎ ﺟﺒﺮﻳﻞ ﻭﻋﺰﺓ ﺭﺑﻲ ﺟﻞ ﺟﻼﻟﻪ ﺍٔﻧﺎ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻜﻮﻛﺐ
    ‘নিশ্চয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক বার জিব্রাঈল আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার বয়স কত? জিব্রাঈল আরয করলেন, আল্লাহর কসম (আমার বয়সের ব্যাপারে) এটা ছাড়া আমি জানিনা যে, চতুর্থ পর্দায় (আসমানে) একটি তারকা প্রতি সত্তর হাজার বছর পর একবার উদিত হতো আর তা আমি বাহাত্তর হাজার বার দেখেছি। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- হে জিব্রাঈল, আমার রবের ইজ্জতের কসম আমি-ই ছিলাম সেই তারকা।’ (আল্লামা হাক্কী, রুহুল বায়ান: ৩/৫৪৩; ইমাম বুরহানুদ্দীন হালাবী, সিরাতে হালবীয়া: ১/৪৯; আল্লামা ইউসূফ নাবহানী, জাওয়াহিরুল বিহার: ৭৭৬)
    আবার ইমাম গাযযালী সনদ বিহীন এবং ইমাম আবদুর রাযযাক হযরত সায়েব বিন ইয়াযীদ থেকে মাকতূ‘ সনদে (সাহাবীর বাণী হিসেবে) বর্ণনা করেছেন যে, “নূরে মুহাম্মদীকে আল্লাহ ময়ূরের আকৃতিতে সৃষ্টি করতঃ শ্বেত শুভ্রপাত্রে রেখে চার শাখা বিশিষ্ঠ সাজারাতুল ইয়াক্বিন নামক বৃক্ষে স্থাপন করলেন। এ অবস্থায় তিনি একাধারে সত্তর হাজার বছর আল্লাহর তাসবীহ-তাহলীলে মাশগুল থাকেন।” (ইমাম গাযযালী, দাকায়েকুল আখবার: ৯; ইমাম আবদুর রাযযাক, আল মুসান্নাফ, আল জুযউল মাফকুদ মিনাল জুযইল আউয়াল: ৫১-৫২)
    অতঃপর যখন আল্লাহ তা‘আলা হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করলেন সেই নূরে মুহাম্মদীকে আদম আলাইহিস সালামের মধ্যে স্থাপন করলেন। তাফসীরে দুররে মানছূরে রয়েছে-
    ﺍﺧﺮﺝ ﺍﺑﻦ ﺍﺑﻰ ﻋﻤﺮ ﺍﻟﻌﺪﻧﻰ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺍﻥ ﻗﺮﻳﺸﺎ ﻛﺎﻧﺖ ﻧﻮﺭﺍ ﺑﻴﻦ ﻳﺪﻯ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻗﺒﻞ ﺍﻥ ﻳﺨﻠﻖ ﺍﻟﺨﻠﻖ ﺑﺎﻟﻔﻰ ﻋﺎﻡ ﻳﺴﺒﺢ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻨﻮﺭ ﻭﺗﺴﺒﺢ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﺑﺘﺴﺒﻴﺤﻪ - ﻓﻠﻤﺎ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺍﻟﻘﻰ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻨﻮﺭ ﻓﻰ ﺻﻠﺒﻪ - ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﻓﺎﻫﺒﻄﻨﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻰ ﺍﻻﺭﺽ ﻓﻰ ﺻﻠﺐ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﺟﻌﻠﻨﻰ ﻓﻰ ﺻﻠﺐ ﻧﻮﺡ ﻭﻗﺬﻑ ﺑﻰ ﻓﻰ ﺻﻠﺐ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺛﻢ ﻟﻢ ﻳﺰﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﻨﻘﻠﻨﻰ ﻣﻦ ﺍﻻﺻﻼﺏ ﺍﻟﻜﺮﻳﻤﺔ ﺍﻟﻰ ﺍﻻﺭﺣﺎﻡ ﺍﻟﻄﺎﻫﺮﺓ ﺣﺘﻰ ﺍﺧﺮﺟﻨﻰ ﻣﻦ ﺑﻴﻦ ﺍﺑﻮﻯ ﻟﻢ ﻳﻠﺘﻘﻴﺎ ﻋﻠﻰ ﺳﻔﺎﺡ ﻗﻂ
    ‘হযরত ইবনু আবী উমর আল-আদনী ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- নিশ্চয় কুরাইশী নবী (অর্থাৎ কুরাইশ বংশে আগমন করলেও মূলতঃ তিনি) মাখলুক তথা আদম আলাইহিস সালাম সৃষ্টির দু’ হাজার বৎসর পূর্বে আল্লাহর দরবারে নূর ছিলেন। সেই নূর তাসবীহ পাঠ করতো এবং তাঁর তাসবীর সাথে ফেরেশতাগণও তাসবীহ পাঠ করতো। অতঃপর যখন আল্লাহ তা‘আলা হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করলেন, তখন আদম আলাইহিস সালাম এর পৃষ্টদেশে সেই নূর মুবারক স্থাপন করলেন। রাসূল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা আমাকে হযরত আদম আলাইহিস সালামের পৃষ্টদেশে থাকা অবস্থায় জমিনে পাঠালেন। অতঃপর হযরত নূহ আলাইহিস সালাম এর পৃষ্টদেশে আমাকে স্থাপন করলেন। বংশ পরম্পরায় আমাকে হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের পৃষ্ঠে থাকাকালীন নমরূদের তৈরি অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এভাবে স্থানান্তরিত হতে হতে পবিত্র পৃষ্ঠদেশ থেকে পবিত্র রেহেমে স্থানান্তরিত হতে থাকি, এমনকি আমার পিতা-মাতা পর্যন্ত। আমার পূর্ব পুরুষের মধ্যে কখনোই যিনা সংঘটিত হয়নি।’ (ইমাম সুয়ূতী, আদ্ দুররুল মানছূর: ৪/৩২৯, ﻟﻘﺪ ﺟﺎﺀ ﻛﻢ ﺭﺳﻮﻝ ﻣﻦ ﺍﻧﻔﺴﻜﻢ আয়াতের ব্যখ্যায়)
    পবিত্র থেকে পবিত্র ব্যক্তিগণের মাধ্যম হয়ে স্থানান্তর হতে হতে সে নূর সর্বশেষ হযরত আব্দুল্লাহর মাধ্যমে হযরত আমেনা এর রেহেম মুবারকে স্থানান্তর হয়। নবীজী নিজে ইরশাদ করেন-
    ﻭﺇﻥ ﺍٔﻣﻲ ﺭﺍٔﺕ ﻓﻲ ﺑﻄﻨﻬﺎ ﻧﻮﺭﺍً ﻗﺎﻟﺖ : ﻓﺠﻌﻠﺖ ﺍٔﺗﺒﻊ ﺑﺼﺮﻱ ﺍﻟﻨﻮﺭ ﻓﺠﻌﻞ ﺍﻟﻨﻮﺭ ﻳﺴﺒﻖ ﺑﺼﺮﻱ ﺣﺘﻰ ﺍٔﺿﺎﺀ ﻟﻲ ﻣﺸﺎﺭﻕ ﺍﻻٔﺭﺽ ﻭﻣﻐﺎﺭﺑﻬﺎ
    ‘আমার আম্মাজান দেখলেন যে তাঁর পেটে নূর অবস্থান করছে। তিনি বলেন, অতঃপর নূরের দিকে আমি চক্ষু ফিরালাম, নূরের প্রখরতা আমার চোখের দৃষ্টিকে ম্লান করে দিচ্ছিল। এমনকি ঐ নূরের আলোতে পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিম তথা সারা দুনিয়া আমার নিকট আলোকিত ও প্রকাশিত হয়ে গেল।’ (ইমাম যায়‘আলী, তাখরীজুল আহাদীসি ওয়াল আছার: ৮৩; ইমাম সুয়ূতী, আল-খাসায়েসুল কুবরা)
    এছাড়াও নবীজীর সুরাত বা আকৃতির ব্যাপারে শায়খ ইসমাইল হাক্কী ‘সূরা মারিয়াম’-এর ﻛﻬﻴﻌﺺ এর ব্যাখ্যায় ইমাম কাশেফীর একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেন, শায়খ রুকুনুদ্দীন আলাউদ্দৌলা সিমনানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ফরমান-
    ﺣﻀﺮﺕ ﺭﺳﺎﻟﺖ ﺭﺍ ﺻﻠﯽ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺳﮧ ﺻﻮﺭﺗﺴﺖ ﻳﻜﯽ ﺑﺸﺮﯼ ﻛﻘﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﯽ ﻗﻞ ﺍﻧﻤﺎ ﺍﻧﺎ ﺑﺸﺮ ﻣﺜﻠﻜﻢ ‏( ﺍﻟﻜﻬﻒ : ١١٠ ‏) ﺩﻭﻡ ﻣﻠﻜﯽ ﭼﻨﺎﻛﮧ ﻓﺮﻣﻮﺩﺳﺖ ‏( ﻟﺴﺖ ﻛﺎٔﺣﺪ ﺍﺑﻴﺖ ﻋﻨﺪﯼ ﺭﺑﯽ ‏) ﺳﻴﻮﻡ ﺣﻘﯽ ﻛﻤﺎ ﻗﺎﻝ :‏( ﻟﯽ ﻣﻊ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻗﺖ ﻻ ﻳﺴﻌﻨﯽ ﻓﻴﻪ ﻣﻠﻚ ﻣﻘﺮﺏ ﻭﻻ ﻧﺒﻲ ﻣﺮﺳﻞ ‏) ﻭﺍﺯﻳﻦ ﻭﺭﻭﺷﻨﺘﺮ ‏( ﻣﻦ ﺭﺍٔﻧﯽ ﻓﻘﺪ ﺭﺍٔﻱ ﺍﻟﺤﻖ ))
    ‘রাসূল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর তিনটি সুরাত রয়েছে। একটি, বাশারী বা মানবীয় সুরাত। যেমন, আল্লাহর বাণী- ﻗﻞ ﺍﻧﻤﺎ ﺍﻧﺎ ﺑﺸﺮ ﻣﺜﻠﻜﻢ (আপনি বলুন, নিশ্চয় আমি তোমাদের ন্যায় বাহ্যিক আকৃতিতে একজন মানুষ)। দ্বিতীয়টি হলো, ফেরেশতার সুরাত। যেমন, আল্লাহর হাবীব নিজেই ফরমান- ﻟﺴﺖ ﻛﺎٔﺣﺪ ﺍﺑﻴﺖ ﻋﻨﺪﯼ ﺭﺑﯽ (আমি তোমাদের কারো মতো নই, আমি আমার রবের নিকট রাত্রি যাপন করি)। তৃতীয়টি হলো, সুরাতে হাক্কী বা প্রকৃত সুরাত। যেমন, হাদীস শরীফে রয়েছে, নবীজী ইরশাদ করেন- ﻟﯽ ﻣﻊ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻗﺖ ﻻ ﻳﺴﻌﻨﯽ ﻓﻴﻪ ﻣﻠﻚ ﻣﻘﺮﺏ ﻭﻻ ﻧﺒﻲ ﻣﺮﺳﻞ (আল্লাহর সাথে আমার এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে যাতে নৈকট্যপ্রাপ্ত কোন ফেরেশতা এবং কোন নবী-রাসূল পৌঁছতে পারেনি)। এর চেয়েও স্পষ্ট বর্ণনা হাদীসে রয়েছে যে, নবীজী বলেন- ﻣﻦ ﺭﺍٔﻧﯽ ﻓﻘﺪ ﺭﺍٔﻱ ﺍﻟﺤﻖ (যে আমাকে দেখল, সে যেন হককেই দেখল) অর্থাৎ তিনি আল্লাহ দেখার আয়না স্বরূপ।’ (আল্লামা হাক্কী, রুহুল বায়ান: ৫/৩১৪)
    নূরে মুহাম্মদীকে সৃষ্টির পর আকৃতি প্রদানের ব্যাপারে আল্লামা ইমাম যারকানী বলেন-
    ﺛﻢ ﺟﺴﻢ ﺻﻮﺭﺗﻪ ﻋﻠﻲ ﺷﻜﻞ ﺍﺧﺺ ﻣﻦ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻨﻮﺭ
    ‘অতঃপর নূরে মুহমাম্মদীকে বিশেষ আকৃতিতে মুজাসসাম (শরীর বিশিষ্ট) করা হয়।’ (ইমাম যারকানী, শারহুল মাওয়াহেব: ১/৯৫)
    আর আহলে সুন্নাতের সকলেই এ ব্যাপারে একমত যে হুযুর পাকের যে সুরাতই হোক, সব ক’টিই নূরের; এমনকি মানব আকৃতিও নূরে মুজাসসাম (নূরের শরীর বিশিষ্ট)।
    হাফিজুল হাদীস ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী বর্ণনা করেন-
    ﺍﺧﺮﺝ ﺍﻟﺤﻜﻴﻢ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ ﻋﻦ ﺫﻛﻮﺍﻥ ﺍﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻳﺮﻯ ﻟﻪ ﻇﻞ ﻓﻰ ﺷﻤﺲ ﻭﻻﻗﻤﺮ ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﺳﺒﻊ : ﻣﻦ ﺧﺼﺎﺋﺼﻪ ﺍﻥ ﻇﻠﻪ ﻛﺎﻥ ﻻ ﻳﻘﻊ ﻋﻠﻰ ﺍﻻﺭﺽ ﻭﺍﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻧﻮﺭﺍ ﻓﻜﺎﻥ ﺍﺫﺍ ﻣﺸﻰ ﻓﻰ ﺍﻟﺸﻤﺲ ﺍﻭ ﺍﻟﻘﻤﺮ ﻻ ﻳﻨﻈﺮ ﻟﻪ ﻇﻞ - ﻗﺎﻝ ﺑﻌﻀﻬﻢ : ﻭﻳﺸﻬﺪ ﻟﻪ ﺣﺪﻳﺚ ﻗﻮﻟﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻓﻰ ﺩﻋﺎﺋﻪ - ﻭﺍﺟﻌﻠﻰ ﻧﻮﺭﺍ -
    ‘হাকিম তিরমিযী হযরত যাকওয়ান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম হতে বর্ণনা করেছেন, নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ছায়া না সূর্যের আলোতে দেখা যেত, আর না চন্দ্রের আলোতে। ইবনু সাবা‘ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন- রাসূল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বৈশিষ্ট্য এ যে, নিশ্চয় তাঁর ছায়া জমিনে পতিত হতো না, কেননা তিনি ছিলেন নূর। অতএব, তিনি যখন সূর্যের আলোতে অথবা চন্দ্রের আলোতে চলতেন, তখন তাঁর ছায়া দেখা যেত না। কেউ কেউ বলেন, রাসূল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার ছায়া না থাকার বিষয়টি ঐ হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত, যা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দু‘আয় বলেছেন- হে আল্লাহ! আমাকে নূর করে দাও।’ (ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী, আল-খাসায়েসুল কুবরা: ১/১১৬)
    ইমাম যারকানী বলেন-
    ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻇﻞ ﻓﻰ ﺷﻤﺲ ﻭﻻﻗﻤﺮ ﻻﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻧﻮﺭﺍ
    ‘সূর্য চন্দ্রের আলোতে নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দেহ মুবারকের ছায়া পড়ত না। কেননা তিনি ছিলেন অপাদমস্তক নূর।’ (ইমাম যারকানী, শারহুল মাওয়াহেব: ৪/২২০)
    অনুরূপ বর্ণনা ইমাম কাদ্বী আয়াদ্ব তার ‘কিতাবুশ শিফা বি তা‘রীফি হুকুকিল মুস্তফা’য়ও বর্ণনা করেছেন।
    ** জ্ঞাতব্য যে, মানুষের সৃষ্টিগত ধাতু বা মাদ্দা সৃষ্টি হয় তাদের বাবা-মা’র মধ্যে। তাদের বাবা-মা যখন অপ্রাপ্ত বয়স্ক থাকেন তখনও এই মূল উপাদান তাদের মধ্যে থাকেনা বরং প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর তা তৈরি হয়। আর দাদা থেকে পূর্ব পুরুষদের মধ্যে কোন কালেই নিম্ন পুরুষদের সৃষ্টি মাদ্দা বা ধাতু থাকে না এবং স্থানান্তরিতও হয় না। তাদের মাদ্দা যখন পিতা হতে মায়ের গর্ভে যায় তখন এতে একটি আকৃতি প্রদান করা হয় এবং তাতে কিছুদিন পর রূহ্ দেওয়া হয়। আর মানুষের মাদ্দা মা-বাবার মিলিত মনি বা বীর্য। যেমন, ইরশাদ হয়েছে-
    ﻓَﻠْﻴَﻨﻈُﺮِ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥُ ﻣِﻢَّ ﺧُﻠِﻖَ ﺧُﻠِﻖَ ﻣِﻦ ﻣَّﺎﺀ ﺩَﺍﻓِﻖٍ ﻳَﺨْﺮُﺝُ ﻣِﻦ ﺑَﻴْﻦِ ﺍﻟﺼُّﻠْﺐِ ﻭَﺍﻟﺘَّﺮَﺍﺋِﺐِ
    ‘মানুষের দেখা উচিত কি বস্তু থেকে সে সৃজিত হয়েছে। সে সৃষ্টি হয়েছে সবেগে সংখলিত পানি থেকে। এটা নির্গত হয় মেরুদন্ড ও বক্ষ পাজরের মধ্যে থেকে।’ (সূরা তারিক: ৫-৭)
    অনুরূপ আরও ইরশাদ হয়েছে-
    ﻣِﻦْ ﺍَٔﻱِّ ﺷَﻲْﺀٍ ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻣِﻦْ ﻧُﻄْﻔَﺔٍ ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻓَﻘَﺪَّﺭَﻩُ
    ‘তিনি তাকে কি বস্তু হতে সৃষ্টি করেছেন? শুক্র থেকে তাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর সুপরিমিত করেছেন।’ (সূরা আবাছা: ১৮-১৯)
    অনুরূপ অন্য আয়াতে এসেছে-
    ﻓَﺈِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ ﻣِﻦْ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﻣِﻦْ ﻧُﻄْﻔَﺔٍ
    ‘আর আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি মাটি হতে অতঃপর বীর্য হতে।’ (সূরা হাজ্জ্ব: ৫)
    কিন্তু হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সৃষ্টি তথ্য সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম এবং স্বতন্ত্র। কেননা তিনি না মাটি হতে, না বীর্য হতে, বরং তাঁর মাদ্দা হল নূর যা প্রথমে আদম আলাইহিস সালামের মাঝে আমানত রাখা হয়েছিল। অতঃপর তাঁর থেকেই স্থানান্তর হতে হতে শেষ পর্যন্ত মা আমেনার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। সুতরাং তিনি আদম আলাইহিস সালামের মাঝে স্থাপন করার পূর্বেও বিদ্যমান ছিলেন- কখনও তারকার আকৃতিতে, কখনও বা ময়ূরের আকৃতিতে, কখনও অন্যকোন আকৃতিতে; এমনকি সর্ব প্রথম সৃষ্টি হয়েই তিনি সেজদা করে মাথা উত্তোলন করেছিলেন। অবশেষে বাবা আব্দুল্লাহ এবং মা আমেনার মাধ্যম হয়ে মানব আকৃতিতে মানবীয় পূর্ণ গুণাবলীসহ আগমন করেন। তাঁর মাদ্দাও পিতা-মাতার মনি ছিলনা, ছিল নূর তা-ই পূর্বোক্ত সকল বর্ণনা হতে প্রমাণিত হয়।
    *** এখন উপর্যুক্ত সকল আলোচনা হতে যে বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়, তা হলো-
    ১. হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ই হলেন আল্লাহ তা‘আলার সর্বপ্রথম সৃষ্টি। এমনকি ফেরেশতা জিব্রাঈল ও মানব জাতীর প্রথম মানব হযরত আদম আলাইহিস সালাম এরও অনেক পূর্বে নবীজীর সৃষ্টি।
    ২. হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিঃসন্দেহে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এর যাতী নূর থেকে সৃষ্টি। আর ‘যাতী নূর’ বলার দ্বারা আল্লাহর যাতের অংশ বা আইনে যাত কিংবা টুকরা হওয়াও আবশ্যক হয় না। (আ‘লা হযরত, সালাতুস সফা ফী নূরিল মুস্তফা)
    ৩. নূরে মুহাম্মদী সৃষ্টি হয়েই বিশেষ আকৃতি নিয়ে সিজদা করেছেন এবং সিজদা হতেই মাথা উত্তোলন করে ‘আল-হামদু লিল্লাহ’ বলেছেন। আর সে নূরের নামই আল্লাহ ‘মুহাম্মদ’ রেখেছেন।
    ৪. অতঃপর সে নূর কখনো ময়ূর আকৃতিতে, কখনো তারকার আকৃতিতে ছিলেন, আবার তা কখনো ফেরেশতার রূপেও ছিলেন এবং সর্বশেষ সে নূরই মানব আকৃতিতে এ পৃথিবীতে আগমন করেছেন। আর কুরআনের আয়াত ﻗﻞ ﺍﻧﻤﺎ ﺍﻧﺎ ﺑﺸﺮﻣﺜﻠﻜﻢ (বলুন, আমি তোমাদের মত মানুষ) এর অর্থও তাই যেমনটি রুহুল বায়ানে বলা হয়েছে।
    ৫. কুরআন প্রমান করে মানবজাতী সৃষ্টির মাদ্দাহ বা ধাতু পিতা-মাতার মিলিত মনী এবং তা পিতা-মাতার শরীরেই তৈরী হয়, পূর্বে এর অস্তিত্ব থাকেনা এবং পূর্ব পুরুষ হতেও স্থানান্তরিত হয়ে আসেনা।
    ৬. আর হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সৃষ্টির মাদ্দাহ বা উপাদান হল নূর। সে নূর আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করতঃ তাঁর মধ্যে আমানত রাখা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তা পবিত্র নসলে স্থানান্তরিত হয়ে সর্বশেষ মানব রূপে পৃথীবিতে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
    এখন, কুরআন প্রমান করে মানব জাতী (জিনসে বাশার) সৃষ্টির ধাতু হলো পিতা মাতার মিলিত বীর্য এবং তা পিতা মাতার শরীরেই অনস্তিত্ব (ﻋﺪﻡ ) থেকে অস্তিত্বে (ﻭﺟﻮﺩ ) আসে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রকৃত যাত বা সত্ত্বাও যদি মূলতঃ ‘জাতীতে মানুষ তথা জিনসে বাশার’ হয় তাহলে কুরআন অনুযায়ী নবীজীর সৃষ্টির ধাতুও পিতা-মাতার মিশ্রিত নাপাক মনী ধরতে হবে এবং তাঁর ‘হযরত আদম থেকে মা আমেনা পর্যন্ত স্থানান্তর হওয়া’কে অস্বীকার করতে হবে। (নাউযুবিল্লাহ!) আর এখানে ঈসা আলাইহিস সালাম এর সৃষ্টির স্বতন্ত্র বিষয়টিকে এক্ষেত্রে কিয়াস করার অবকাশ নাই এজন্য যে, তাঁর পবিত্র শরীরও সৃষ্টি হয়েছে মা মরিয়মের গর্ভেই জিব্রাইলের ফুৎকারের মাধ্যমে, পূর্ব পুরুষ হতে স্থানান্তর বা প্রত্যাবর্তন হয়ে আসেনি। এটি আল্লাহ তা‘আলার বিশেষ এক কুদরতের প্রমান এবং বিশেষ কিছু বিরোদ্ধবাদীদেরকে আল্লাহ প্রদত্ত জবাব মাত্র।
    অতএব একথা নির্দিধায় মানতে হবে যে, নবীজীর হাকীকত বা প্রকৃত সত্ত্বা মানব জাতীর অর্ন্তভূক্ত নয় তথা হাকীকতে মুহাম্মদী ‘জাতীতে মানুষ (জিনসে বাশার)’ নন। তাঁর প্রকৃত সত্ত্বা কি, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না । যেমন নবীজী হযরত আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে লক্ষ্য করে ইরশাদ করেন-
    ﻳﺎ ﺍﺑﺎ ﺑﻜﺮ ﻭﺍﻟﺬﻱ ﺑﻌﺜﻨﻲ ﺑﺎﻟﺤﻖ ﻟﻢ ﻳﻌﻠﻤﻨﻲ ﺣﻘﻴﻘﺔ ﻏﻴﺮ ﺭﺑﻲ
    ‘হে আবু বকর, ঐ সত্ত্বার কসম! যিনি আমাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমার হাকীকত (আমার প্রকৃত জাত-ﺟﻨﺲ এবং সত্ত্বা- ﺫﺍﺕ) আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। (ইমাম ফাসী, মাতালিউল মাসরাত: ১২৯; আল্লামা ইউসূফ নাবহানী, জাওয়াহিরুল বিহার: ২/১৫; শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দেছে দেহলভী, শারহু ফাতহিল গায়ব: ১/৩৪০, আ‘লা হযরত, সালাতুস সফা ফী নূরিল মুস্তফা: ৯)
    যেখানে নবীজীর প্রকৃত সত্ত্বা সর্ম্পকে হযরত আবু বকরকে নবীজী বলেন যে- আল্লাহ ছাড়া কেহ জানেন না, সেখানে আমরা কে যে- নবীজীর হাকীকী জিনস বা জাত কে মানুষ বলতে পারব?
    চতুর্দশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ আ‘লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান বলেন-
    ﻋﺎﻟﻢ ﻣﯿﮟ ﺫﺍﺕ ﺭﺳﻮﻝ ﮐﻮ ﺗﻮ ﮐﻮﺋﻰ ﭘﮩﭽﺎﻧﺘﺎ ﻧﮩﯿﮟ
    ‘সৃষ্টিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার সত্ত্বা বা যাতকে তো কেউই চিনে না।’ (আ‘লা হযরত, সালাতুস সফা ফী নূরিল মুস্তফা)

  • আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন- ﻟﻘﺪ ﺟﺎﺀ ﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻧﻔﺴﻜﻢ অর্থাৎ নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট আগমন করেছেন তোমাদের মধ্যে থেকেই সম্মানিত একজন রাসূল। (সূরা তাওবা: ১২৮)
    এ আয়াতে ﻣﻦ ﺍﻧﻔﺴﻜﻢ (তোমাদের মধ্যে থেকে) এর ব্যাখ্যায় আল্লামা মাহমুদ আলুসী বাগদাদী তদ্বীয় তাফসীর গ্রন্থ ‘রুহুল মা‘আনী’তে দু’টি মত রেওয়ায়াত করেছেন। প্রথমত, যদি ﻟﻘﺪ ﺟﺎﺀ ﻛﻢ (তোমাদের মধ্যে এসেছেন) এর দ্বারা আরববাসীকে উদ্দেশ্য করা হয়, তবে এর অর্থ ﻣﻦ ﺟﻨﺴﻜﻢ ﻭﻣﻦ ﻧﺴﺒﻜﻢ ﻋﺮﺑﻲ ﻣﺜﻠﻜﻢ (তোমাদের জাতী হতে তোমরা যেমন আরব বংশের তোমাদের মতো আরব হতে নবীজী এসেছেন)। দ্বিতীয়ত, যদি ﻟﻘﺪ ﺟﺎﺀ ﻛﻢ এর উদ্দেশ্য সাধারনভাবে সকল মানব জাতী হয়, তবে এর অর্থ হবে ﺍﻧﻪ ﻣﻦ ﺟﻨﺲ ﺍﻟﺒﺸﺮ (নিশ্চয়ই তিনি মানব জাতী হতে)। প্রথম মতটি ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত এবং দ্বিতীয় মতটির সনদ নেই ﻗﻴﻞ (কথিত আছে) শব্দ দ্বারা বর্ণিত।
    আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী বর্ণনা করেন-
    ﻟﻘﺪ ﺟﺎﺀ ﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻧﻔﺴﻜﻢ ‏( ﻣﻦ ﺍﻧﻔﺴﻜﻢ ‏) ﺍﻯ ﻣﻦ ﺟﻨﺴﻜﻢ ﺍﺩﻣﻰ ﻣﺜﻠﻜﻢ ﻻ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﻭﻻ ﻣﻦ ﻏﻴﺮﻫﻢ
    ‘নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য থেকে একজন সম্মানিত রাসূল আগমন করেছেন। ﻣﻦ ﺍﻧﻔﺴﻜﻢ (তোমাদের মধ্য থেকে) অর্থ- ﻣﻦ ﺟﻨﺴﻜﻢ তথা তোমাদের জাতী থেকে তোমাদের মত মানব রূপে; না তিনি ফিরিশতাদের থেকে এসেছেন, আর না অন্য কোন জাতী থেকে।’ (আল্লামা হাক্কী, রুহুল বায়ান: ৩/৫৪২)
    আল্লামা মুল্লা আলী ক্বারী আলাইহি রাহমাতুল বারী বলেন-
    ﺍﻟﺤﺎﺻﻞ ﺍﻥ ﻣﺠﺊ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ ﻧﻌﻤﺔ ﺟﺴﻴﻤﺔ ﻭﻛﻮﻧﻪ ﻣﻦ ﺟﻨﺲ ﺍﻟﺒﺸﺮ ﻣﻨﺤﺔ ﻋﻈﻴﻤﺔ ﻭﻗﺎﻝ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﻗﻮﻟﻪ ﻣﻦ ﺍﻧﻔﺴﻜﻢ ﺍﻯ ﺟﻨﺲ ﺍﻟﻌﺮﺏ ﻭﻫﻮ ﻻ ﻳﻨﺎﻓﻰ ﻣﺎ ﺳﺒﻖ
    ‘সারকথা, নিশ্চয় রাসূল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শুভাগমন এক মহান নিয়ামত বা বড় অনুগ্রহ এবং তিনি মানব জাতীতে আগমন করাটা মানব জাতীর জন্য এক মহান দান। কেউ বলেন, আল্লাহর বাণী- ﻣﻦ ﺍﻧﻔﺴﻜﻢ (তোমাদের মধ্য থেকে) অর্থ হল, আরব জাতী থেকে। এটিও পূর্বোক্ত বর্ণনার (মানব জাতী থেকে) বিপরীত নয়।’ (আল্লামা মুল্লা আলী ক্বারী, আল মাওরিদুর রাভী ফি মাওলিদিন নাবভী: ৫৭)
    ** (নোট: বিভিন্ন পুস্তিকা ও লিখায় বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়েছে যে, উল্লেখিত ইবারতে ﻭﻛﻮﻧﻪ ﻣﻦ ﺟﻨﺲ ﺍﻟﺒﺸﺮ ﻣﻨﺤﺔ ﻋﻈﻴﻤﺔ এর অর্থ- ‘তিনি হচ্ছেনﺟﻨﺲ ﺍﻟﺒﺸﺮ বা জাতীতে মানব’ করা হয়েছে। অথচ এর অর্থ হবে- ‘তিনি মানব জাতীতে আগমন করাটা মানব জাতীর জন্য এক মহান দান’। যার ফলে ইবারতের মূল উদ্দেশ্য ব্যহত হয়েছে। অনুরূপ আরো অনেক স্থানে ﻣﻦ ﺟﻨﺲ ﺍﻟﺒﺸﺮ (মানব জাতী হতে) এর ﻣﻦ হরফ (অব্যয়)-এর অর্থ ছেড়ে দিয়ে শুধু ﺟﻨﺲ ﺍﻟﺒﺸﺮ এর অর্থ করা হয়েছে। ফারসী ইবারতেও ﺍﺯ অব্যয়টির অর্থ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এতেও ইবারতের মূল উদ্দেশ্য অস্পষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি জরুরীভাবে লক্ষ্যনীয়।)
    সূরা আলে ইমরানের ১৬৪ নং আয়াতে কারীমা- ﻟﻘﺪ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ﺍﺫ ﺑﻌﺚ ﻓﻴﻬﻢ ﺭﺳﻮﻻ ﻣﻦ ﺍﻧﻔﺴﻬﻢ (মুমিনগণের উপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন যে, তাঁদের মাঝে তাঁদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল প্রেরন করেছেন)– এর ব্যাখ্যায় আল্লামা মাহমুদ আলুসী বাগদাদী বলেন-
    ( ﺭﺳﻮﻻ ‏) ﻋﻈﻴﻢ ﺍﻟﻘﺪﺭ ﺟﻠﻴﻞ ﺍﻟﺸﺎﻥ ‏( ﻣﻦ ﺍﻧﻔﺴﻬﻢ ‏) ﺍﻯ ﻣﻦ ﻧﺴﺒﻬﻢ ﺍﻭ ﻣﻦ ﺟﻨﺴﻬﻢ ﻋﺮﺑﻴﺎ ﻣﺜﻠﻬﻢ ﺍﻭ ﻣﻦ ﺑﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻻﻣﻠﻜﺎ ﻭﻻ ﺟﻨﻴﺎ ﺍﻟﺦ
    ‘ ﺭﺳﻮﻻ তথা অতি সম্মানিত ও মহান শানের অধিকারী রাসূল (প্রেরিত হয়েছেন) তাঁদের মধ্য থেকে তথা তাঁদের নসব বা বংশ থেকে অথবা তাঁদের জাতী থেকে তাঁদের মতই আরবীয়দের থেকে কিংবা বনী আদম থেকে, না ফেরেশতাদের থেকে আর না জিনদের থেকে।’ (আল্লামা আলুসী, রুহুল মা‘আনী: ২/১১২)
    অনুরূপ সূরা ইউনুসে এসেছে-
    ﺍَٔﻛَﺎﻥَ ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ ﻋَﺠَﺒًﺎ ﺍَٔﻥْ ﺍَٔﻭْﺣَﻴْﻨَﺎ ﺇِﻟَﻰٰ ﺭَﺟُﻞٍ ﻣِﻨْﻬُﻢْ
    ‘মানুষের জন্য এটা আশ্চর্য নয় যে, আমি তাঁদেরই মধ্য থেকে একজন পুরুষকে ওহী প্রেরণ করেছি তথা নবী হিসেবে মনোনীত করেছি।’ (সূরা ইউনুস: ২)
    অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে-
    ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻳَﺼْﻄَﻔِﻲ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔِ ﺭُﺳُﻠًﺎ ﻭَﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ
    ‘আল্লাহ মনোনীত করে নেন রাসূলগণকে ফেরেশতাদের থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকেও।’ (সূরা হাজ্জ্ব: ৭৫)
    হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলভী ﺍﻻ ﻣﻦ ﺍﺭﺗﻀﻰ ﻣﻦ ﺭﺳﻮﻝ -এ আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করেন-
    ﯾﻌﻨﯽ ﻣﮕﺮ ﮐﺴﮯ ﮐﮧ ﭘﺴﻨﺪ ﻣﯿﮑﻨﺪ ﻭﺁﮞ ﮐﺲ ﺭﺳﻮﻝ ﻣﯿﺒﺎ ﺷﺪ ﺧﻮﺍﮦ ﺍﺯﺟﻨﺲ ﻣﻠﮏ ﺑﺎﺷﺪ ﻣﺜﻞ ﺣﻀﺮﺕ ﺟﺒﺮﯾﻞ ﻋﻠﯿﮧ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﺧﻮﺍﮦ ﺍﺯﺟﻨﺲ ﺑﺸﺮ ﻣﺜﻞ ﺣﻀﺮﺕ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﯽ ﺍﻟﻠﮧ ﻋﻠﯿﮧ ﻭﺳﻠﻢ
    ‘তবে হ্যাঁ, যাদেরকে আল্লাহর পছন্দ সে রাসূলদের নিকট ‘গায়ব’ প্রকাশ করেন। চাই সে রাসূল ফেরেশতা জাতী থেকে হোক, যেমন হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম অথবা মানব জাতী থেকে, যেমন হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। (শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলভী, তাফসীরে আযীযী: ২১৪)
    হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-
    ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﻗﺎﻟﺖ ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﺨﺼﻒ ﻧﻌﻠﻪ ﻭﻳﺨﻴﻂ ﺛﻮﺑﻪ ﻭﻳﻌﻤﻞ ﻓﻰ ﺑﻴﺘﻪ ﻛﻤﺎ ﻳﻌﻤﻞ ﺍﺣﺪﻛﻢ ﻓﻰ ﺑﻴﺘﻪ ﻭﻗﺎﻟﺖ ﻛﺎﻥ ﺑﺸﺮﺍ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﺸﺮ ﻳﻐﻠﻰ ﺛﻮﺑﻪ ﻭﻳﺤﻠﺐ ﺷﺎﺗﻪ ﻭﻳﺨﺪﻡ ﻧﻔﺴﻪ ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ
    ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্ল¬াম নিজেই জুতা মুবারকের ফিতা লাগাতেন, নিজের কাপড় সেলাই করতেন, নিজ গৃহের কাজ নিজেই সম্পন্ন করতেন। যেমন তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ করে থাকে। তিনি আরো বলেন- তিনি মানব জাতীর মধ্য থেকে একজন মানব হিসেবেই ছিলেন। নিজ কাপড় পরিচ্ছন্ন রাখতেন, নিজ হাতে দুধ দোহন করতেন, নিজে নিজের কাজ আঞ্জাম দিতেন।’ (ইমাম তিরমিযী, আস-সুনান; খতীব তিবরিযী, মিশকাতুল মাসাবীহ: ৫২০)
    এ সকল বর্ণনার দ্বারা মূলতঃ নবীজীর ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে এবং নবীগণ যে উত্তম বংশে আসেন, তাঁদের নসব যে উচ্চ বংশের হয়ে থাকে তা স্পষ্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ নবী পাক যাদের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়ে পৃথিবীতে মানবরূপে আগমন করেছেন তাঁদের সকলেই ছিলেন উচ্চ বংশীয়, আর এ বর্ণনাসমূহে এটিই আলোকপাত করা হয়েছে। যেমন ইমাম বুখারী তাঁর ‘আস-সহীহ’ গ্রন্থের প্রথম খন্ডের শুরুতে বর্ণনা করেন- “রোম সম্রাট হীরাকলের নিকট হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুমহান ফরমান- ﺃﺳﻠﻢ ﺗﺴﻠﻢ (ইসলাম গ্রহন করুন, শান্তিতে থাকবেন) পৌঁছার পর তিনি আবু সুফিয়ানকে ডেকে হুযুর পাক সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করলেন। এর মধ্যে প্রথম প্রশ্নটিই ছিল- ﻛﻴﻒ ﻧﺴﺒﻪ ﻓﻴﻜﻢ (আপনাদের মধ্যে তাঁর নসব তথা বংশ মর্যাদা কেমন ?)। কারণ এটা স্বতঃসিদ্ধ যে, নবীগণ উচ্চ বংশেই আগমন করেন। আর এখানে এ বিষয়টিকেই তুলে ধরা হয়েছে।
    রুহুল মা‘আনীতে ﻟﻘﺪ ﺟﺎﺀ ﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻧﻔﺴﻜﻢ এ আয়াতের তাফসীরে এটাও বলা হয়েছে, ﻭﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺍﻟﺸﺮﻑ ﻓﻬﻮ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﻦ ﺍﺷﺮﻑ ﺍﻟﻌﺮﺏ (এ ﺍﻧﻔﺴﻜﻢ এর উদ্দেশ্য হলো উচ্চ মর্যাদা, অতএব তিনি আরবদের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানিত)। এর পরই ইমাম তিরমিযী এবং নাসাঈ থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে, যাতে নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই নিজের নসব নামা বর্ণনা করেছেন। অতএব এখানে এ আয়াতসমূহ বা তাফসীর দ্বারা একথা বলা যাবে না যে, নবীজীর প্রকৃত সত্ত্বা বা হাকীকতে মুহাম্মদী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জাতীতে মানব (জিনসে বাশার)।
    তদুপরি আয়াতে ﻟﻘﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ (তোমাদের নিকট আগমন করেছেন) শব্দটি এসেছে, ﻟﻘﺪ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ (তোমাদের মাঝে আমি সৃষ্টি করেছি) বলা হয়নি। কারণ তাঁর সৃষ্টিতো মানব জাতী সৃষ্টিরও সহস্রগুণ পূর্বে। আর নবী পাকের ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে এবং বিভিন্ন ইবারতে যেমনি ﻣﻦ ﺍﻧﻔﺴﻜﻢ (তোমাদের মধ্য থেকে), ﻣﻦ ﺟﻨﺲ ﺍﻟﺒﺸﺮ (মানব জাতী থেকে), ﻣﻦ ﺟﻨﺲ ﺍﻟﻌﺮﺏ (আরব জাতী থেকে), ﻣﻦ ﺍﻟﺒﺸﺮ (মানব থেকে), ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺱ (মানুষ থেকে), ফারসীতে ﺍﺯ ﺟﻨﺲ ﺑﺸﺮ (মানব জাতী থেকে) প্রভৃতি শব্দাবলী ব্যবহার হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ (আল্লাহ হতে)-ও বলা হয়েছে। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন-
    ﻗﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭ ﻭﻛﺘﺎﺏ ﻣﺒﻴﻦ
    অর্থাৎ, তোমাদের নিকট ‘আল্লাহ হতে’ নূর এসেছে এবং স্পষ্ট কিতাব। (সূরা মায়েদা: ১৫)
    এ ব্যাপারে সকল মুফাসসিরগণ একমত যে, আয়াতে ‘নূর’ দ্বারা হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেই বুঝানো হয়েছে। আর ‘নূর’ এবং ‘কিতাব’ দ্বারা যে একই জিনিস বুঝানো হয়নি তাও ইমাম রাযী তাঁর ‘তাফসীরে কাবীর’ এ স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
    হাদীস শরীফে ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ (আল্লাহর নূর হতে) বলা হয়েছে, যেমনটি পূর্বোল্লেখিত উদৃতিসমূহে আলোকপাত করা হয়েছে। আবার ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ ﺍﻱ ﻫﻮ ﺫﺍﺗﻪ (আল্লাহর যাতী নূর হতে) শব্দটিও ব্যবহার হয়েছে, যেমন শারহুল মাওয়াহেব থেকে পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে। কাজেই ﻣﻦ ﺍﻧﻔﺴﻜﻢ (তোমাদের মধ্য থেকে), ﻣﻦ ﺟﻨﺲ ﺍﻟﺒﺸﺮ (মানব জাতী থেকে), ﻣﻦ ﺍﻟﺒﺸﺮ (মানব থেকে), ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺱ (মানুষ থেকে) প্রভৃতি শব্দাবলী দ্বারা যদি নবীজীকে ‘জাতীতে মানুষ’ বুঝায়, তাহলে ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ (আল্লাহ হতে), ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ (আল্লাহর নূর হতে), ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ ﺍﻱ ﻫﻮ ﺫﺍﺗﻪ (আল্লাহর যাতী নূর হতে) প্রভৃতি শব্দাবলী দ্বারা কেন নবীজীকে ‘জাতীতে আল্লাহ’ বুঝাবে না? (নাউযু বিল্লাহ!) সুতরাং ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ (আল্লাহ হতে), ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ (আল্লাহর নূর হতে), ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ ﺍﻱ ﻫﻮ ﺫﺍﺗﻪ (আল্লাহর যাতী নূর হতে) প্রভৃতি শব্দাবলী দ্বারা যেমনি নবীজীকে ‘জাতীতে আল্লাহ’ বুঝায় না, ঠিক তেমনি-ই ﻣﻦ ﺍﻧﻔﺴﻜﻢ (তোমাদের মধ্য থেকে), ﻣﻦ ﺟﻨﺲ ﺍﻟﺒﺸﺮ (মানব জাতী থেকে), ﻣﻦ ﺍﻟﺒﺸﺮ (মানব থেকে), ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺱ (মানুষ থেকে) প্রভৃতি শব্দাবলী দ্বারাও নবীজীকে মূলতঃ ‘জাতীতে মানব’ বুঝায় না।
    অনুরূপ, ﺑﺸﺮ ﻣﺜﻠﻜﻢ (তোমাদের মত মানুষ), ﺍﮐﻤﻞ ﺑﺸﺮ (মানবের পূর্ণতা), ﺍﻓﻀﻞ ﺍﻟﻨﻮﻉ ﺍﻻﻧﺴﺎﻥ - ﻛﻤﺎ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻔﺨﺮ ﺍﻟﺮﺍﺯﻯ (মানব জাতীর শ্রেষ্ঠতম) এবং ﺳﻴﺪ ﻭﻟﺪ ﺍﺩﻡ ﻛﻤﺎ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ (আদম সন্তানের সায়্যিদ) প্রভৃতি শব্দাবলী দ্বারাও নবীজীকে মূলতঃ ‘মানুষ’ বা ‘জাতীতে মানব’ বুঝায় না। যেমন, হযরত জিব্রাইলকে পবিত্র কুরআনে- ﻓَﺘَﻤَﺜَّﻞَ ﻟَﻬَﺎ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﺳَﻮِﻳًّﺎ (একজন পরিপূর্ণ বা সুঠাম মানুষের মত-সূরা মরিয়ম: ১৭) বলা হয়েছে। এর দ্বারা হযরত জিব্রাইল ‘জাতীতে মানব’ হয়ে যায়নি।
    স্বয়ং হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
    ﻣﻦ ﺭﺍﻧﻲ ﻓﻘﺪ ﺭﺍﻱ ﺍﻟﺤﻖ
    ‘যে আমাকে দেখল, সে হককে তথা আল্লাহকেই দেখল।’
    ইমাম ওয়াসেতী বলেন-
    ﺃﻥ ﺍﻟﺒﺸﺮﻳﺔ ﻓﻲ ﻧﺒﻴﻪ ﻋﺎﺭﻳﺔ ﻭﺍﺿﺎﻓﺔ ﻻﺣﻘﻴﻘﺔ ﻳﻌﻨﻲ ﻓﻈﺎﻫﺮﻩ ﻣﺨﻠﻮﻕ ﻭﺑﺎﻃﻨﻪ ﺣﻖ
    ‘নিশ্চয় আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাশারিয়াত বা মানবত্ব ক্ষণস্থায়ী এবং তা (পোষাক স্বরূপ) সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এটা (বাশারিয়াত) তাঁর মূল নয়। অর্থাৎ বাহ্যত তিনি মাখলুক, আর বাতেনে তিনি হক তথা আল্লাহর তাজাল্লিয়াতের আয়না স্বরূপ।’ (আল্লামা হাক্কী, রুহুল বায়ান: ৯/২১)
    যদি ﺑﺸﺮ (বাশার) বা ﺍﻧﺴﺎﻥ (ইনসান) প্রভৃতি শব্দাবলী দ্বারা নবীজীকে ‘জাতীতে মানুষ’ বলে সাব্যস্ত করা হয়, তাহলে উল্লেখিত ইবারত দু’টি দ্বারা কেন নবীজীকে ‘জাতীতে আল্লাহ’ বলে সাব্যস্ত করা হবে না? (নাউযু বিল্লাহ!)
    উদৃত ইবারতসমূহে নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ই ‘হক’ এর দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে? এ ব্যাপারে আল্লামা ইসমাইল হাক্কী বলেন-
    ﺍﻟﺤﺎﺻﻞ ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺟﻌﻞ ﻧﺒﻴﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﻈﻬﺮﺍ ﻟﻜﻤﺎﻻﺗﻪ ﻭﻣﺮﺃﺓ ﻟﺘﺠﻠﻴﺎﺗﻪ ﻭﻟﺬﺍ ﻗﺎﻝ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻣﻦ ﺭﺍﻧﻲ ﻓﻘﺪ ﺭﺍﻱ ﺍﻟﺤﻖ
    ‘সারকথা হল, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বীয় কামালতের প্রকাশস্থল এবং তাঁর তাজাল্লিয়াতের আয়না করেছেন। আর এ জন্যই নবীজী ইরশাদ করেন- যে আমাকে দেখল, সে হক বা আল্লাহকেই দেখল।’ (আল্লামা হাক্কী, রুহুল বায়ান: ৯/২১)
    এখানে ‘হক’ বলতে আল্লাহর কামালতের প্রকাশস্থল এবং তাঁর তাজাল্লিয়াতের আয়না উদ্দেশ্য।
    তদ্রুপ, ﺑﺸﺮ ﻣﺜﻠﻜﻢ (তোমাদের মত মানুষ) দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে? এ ব্যাপারেও আল্লামা ইসমাইল হাক্কী বলেন-
    ﺃﺩﻣﻰ ﻣﺜﻠﻜﻢ ﻓﻰ ﺍﻟﺼﻮﺭﺓ ﻭﻣﺴﺎﻭﻳﻜﻢ ﻓﻰ ﺑﻌﺾ ﺍﻟﺼﻔﺎﺕ ﺍﻟﺒﺸﺮﻳﺔ
    ‘আকৃতিতে তোমাদের মত মানুষ আর কতেক মানবীয় বৈশিষ্ট্যে তোমাদের সমান।’ (আল্লামা হাক্কী, রুহুল বায়ান: ৫/৩৫৩)
    এখানে ‘ ﺑﺸﺮ (মানুষ)’ বলতে আকৃতিতে মানুষ উদ্দেশ্য, জাতীতে মানব নয়। অর্থাৎ তিনি কখনো সুরতে মালাকীতে ছিলেন, কখনো ময়ুর রূপে, কখনো তারকা রূপে ছিলেন। তদ্রূপ তিনি একসময় মানব জাতীর (জিনসে বাশার) মধ্য থেকে মানব সুরতে এসেছেন। তবে তাঁর জাত (জিনস) না তারকা, না ময়ূর, না ফেরেশতা, আর না মানব। ফেরেশতা সুরতে থাকার কারনে যেমনি তিনি জাতীতে ফেরেশতা নন, ময়ুর রূপে থাকার কারণে যেমনি তিনি জাতীতে ময়ুর নন, তারকার আকৃতিতে থাকার কারণে যেমনি তিনি জাতীতে তারকা নন, ঠিক তেমনি মানব জাতীর মধ্য থেকে মানব আকৃতিতে আসার কারণেও তিনি জাতীতে মানব নন। তাঁর জাত বা প্রকৃত সত্ত্বা কি আল্লাহই ভাল জানেন, যেমনটি রাসূল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আবু বকর সিদ্দিককে লক্ষ্য করে বলেছিলেন। আল্লামা ইমাম যারকানীও বলেন-
    ﻭﺍﻟﺒﺎﻃﻦ ﺣﻘﻴﻘﺔ ﺫﺍﺗﻪ ﻓﻼ ﻳﻌﺮﻑ ﺃﺻﻼ
    ‘আর নবী পাকের যাতের প্রকৃত অবস্থা হল বাতেন, কাজেই মূলতঃ তা জানা যায় না।’ (ইমাম যারকানী, শারহুল মাওয়াহেব: ১/৫৫)
    এ সকল আয়াত বা উদ্ধৃতিসমূহের উদ্দেশ্যও তা-ই।
    আর এ সকল বর্ণনা দ্বারা কাফের মুশরিকদের ঐ আপত্তির জবাব দেয়াও উদ্দেশ্য যে, তারা বলত- রাসূল হিসেবে কেন ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়না কিংবা অনেকে মনে করে মহিলাদের থেকে নবী-রাসূল হবে। সুতরাং এর জবাব দেয়া হয়েছে যে- নবী মানব জাতী থেকেই হয়, ফেরেশতাদের থেকে হয় না। তবে রাসূল মানুষ এবং ফেরেশতাগণের থেকে হতে পারে। আবার কোন মহিলাও নবী বা রাসূল হয় না। (খাযাইনুল ইরফান দ্রষ্টব্য)
    আর এ কথাও স্পষ্ট যে, আমাদের নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশেষে মানব জাতীর মধ্যে আরবীয়দের থেকেই প্রকাশ হয়েছেন, ফেরেশতা কিংবা জিন জাতী থেকে নয়। সুতরাং কেউ যদি নবী পাক মানব জাতীর মধ্য থেকে এবং আরববাসীদের মধ্য থেকে প্রকাশ হওয়াকে অস্বীকার করে তাহলে কুরআন অস্বীকার হবে। তবে এর দ্বারা উদ্দেশ্য এটা নয় যে, নবী পাকের হাকীকী জাত মানুষ বা তিনি জাতীতে মানুষ। বরং মানব জাতী থেকে নবী পাকের আগমনকে মানব জাতী আশরাফুল মাখলুকাত হওয়া এবং এ পৃথিবীতে তাঁকে পাঠানোর একটি মাধ্যম করা হয়েছে মাত্র।
    আল্লামা মাহমুদ আলুসী বলেন-
    ﻭﻗﺪ ﺳﺌﻞ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﻭﻟﻰ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﺍﻟﻌﺮﺍﻗﻰ ﻫﻞ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﺑﻜﻮﻧﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑﺸﺮﺍ ﻭﻣﻦ ﺍﻟﻌﺮﺏ ﺷﺮﻁ ﻓﻰ ﺻﺤﺔ ﺍﻻﻳﻤﺎﻥ ﺍﻭ ﻣﻦ ﻓﺮﻭﺽ ﺍﻟﻜﻔﺎﻳﺔ؟ ﻓﺎﺟﺎﺏ ﺑﺎﻧﻪ ﺷﺮﻁ ﻓﻰ ﺻﺤﺔ ﺍﻻﻳﻤﺎﻥ - ﺛﻢ ﻗﺎﻝ : ﻓﻠﻮ ﻗﺎﻝ ﺷﺨﺺ : ﺍﻭ ﻣﻦ ﺑﺮﺳﺎﻟﺔ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﻰ ﺟﻤﻴﻊ ﺍﻟﺨﻠﻖ ﻟﻜﻦ ﻻ ﺍﺩﺭﻯ ﻫﻞ ﻫﻮ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﺸﺮ ﺍﻭ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﺍﻭ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﻦ ﺍﻭﻻ ﺍﺩﺭﻯ ﻫﻞ ﻫﻮ ﻣﻦ ﺍﻟﻌﺮﺏ ﺍﻭ ﺍﻟﻌﺠﻢ؟ ﻓﻼ ﺷﻚ ﻓﻰ ﻛﻔﺮﻩ ﻟﺘﻜﺬﻳﺒﻪ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ
    অর্থাৎ শায়খ ওয়ালিউদ্দিন ইরাকীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, ‘রাসূল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানব হওয়া এবং আরবদের থেকে হওয়া’ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা কি ঈমান বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত অথবা তা কি ফরযে কিফায়া? তদোত্তরে তিনি বলেন- নিশ্চয় ‘তিনি মানব হওয়া এবং আরবদের থেকে হওয়া’ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা বিশুদ্ধ ঈমানের শর্ত। অতঃপর তিনি বলেন- যদি কোন ব্যক্তি বলে যে, আমি বিশ্বাস করি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রিসালাত সমগ্র সৃষ্টির জন্য। কিন্তু আমি জানি না যে- তাঁর প্রকাশ কি মানবদের থেকে, না ফেরেশতাদের থেকে, না জ্বিনদের থেকে অথবা আমি জানি না তিনি কি আরবীয় না অনারবীয়? ঐ ব্যক্তির কুফরী সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই, কেননা সে কুরআনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। (আল্লামা আলুসী, রুহুল মা‘আনী: ২/১১৩)
    ** (নোট: উল্লেখিত এ ইবারতের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পুস্তিকা ও লিখায় বিষয়টি দেখা যায় অর্থকে বিকৃত করা হয়েছে। এখানেও শুধু ‘মানব হওয়া’ অর্থের পরিবর্তে ‘জাতীতে মানব’ লিখা হয়েছে। আবার নবীজীর প্রকাশ ‘মানবদের থেকে, না ফেরেশতাদের থেকে হয়েছে’ এর অর্থ লিখা হয়েছে ‘মানব জাতী না ফেরেশতা জাতীয়’। যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং মূলভাবকে পরিবর্তন করা।)
    কারন, কুরআনে এসেছে- নবীজী মানব জাতীর মধ্যে এবং আরবে এসেছেন। আবার কুরআনে তাও এসেছে যে, নবীগণ মানবদের থেকেই হয়ে থাকেন। শারহুল আকাঈদ, আরবাইন, বাহারে শরীয়ত কিতাবসমূহে নবীর সংজ্ঞায় এসেছে- “নবী হচ্ছেন সে সব পুরুষ মানুষ, যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা শরীয়তের বিধি-নিষেধ প্রচার করার জন্য পাঠিয়েছেন। অতএব নবী মানুষ ভিন্ন অন্যকেহ নন, আর মহিলাও নন।” (মুফতী আহমাদ ইয়ার খান নঈমী, জা-আল হক, প্রথম খন্ড)
    হাকীমুল উম্মত মুফতী আহমাদ ইয়ার খান নঈমী এ বিষয়টির সুন্দর ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন-
    ﻧﺒﯽ ﺟﻨﺲ ﺑﺸﺮ ﻣﻴﻦ ﺍٓﺗﮯ ﮨﯿﻦ ﺍﻭﺭ ﺍﻧﺴﺎﻥ ﮨﯽ ﮨﻮﺗﮯ ﮨﯿﻦ ﺟﻦ ﻳﺎ ﻓﺮﺷﺘﮧ ﻧﮩﯿﻦ ﮨﻮﺗﮯ ﯾﮧ ﺩﻧﻴﺎﻭﯼ ﺍﺣﻜﺎﻡ ﮨﯿﻦ ﻭﺭﻧﮧ ﺑﺸﺮﯾﺖ ﮐﯽ ﺍﺑﺘﺪﺍﺀ ﺍٓﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺳﮯ ﮨﻮﺗﯽ ﮐﯿﻮﻧﮑﮧ ﻭﮦ ﮨﯽ ﺍﺑﻮ ﺍﻟﺒﺸﺮ ﮨﯿﻦ ﺍﻭﺭ ﺣﻀﻮﺭ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﺍﺱ ﻭﻗﺖ ﻧﺒﯽ ﮨﯿﻦ ﺟﺒﮑﮧ ﺍٓﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺍٓﺏ ﻭﮔﻞ ﻣﯿﻦ ﮨﯿﻦ
    ‘নবী মানব জাতীর মধ্যেই এসে থাকেন এবং মানুষই হন জিন কিংবা ফেরেশতা নন। এটাতো দুনিয়াবী একটি বিধান মাত্র। অন্যথায় মানব জাতীর শুরুই হয়েছে আদম আলাইহিস সালাম থেকে। কেননা তিনি আবুল বাশার (মানব জাতীর পিতা)। আর হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামতো ঐ সময় থেকেই নবী হিসেবে ছিলেন যখন আদম আলাইহিস সালাম মাটি ও পানিতে একাকার ছিলেন।’ (মুফতী আহমাদ ইয়ার খান নঈমী, জা-আল হক, প্রথম খন্ড)
    নবী পাকের সৃষ্টি যে মানব জাতী সৃষ্টিরও অনেক আগে, এমনকি সর্ব প্রথম সৃষ্টিই তিনি এ ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই। এখন তিনি সৃষ্টি হিসেবে সর্বপ্রথম প্রমাণিত, আর নবী হিসেবে কখন থেকে মনোনীত- এ ব্যাপারে হাকীমুল উম্মত মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী এর পূর্বোক্ত বর্ণানাটিই আমাদের জন্য যথেষ্ট তদুপরি নিম্নে হাদীস শরীফ থেকে প্রমাণ পেশ করা হলো।
    হযরত ইবনু আব্বাস ও আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম হতে বর্ণিত রয়েছে, তাঁরা বলেন- ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার জন্য নবুয়্যত কখন অবধারিত হয়েছে? জবাবে নবীজী ইরশাদ করেন-
    ﻛﻨﺖ ﻧﺒﻴﺎ ﻭﺍﺩﻡ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺮﻭﺡ ﻭﺍﻟﺠﺴﺪ
    ‘আমি তখন নবী ছিলাম যখন আদম আলাইহিস সালাম দেহ ও রূহের মধ্যে ছিলেন।’ (ইমাম তিরমিযী, আস-সুনান; ইমাম বুখারী, তারীখুল কাবীর; খতিব তিবরিযী, মিশকাত: ৫১৩, ইমাম সুয়ূতী, খাছায়েছুল কুবরা: ১/৩)
    হযরত আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত, নবীজী ইরশাদ করেন-
    ﻛﻨﺖ ﺍﻭﻝ ﺍﻟﻨﺒﻴﻴﻦ ﻓﻲ ﺍﻟﺨﻠﻖ ﻭﺍﺧﺮﻫﻢ ﻓﻲ ﺍﻟﺒﻌﺚ
    ‘আমি হলাম সৃষ্টিতে নবীদের প্রথম এবং প্রেরণের দিক থেকে নবীদের শেষ।’ (ইমাম দায়লামী, আল-ফিরদাউস: ৩/২৮২; ইমাম সুয়ূতী, খাছায়েছুল কুবরা: ১/৫; ইবনু কাছীর, তাফসীরে ইবনে কাছির: ৩/৪৭০; ইমাম ইবনে আদি, তারীখুল কামেল: ৩/৩৭৩)
    সুতরাং যার সৃষ্টি মানব জাতীর সহস্র-কোটি বছর পূর্বে, যার নবুয়্যত মানব জাতীর সর্ব প্রথম মানব আদম আলাইহিস সালাম এর পূর্বে, তিনি কি করে ‘জাতীতে মানব’ হতে পারেন? শুধু মাত্র মানব জাতীর মধ্য থেকে বহিঃপ্রকাশ ঘটার কারণেই কি করে তাঁকে ‘জাতীতে মানব’ বলা যাবে??
  • edited August 2016
    ** তবে হ্যাঁ, যেহেতু তিনি মানব আকৃতিতে এসেছেন, পূর্ণাঙ্গ মানবীয় গুণে তিনি ভূষিত এবং মানবের পূর্ণতা ( ﺍﮐﻤﻞ ﺑﺸﺮ ), তাই এ দৃষ্টিকোন থেকে তাঁকে মানুষ বা বাশার, মানব জাতীর শ্রেষ্ঠতম (ﺍﻓﻀﻞ ﺍﻟﻨﻮﻉ ﺍﻻﻧﺴﺎﻥ - ﻛﻤﺎ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻔﺨﺮ ﺍﻟﺮﺍﺯﻯ ), এবং আদম সন্তানের সায়্যিদ ( ﺳﻴﺪ ﻭﻟﺪ ﺍﺩﻡ ﻛﻤﺎ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ) বলে মানতে হবে। আল্লামা শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী বলেন-
    ﻭﺍﯾﻦ ﮐﻤﺎﻝ ﺳﺖ ﮐﮧ ﺟﺰ ﺍﮐﻤﻞ ﺑﺸﺮ ﻭﺳﯿﺪ ﺭﺳﻞ ﺭﺍ ﺻﻠﻮﺍﺕ ﺍﻟﻠﮧ ﻭﺳﻼﻣﮧ ﻣﯿﺴﺮ ﻧﯿﺴﺖ
    ‘এটা এমন পরিপূর্ণতা যে, যা মানবের পূর্ণতা ( ﺍﮐﻤﻞ ﺑﺸﺮ ) ও সকল রাসূলের সরদার হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত আর কেউই লাভ করতে পারেনি।’ (আল্লামা শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী, মাদারেজুন নবুয়্যত: ১/২০৪)
    আ‘লা হযরত কিবলা বলেন-
    ﻭﻩ ﺑﺸﺮ ﮨﻴﻦ ﻣﮕﺮ ﻋﺎﻟﻢ ﻋﻠﻮﻯ ﺳﮯ ﻻﻛﮫ ﺩﺭﺟﮧ ﺍﺷﺮﻑ ﻭﺍﺣﺴﻦ ﻭﻩ ﺍﻧﺴﺎﻥ ﮨﻴﻦ ﻣﮕﺮ ﺍﺭﻭﺍﺡ ﻭﻣﻼﺋﻜﮧ ﺳﮯ ﮨﺰﺍﺭ ﺩﺭﺟﮧ ﺍﻟﻄﻒ ﻭﻩ ﺧﻮﺩ ﻓﺮﻣﺎﺗﮯ ﮨﻴﻦ ﻟﺴﺖ ﻣﺜﻠﻜﻢ ﻣﻴﻦ ﺗﻢ ﺟﻴﺴﺎ ﻧﮩﻴﻦ ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺸﻴﺨﺎﻥ ﻭﻳﺮﻭﻱ ﻟﺴﺖ ﻟﻬﻴﺌﺘﻜﻢ ﻣﻴﻦ ﺗﻤﮩﺎﺭﮮ ﮨﻴﺌﺖ ﭘﺮ ﻧﮩﻴﻦ ﻭﻳﺮﻭﻱ ﺍﻳﻜﻢ ﻣﺜﻠﻲ ﺗﻢ ﻣﻴﻦ ﻛﻮﻥ ﻣﺠﮫ ﺟﻴﺴﺎﮨﮯ
    ‘তিনি বাশার কিন্তু আলমে উলভী থেকে লক্ষ্যগুণ শ্রেষ্ঠ এবং সৌন্দর্যমন্ডিত। তিনি মানবীয় দেহ রাখেন কিন্তু রূহসমূহ এবং ফেরেশতাগণ হতে হাজারগুণ সুক্ষ্ম। নবীজী নিজেই ইরশাদ করেন- ﻟﺴﺖ ﻛﻤﺜﻠﻜﻢ (আমি তোমাদের মত নই)। (বুখারী ও মুসলিম) আরো বর্ণিত আছে- ﻟﺴﺖ ﻛﻬﻴﺌﺘﻜﻢ (আমি তোমাদের সত্ত্বার মত নই)। আরো বর্ণিত আছে- ﺍﻳﻜﻢ ﻣﺜﻠﻰ (তোমাদের মধ্যে কে আমার মত?)। (আ‘লা হযরত, নাফিউল ফাই: ১৮)
    আ‘লা হযরত কিবলা আরো বলেন-
    ﺟﻮ ﻣﻄﻠﻘﺎ ﺣﻀﻮﺭ ﺳﮯ ﺑﺸﺮﯾﺖ ﮐﯽ ﻧﻔﯽ ﮐﺮﮮ ﻭﮦ ﮐﺎﻓﺮ ﮨﮯ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻠﮧ ﺗﻌﺎﻟﻲ ﻗﻞ ﺳﺒﺤﺎﻥ ﺭﺑﻲ ﻫﻞ ﻛﻨﺖ ﺍﻻ ﺑﺸﺮﺍ ﺭﺳﻮﻻ
    ‘যে ব্যক্তি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সাধারণভাবে বাশারীয়াতকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করবে (যে তিনি মানব আকৃতির ছিলেন না বা মানব নন), সে কাফের। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন- ﻗﻞ ﺳﺒﺤﺎﻥ ﺭﺑﻲ ﻫﻞ ﻛﻨﺖ ﺍﻻ ﺑﺸﺮﺍ ﺭﺳﻮﻻ অর্থাৎ আপনি বলুন, আমার রবের পবিত্রতা! আমি নই কিন্তু বাশার, রাসূল-সূরা বনি ইসরাইল: ৯৩।’ (আ‘লা হযরত, ফাতাওয়ায়ে রেজভীয়া: ৬/৬৭)
    মুজাদ্দিদে আলফেসানী বলেন-
    ﭼﻨﺎﻧﮑﮧ ﻛﻔﺎﺭ ﺍﻧﺒﻴﺎﺀ ﺭﺍ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺍﻟﺼﻠﻮﺍﺕ ﻭﺍﻟﺘﺴﻠﻴﻤﺎﺕ ﺩﺭ ﺭﻧﮓ ﺳﺎﺋﺮ ﺑﺸﺮ ﺩﺍﻧﺴﺘﮧ ﺍﺯ ﮐﻤﺎﻻﺕ ﻧﺒﻮﺕ ﺍﻧﻜﺎﺭ ﻧﻤﻮﺩﻩ ﺍﻧﺪ
    ‘সুতরাং কাফিররা সম্মানিত নবীগণ আলাইহিমুস সালামকে অন্যান্য মানুষের মত জেনে তাঁদের পূর্ণতাসমূহকে অস্বীকার করেছে।’ (মুজাদ্দিদে আলফেসানী, মাকতুবাত, দফতরে আউয়াল: ২/১১৪)
    অতএব নবীগণকে আমাদের মত সাধারান মানুষ বলেও হেয় প্রতিপন্ন করা যাবে না এবং মানুষ নবী হতে পারে না বলেও তাঁদেরকে অস্বীকার করা যাবে না। আবার আমাদের নবীর প্রকৃত সত্ত্বাকে জাতীতে মানবও বলা যাবে না। শায়খ আবুল মাওয়াহেব শাযেলী তাঁর কবিতায় সুন্দর বলেছেন-
    ﻣﺤﻤﺪ ﺑﺸﺮ ﻻ ﻛﺎﻟﺒﺸﺮ .. ﺑﻞ ﻫﻮ ﻳﺎﻗﻮﺕ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺤﺠﺮ
    ‘মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (আকৃতিতে) মানুষ হলেও অন্যান্য মানুষের মতো নন (অর্থাৎ তাঁর মানবীয় সুরতও অন্যান্যদের থেকে স্বতন্ত্র), ইয়াকুত একটি মূল্যবান পাথর যা অন্যসব পাথরের মত নয়।’
    সূরা কাহাফের ১১০ নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন-
    ﻗﻞ ﺍﻧﻤﺎ ﺍﻧﺎ ﺑﺸﺮ ﻣﺜﻠﻜﻢ ﻳﻮﺣﻲ ﺍﻟﻲ
    আ‘লা হযরত কিবলা এ আয়াতের অনুবাদ এভাবে করেছেন যে-
    ﺗﻢ ﻓﺮﻣﺎٶ ﻇﺎﮨﺮﻯ ﺻﻮﺭﺕ ﺑﺸﺮﻯ ﻣﻴﻦ ﺗﻮ ﻣﻴﻦ ﺗﻢ ﺟﻴﺴﺎﮨﻮﻥ ﻣﺠﻬﮯ ﻭﺣﻰ ﺃﺗﻰ ﮨﮯ
    “(হে নবী!) আপনি বলুন, প্রকাশ্য মানবীয় আকৃতিতে তো আমি তোমাদের মত, আমার নিকট ওহী আসে)।” (আ‘লা হযরত, কানযুল ঈমান)
    এ আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে রুহুল বায়ানে বলা হয়েছে-
    ﻗﻞ ﻳﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﻣﺎ ﺍﻧﺎ ﺍﻻ ﺃﺩﻣﻰ ﻣﺜﻠﻜﻢ ﻓﻰ ﺍﻟﺼﻮﺭﺓ ﻭﻣﺴﺎﻭﻳﻜﻢ ﻓﻰ ﺑﻌﺾ ﺍﻟﺼﻔﺎﺕ ﺍﻟﺒﺸﺮﻳﺔ
    ‘বলুন হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আমিতো আকৃতিতে তোমাদের মতই মানুষ, আর কতেক মানবীয় বৈশিষ্ট্যে তোমাদের সমান।’ (আল্লামা হাক্কী, রুহুল বায়ান: ৫/৩৫৩)
    *** কাজেই তিনি বাশারও এবং নূরও। আর বাশার হওয়া নূর হওয়ার প্রতিবন্ধকও নয়। নূর ও বাশার এই দুই বৈশিষ্ট্য যে একই সত্ত্বার মধ্যে একত্রিত হতে পারে তা নিম্নোক্ত আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। হযরত জিব্রাইল নূর হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে এ আয়াতে বাশার বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে-
    ﻓَﺎَٔﺭْﺳَﻠْﻨَﺎ ﺇِﻟَﻴْﻬَﺎ ﺭُﻭﺣَﻨَﺎ ﻓَﺘَﻤَﺜَّﻞَ ﻟَﻬَﺎ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﺳَﻮِﻳًّﺎ
    ‘অতঃপর তাঁর (মরিয়ম) প্রতি আমি আমার রূহানী সত্ত্বাকে প্রেরণ করেছি। সে তাঁর সামনে একজন সুঠাম মানুষের (বাশার) রূপে আত্মপ্রকাশ করেন।’ (সূরা মরিয়ম: ১৭)
    **** কিন্তু এ মানবীয়তা তাঁর বিশেষ গুণ (ﺻﻔﺎﺕ ), যাত (ﺫﺍﺕ ) নয়। আর নবীজীর জাত (জিনস) বা হাকীকতও মানুষ নয়, এ মানবীয়তা তাঁর একটা পোষাক মাত্র। আর এটাই আমাদের আকাবেরদের আক্বীদা। যেমন, আল্লামা শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী বলেন-
    ﺁﻧﺤﻀﺮﺕ ﺑﺘﻤﺎﻡ ﺍﺯ ﻓﺮﻕ ﺗﺎ ﻗﺪﻡ ﮨﻤﮧ ﻧﻮﺭ ﺑﻮﺩ ﮐﮧ ﺩﯾﺪۂ ﺣﯿﺮﺕ ﺩﺭ ﺟﻤﺎﻝ ﺑﺎﮐﻤﺎﻝ ﻭﯼ ﺧﯿﺮﮦ ﻣﯿﺸﺪ ﻣﺜﻞ ﻣﺎﮦ ﻭﺁﻓﺘﺎﺏ ﺗﺎﺑﺎﻥ ﻭﺭﻭﺷﻦ ﺑﻮﺩ ﻭﺍﮔﺮ ﻧﮧ ﻧﻘﺎﺏ ﺑﺸﺮﯾﺖ ﭘﻮﺷﯿﺪﮦ ﺑﻮﺩﯼ ﮨﯿﭽﮑﺲ ﺭﺍ ﻣﺠﺎﻝ ﻧﻈﺮ ﻭﺍﺩﺭﺍﮎ ﺣﺴﻦ ﺍﻭ ﻣﻤﮑﻦ ﻧﺒﻮﺩﯼ ﻭﮨﻤﯿﺸﮧ ﺟﻮﮨﺮ ﻭﻯ ﻧﻮﺭﯼ ﺑﻮﺩ ﮐﮧ ﺍﻧﺘﻘﺎﻝ ﮐﺮﺩ ﺍﺯ ﺍﺻﻼﺏ ﺁﺑﺎﻭﺍ ﺭﺣﺎﻡ ﺍﻣﮭﺎﺕ ﺍﺯﺯﻣﻦ ﺁﺩﻡ ﺗﺎ ﺍﻧﺘﻘﺎﻝ ﺑﺼﻠﺐ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﮧ ﻭﺭﺣﻢ ﺁﻣﻨﮧ ﺳﻼﻡ ﺍﻟﻠﮧ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺍﺟﻤﻌﻴﻦ
    ‘হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপদমস্তক ছিলেন নূর। তাঁর নূর বা সৌন্দর্য প্রভায় দৃষ্টিশক্তি উল্টো যেন ফিরে আসত। তিনি যদি মানবীয় পোশাক পরিধান না করতেন, তবে কারো জন্য তাঁর সৌন্দর্য প্রভা উপলব্ধি করা সম্ভব হত না। তাঁর ﺟﻮﻫﺮ ﻧﻮﺭﻯ ‘জাওহারে নূরী’ বা নূরানী জাওহার হযরত আদম আলাইহিস সালাম হতে শুরু করে হযরত আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু পর্যন্ত পবিত্র ঔরসে ও পবিত্র রেহেমে স্থানান্তরিত হয়ে চলে আসছিল।’ (আল্লামা শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী, মাদারেজুন নবুয়্যত: ১/১৩৭)
    আল্লামা ইসমাইল হাক্কী হানাফী বারুসাভী সূরা ফাতহের ১০ নং আয়াত- ﺍﻥ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻳﺒﺎﻳﻌﻮﻧﻚ ﺍﻧﻤﺎ ﻳﺒﺎﻳﻌﻮﻥ ﺍﻟﻠﻪ (হে হাবীব! নিশ্চয় যারা আপনার নিকট বায়‘আত হয়েছে, নিঃসন্দেহে তাঁরা আল্লাহরই নিকট বায়‘আত হয়েছে) এর তাফসীর করতে গিয়ে ইমাম ওয়াসেতী থেকে বর্ণনা করেন-
    ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻮﺍﺳﻄﻲ : ﺃﺧﺒﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻬﺬﻩ ﺍﻻﻳﺔ ﺃﻥ ﺍﻟﺒﺸﺮﻳﺔ ﻓﻲ ﻧﺒﻴﻪ ﻋﺎﺭﻳﺔ ﻭﺍﺿﺎﻓﺔ ﻻﺣﻘﻴﻘﺔ
    ‘ইমাম ওয়াসেতী বলেন, আল্লাহ পাক এ আয়াতে কারীমা দ্বারা জানিয়ে দিচ্ছেন যে, নিশ্চয় তাঁর নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাশারিয়াত বা মানবত্ব ক্ষণস্থায়ী এবং তা (পোষাক স্বরূপ) সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এটা (বাশারিয়াত) তাঁর মূল নয়।’ (আল্লামা হাক্কী, রুহুল বায়ান: ৯/২১)
    আল্লামা ইসমাইল হাক্কী হানাফী বারুসাভী সূরা ‘আনকাবুতের ৪৮ নং আয়াত এর তাফসীর করতে গিয়ে আরো বর্ণনা করেন-
    ﺍﻧﻪ ﻧﻮﺭ ﻣﺤﺾ ﻭﻟﻴﺲ ﻟﻠﻨﻮﺭ ﻇﻞ ﻭﻓﻴﻪ ﺍﺷﺎﺭﺓ ﺍﻟﻰ ﺍﻧﻪ ﺍﻓﻨﻰ ﺍﻟﻮﺟﻮﺩ ﺍﻟﻜﻮﻧﻰ ﺍﻟﻈﻠﻰ ﻭﻫﻮ ﻧﻮﺭ ﻣﺘﺠﺴﺪ ﻓﻰ ﺻﻮﺭﺓ ﺍﻟﺒﺸﺮ
    ‘নিশ্চয় নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধুই নূর, আর নূরের ছায়া হয় না। এতে এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, নিশ্চয় তিনি কুনী ও যিল্লীর অস্তিত্ব ফানা করে দিয়েছেন। আর তিনি মানুষের আকৃতিতে নূরের শরীর বিশিষ্ট।’ (আল্লামা হাক্কী, রুহুল বায়ান: ৬/৪৮০)
    আ‘লা হযরত শাহ্ ইমাম আহমাদ রেযা খান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন-
    ﺍﻭﺭ ﺟﻮ ﻳﮧ ﻛﮩﮯ ﻛﮧ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛﻰ ﺻﻮﺭﺕ ﻇﺎﻫﺮﻯ ﺑﺸﺮﻯ ﮨﮯ ﺣﻘﻴﻘﺖ ﺑﺎﻃﻨﻰ ﺑﺸﺮﻳﺖ ﺳﮯ ﺍﺭﻓﻊ ﻭﺍﻋﻠﻰ ﮨﮯ ﻳﺎ ﻛﮧ ﺣﻀﻮﺭ ﺍﻭﺭﻭﻥ ﻛﻰ ﻣﺜﻞ ﺑﺸﺮ ﻧﮩﻴﻦ ﻭﻩ ﺳﭽﮯ ﻛﮩﺘﺎﮨﮯ
    ‘আর যে এটা বলবে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাহ্যিক সুরত বাশারী বা মানবীয় এবং বাতেনী হাকীকত হলো মানুষের চেয়ে অনেক উচ্চে-অতি উর্ধ্বে অথবা হুযুর অন্যান্যদের মত মানুষ নন, সে সত্য বলেছে।’ (আ‘লা হযরত, ফাতাওয়ায়ে রেজভীয়া: ৬/৬৭)
    ‘মাকতুবাতে ইমামে রাব্বানী’ কিতাবে রয়েছে-
    ﺑﺎﯾﺪ ﺩﺍﻧﺴﺖ ﮐﮧ ﺧﻠﻖ ﻣﺤﻤﺪﯼ ﺻﻠﯽ ﺍﻟﻠﮧ ﻋﻠﯿﮧ ﻭﺳﻠﻢ ﺩﺭﺭﻧﮓ ﺧﻠﻖ ﺳﺎﺋﺮ ﺍﻓﺮﺍﺩ ﺍﻧﺴﺎﻧﯽ ﻧﯿﺴﺖ ﺑﻠﮑﮧ ﺑﺨﻠﻘﮯ ﮬﯿﭽﮯ ﻓﺮﺩﮮ ﺍﺯ ﺍﻓﺮﺍﺩ ﻋﺎﻟﻢ ﻣﻨﺎﺳﺒﺖ ﻧﮧ ﺩﺍﺭﺩ ﮐﮧ ﺍﻭﺻﻠﯽ ﺍﻟﻠﮧ ﻋﻠﯿﮧ ﻭﺳﻠﻢ ﺑﺎﻭﺟﻮﺩ ﻧﺸﺎﺀ ﻋﻨﺼﺮﯼ ﺍﺯ ﻧﻮﺭ ﺣﻖ ﺟﻞ ﻭﺍﻋﻞ ﻣﺨﻠﻮﻕ ﮔﺸﺘﮧ ﺍﺳﺖ ﮐﻤﺎ ﻗﺎﻝ ﻋﻠﯿﮧ ﺍﻟﺼﻠﻮۃ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﺧﻠﻘﺖ ﻣﻦ ﻧﻮﺭ ﺍﻟﻠﮧ
    ‘জেনে রাখা অতীব প্রয়োজন যে, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সৃষ্টি অপরাপর মানুষের মত নয়। এমনকি কুলকায়েনাত বা সমগ্র সৃষ্টি জগতের কেহই সৃষ্টির মধ্যে তাঁর সাথে কোন প্রকার সাদৃশ্য রাখে না। কেননা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানবীয় দেহ বিশিষ্ট হয়ে জন্মগ্রহণ করলেও আল্লাহ জাল্লা শানুহুর নূর থেকে সৃষ্টি হয়েছেন। আল্লাহর হাবীব নিজেই ইরশাদ করেছেন- আমি আল্লাহর নূর থেকে সৃষ্টি হয়েছি।’ (মুজাদ্দিদে আলফেসানী, মাকতুবাত, মাকতুব নং- ১০০)
    *** মূল কথাতো এই যে, হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জাত (জিন্স) অন্যান্য সকল জাতী থেকে উচ্চ, এমনকি তিনি মানব জাতীরও মহান পিতা। যেমন ইমাম কাসতালানী বলেন-
    ﻓﻬﻮ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﺠﻨﺲ ﺍﻟﻌﺎﻟﻲ ﻋﻠﻲ ﺟﻤﻴﻊ ﺍﻷﺟﻨﺎﺱ ﻭﺍﻷﺏ ﺍﻷﻛﺒﺮ ﻟﺠﻤﻴﻊ ﺍﻟﻤﻮﺟﻮﺩﺍﺕ ﻭﺍﻟﻨﺎﺱ
    ‘অতএব নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল জাতী হতে (সকল জাতীর মধ্যে মানব জাতীও অন্তর্ভূক্ত) উচ্চ জাতী এবং সকল সৃষ্টি এমনকি মানুষেরও মহান পিতা।’ (ইমাম কাসতালানী, আল-মাওয়াহেবুল লাদুনিয়াহ: ১/৫৫)
    *** আর হুযুর পাকের মানবীয়তা (বশরীয়াত) স্থায়ীও নয়। যেমন পবিত্র মি‘রাজ রজনীতে আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাশারিয়াত ফানা হয়ে নূরের ওজুদ বিদ্যমান ছিল। আল্লামা ইসমাইল হাক্কী বলেন-
    ﻓﺎﻧﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﺎ ﺑﻘﻲ ﻣﻜﺎﻥ ﻭﻻ ﻓﻲ ﺍﻻﻣﻜﺎﻥ ﻻﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻓﺎﻧﻴﺎ ﻋﻦ ﻇﻠﻤﺔ ﻭﺟﻮﺩﻩ ﺑﺎﻗﻴﺎ ﺑﻨﻮﺭ ﻭﺟﻮﺩﻩ
    ‘নিশ্চয় তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (মি‘রাজ রজনীতে) কোন স্থান বা সৃষ্টি জগতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। কেননা তিনি তখন তাঁর (মানব) অস্তিত্বের অন্ধকার অতিক্রম করে তাঁর নূরী অস্তিত্বে বিদ্যমান ছিলেন।’ (আল্লামা হাক্কী, রুহুল বায়ান: ১/৩৯৫)
    পরকালেও তাঁর বাশারীয়াত মোটেই থাকবে না। যেমন শাহ্ আবদুল আযীয মুহাদ্দিছে দেহলভী সূরা দ্বোহার ﻭﻟﻼﺧﺮﺓ ﺧﻴﺮ ﻟﻚ ﻣﻦ ﺍﻻﻭﻟﻰ এ আয়াতে কারীমার তাফসীরে লিখেন-
    ﯾﻌﻨﯽ ﻭﺍﻟﺒﺘﮧ ﮨﺮ ﺣﺎﻟﺖ ﺁﺧﺮ ﺑﮩﺘﺮ ﺑﺎﺷﺪ ﺗﺮﺍ ﺍﺯ ﻣﻌﺎﻣﻠﺖ ﺍﻭﻝ ﺗﺎ ﺁﻧﮑﮧ ﺑﺸﺮﯾﺖ ﺗﺮﺍ ﺍﺻﻼ ﻭﺟﻮﺩ ﻧﻤﺎﻧﺪ ﻭﻏﻠﺒۂ ﻧﻮﺭ ﺣﻖ ﺑﺮﺗﻮ ﻋﻠﯽ ﺳﺒﯿﻞ ﺍﻟﺪﻭﺍﻡ ﺣﺎﺻﻞ ﺷﻮﺩ
    ‘আপনার জন্য ইহকাল থেকে পরকাল উত্তম। এমনকি পরকালে আপনার বাশারীয়াত বা মানবত্বের অস্তিত্ব (ওজুদ) বাকি থাকবে না বরং সদা সর্বদা আপনার উপর নূরে হকের প্রাধান্য থাকবে।’ (শাহ্ আবদুল আযীয মুহাদ্দিছে দেহলভী, তাফসীরে আযীযী: ২১৭)
    পরিশেষে বলব, আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের অন্তভূর্ক্ত কারো পক্ষে এটা শোভা পায়না যে, হুযুর পাককে শুধু ‘বাশার-বাশার’ বলে সম্বোধন করবে, আর ‘জাতীতে মানব’ প্রমাণে পেরেশান হবে। বরং পবিত্র কুরআনে নবীগণকে বাশার বলে সম্বোধন করার চিরাচরিত অভ্যাসটা কাফেরদের বলে চিত্রায়ন করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে-
    ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻣﺎ ﺍﻧﺘﻢ ﺍﻻ ﺑﺸﺮ ﻣﺜﻠﻨﺎ
    ‘কাফেররা বলতো তোমরাতো আমাদেরই মতো মানুষ ভিন্ন অন্যকিছু নও।’ (সূরা ইয়াসিন: ১৫)
    আল্লাহ বিবেককে রাসূল প্রেমে স্থির রাখুন এবং রাসূলﷺ শান অনুধাবনের তৌফিক দিন। আমিন! বিজা-হি ত্ব-হা- ওয়া ইয়া-সীন।
  • যদি কোন সুন্নী ভাইয়ের কাছে শাব্দি ভুল ধরা পরে জানালে উপকৃত হব।
  • পতিদিন Visit করুন www.yanabi.in এ
Sign In or Register to comment.
|Donate|Shifakhana|Board|All Sunni Site|EarnMB.in|