بسم الله الرحمن الرحيم
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ঈদ এ মিলাদুন নবী ﷺ মুবারক Sunni Whatsapp Group Click : আমাদের সুন্নি বাংলা WhatsApp গ্রুপে যুক্ত হোন,আমাদের মুফতি হুজুরগণ আপনার ইসলামিক সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিবেন ইন শা আল্লাহ,জয়েন করতে ক্লিক করেন Sunni Bangla Whatsapp group আর Dui Bangla facebook group এবং Sunni Bangla facebook group মাসলাক এ আলা হজরত জিন্দাবাদ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত জিন্দা বাদ ৭৩ফিরকা ১টি হক পথে ।নবিﷺ এর প্রেমই ঈমান।ফরজ সুন্নাত তাসাউফ সূফীবাদ নফল ইবাদতের আরকান আহকাম সমুহ মাস'আলা মাসায়েল ইত্যাদি জানতে পারবেন।নবিﷺ সাহাবাرضي الله عنه ওলি গণের জীবনি ও অমুল্য বাণী জানতে পারবেন।মুসলিম জগতের সকল খবর ও ম্যাগাজিন পাবেন এখানেহাদিস শরীফ, কুর'আন শরীফ , ইজমা কিয়াস সম্বলিত বিশ্লেষণ, বাতিলদের মুখোশ উম্মচন করে প্রমাণ সহ দলীল ভিত্তিক আলোচনা ।জানতে পারবেন হক পথে কারা আর বাতিল পথে কারা জা'আল হক। বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্নি আলিমদের বাংলায় নাত গজল ওয়াজ নসিহত অডিও ভিডিও ডাউনলোড করুন এখান থেকে অনলাইনে সুন্নি টিভি Live দেখতে আর রেডিও Live শুনতে পাবেন। প্রচুর সুন্নি বাংলা কিতাব ডাউনলোড করুন এখান থেকে।সুন্নি ইসলামিক কম্পিঊটার এপ্লিকেশন এন্ড্রইড এপ্স পাবেন এখানে। প্রতিদিন ভিজিট করুন প্রতিদিন নতুন বিষয় আপডেট পেতে ।ভিজিট করার জন্য ধন্যবাদ জাজাকাল্লাহু খায়ের ।

কবর বা মাজার জিয়ারতকারীকে কবর পুজারী বলা কেমন ? যে কথায় কথায় কাউকে কবরপূজারী মুশরিক বলে তার কি হবে ?

কবর বা মাজার জিয়ারতকারীকে কবর পুজারী বলা কেমন ? যে কথায় কথায় কাউকে কবরপূজারী মুশরিক বলে তার কি হবে ?

edited November 10 in Ja-al-haq
ডাঃ মুহাম্মদ রাযা কাদেরী
بسم الله الرحمن الرحيم
 الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه أجمعين أما بعد

﴿وَقَدۡ خَابَ مَنِ ٱفۡتَرَىٰ ٦١ ﴾ [طه: ٦١]

আর যে ব্যক্তি মিথ্যা আরোপ করে, সে-ই ব্যর্থ হয়। [সূরা তাহা :৬১]



কবর যিয়ারত বা মাজার জিয়ারত করা হচ্ছে সুন্নাতে রাসূল ﷺ ও সুন্নাতে সাহাবা رضي الله عنه আর এটাকে যারা "কবর পুজা" আখ্যা দেই তারা আসলে ধোকাবাজ মিথ্যাবাদী।
একটা আমলকে "শিরক" বলে মানুষকে পথপভ্রষ্ট করছে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।
অযথা কাউকে মুশরিক বা শিরক কারী বা নাস্তিক বা কাফের বলা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ! দেখেন সবাই তাদের জন্য কি বলা হইয়েছে
قال المستبان ماقالا فعلى البادى مالم يعتد المظلوم- رواه مسلم
হযরত আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত রাসুল ﷺ বলেছেন, যে ব্যাক্তি কাউকে কাফের বলে ডাকে অথবা আল্লাহর শত্রু বলে, অথচ ( যাকে কাফের ও আল্লাহ তাআলার শত্রু বলা হচ্ছে) সে তা নয়, তখন তার কথা নিজের দিকে ফিরবে।বুখারী ও মুসলিম , মিশকাতঃ৪৬০৬ অধ্যায়ঃজিহ্বার সংযম,গীবত...গাল-মন্দ প্রসঙ্গে।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর رضي الله عنه থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন-যে ব্যক্তি তার অপর কোন ভাইকে কাফের বলে, তাহলে তা উভয়ের যেকোন একজনের দিকে ফিরবে। যদি সে যেমন বলেছে বাস্তবে তা’ই হয়, তাহলেতো ঠিক আছে, নতুবা উক্ত বিষয়টি যে বলেছে তার দিকেই ফিরে আসবে।
{সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২২৫, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-২৫০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৫০৩৫, মুসনাদে আবী আওয়ানা, হাদীস নং-৫৪, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৬২৩৭}
এই হাদিস বোঝা যায় যারা কাফির না তাদেরকে কাফির বললে যেমন তার উপর গুনাহ ফিরিয়ে যায় মানে সে নিজে কাফির হয়ে যায়, তেমন শিরককারী বা মুশরিক সেও কাফিরের দলভুক্ত বোঝায়, তাই কাউকে যদি "শিরককারী" "কবর পুজারী" ইত্যাদি বলে কিন্তু সে তা নয় তাহলে যে বলছে তার উপর সেটা ফিরে যাবে, তার মানে সে নিজেই "শিরককারী" "মুশরিক" হয়ে যাবে। আর শিরকের শাস্তিঃ
১. “নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সঙ্গে কেউ অংশীস্থাপন করলে তাকে ক্ষমা করবেন না এবং এর চেয়ে ছোট পাপে যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন। আর যে শিরক করল সে বড় ধরনের অপবাদ ধারণ করল।” (সুরা নিসা : আয়াত ৪৮)

২. “আর যে আল্লাহর সঙ্গে শিরক করল সে বহু দূরের ভ্রষ্টতায় পতিত হলো।” (সুরা নিসা : আয়াত ১১৬)

৩. “নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর অংশীস্থাপন করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন এবং তার বাসস্থান হবে জাহান্নামে। আর এরূপ অত্যাচারীদের জন্যে কোন সাহায্যকারী থাকবে না।” (সুরা মায়েদা : আয়াত ৭২)

৪. “আর যে আল্লাহর সাথে শিরক করল; সে যেন আকাশ থেকে ছিটকে পড়ল, অত:পর মৃতভোজী পাখী তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবাবাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে কোন দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করল।” (সুরা হজ : আয়াত ৩১)

তাই সাবধান হয়ে যান না জেনে বুঝে কাউকে "শিরক" করছে "কবর পুজা" করছে ইত্যাদি বলা থেকে বিরত থাকেন তা না হলে আপনি আল্লাহর শাস্তির অপেক্ষা করেন আপনাকে এই গুনাহর জন্য ও মিথ্যা অপবাদ দেয়ার জন্য কঠোর শাস্তি দেয়া হবেঃ
 وَيَدْرَأُ عَنْهَا الْعَذَابَ أَنْ تَشْهَدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ 
“এবং পঞ্চমবার বলবে যে,যদি সে মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপর নেমে আসবে আল্লাহর অভিশাপ।” (২৪:৭)
সুরা নুর আয়াত ৭

সুরা নূরের ১২, ১৩ ও ১৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

لَوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ ظَنَّ الْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بِأَنْفُسِهِمْ خَيْرًا وَقَالُوا هَذَا إِفْكٌ مُبِينٌ (12) لَوْلَا جَاءُوا عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَإِذْ لَمْ يَأْتُوا بِالشُّهَدَاءِ فَأُولَئِكَ عِنْدَ اللَّهِ هُمُ الْكَاذِبُونَ (13) وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآَخِرَةِ لَمَسَّكُمْ فِي مَا أَفَضْتُمْ فِيهِ عَذَابٌ عَظِيمٌ (14)

 

“তোমরা যখন একথা (অর্থাৎ অপবাদ) শুনলে,তখন ঈমানদার পুরুষ ও নারীগণ কেন নিজেদের লোক সম্পর্কে উত্তম ধারণা করনি এবং বলেনি যে,এটা তো নির্জলা মিথ্যা অপবাদ?” (২৪:১২)

“তারা কেন এ ব্যাপারে চার জন সাক্ষী উপস্থিত করেনি;অতঃপর যখন তারা সাক্ষী উপস্থিত করেনি,তখন তারাই আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী।” (২৪:১৩)।

“যদি ইহকাল ও পরকালে তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত,তবে তোমরা যা চর্চা করছিলে (অর্থাৎ যে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিলে),সেজন্য তোমাদেরকে গুরুতর আযাব দেয়া হতো।” (২৪:১৪)

কবর জিয়ারত বা মাজার জিয়ারত কবরপুজা বা শিরক নয় এটা সুন্নাত আমলঃ

প্রথমে আমাদের জানা দরকার "শিরক" কাকে বলে এর সংজ্ঞা কি?

"শিরক" বাংলাই অর্থ শরিক অর্থাৎ আল্লাহর সাথে কারো শরিক করা কে বোঝাই । বিশদ ভাবে শিরক বলতে, আল্লাহ ছাড়া কোন সৃষ্টিকরতা নাই আল্লাহ ছাড়া কোন উপাসক নাই -এই কথা গুলিকে অস্বীকার করা অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সৃষ্টিকরতা মাবুদ হিসাবে গ্রহন করা ।
শিরক গুনাহ আল্লাহ মাফ করেনা না
اِنَّ اللہَ لَا یَغْفِرُ اَنۡ یُّشْرَکَ بِہٖ وَیَغْفِرُ مَا دُوۡنَ ذٰلِکَ لِمَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَمَنۡ یُّشْرِکْ بِاللہِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلٰلًۢا بـَعِیۡدًا ﴿۱۱۶
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “আল্লাহ এটা ক্ষমা করেন না যে, তাঁর কোন শরীক দাঁর করানো হবে এবং এর নিম্ন পর্যায়ে যা কিছু আছে তা যাকে চান ক্ষমা করে দেন।” [সূরা আন্‌-নিসা: ১১৬]
আজ আমরা খুব বেশি শুনছি শিরিকের কথা কিন্তু দূঃভাগ্যবসত আমরা এখনো স্পষ্ট বুঝে উঠতে পারিনি শিরিক কি । যেভাবে শিরকের ফতুয়া দেয়া হচ্ছে ভেবেইকুল পাইনা আসলে কি মুশরিক হয়ে গেলাম ??? যদি আমার কাধেঁ মুশরিকের ফতুয়া চাপিয়ে দেয়া হয় তবে “লা ইলাহ ইল্লাললাহ” যে কালেমা পড়লাম তবে এর কি কোন মূল্য আছে ??যদি কালেমাকে বিশ্লেষন করি “লা” লায়ে নফি বা কোন জাত নাই / অথবা কেউ নেই , সুতরাং এই “লা” যথেষ্ট যে আমি বা আমরা মুশরিক না তা বুঝানোর জন্য , কারন একজন মুসলমান “লা” শব্দ দিয়ে প্রকাশ করেছে সে আর কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করেনা। এর পরও যদি কেউ বলে আমি বা আমরা মুশরেক তবে তার কাছে প্রশ্ন , আমি বা আমরা “ লা ইলাহা কালেমা পড়ে মুসলমান হয়েছি , আল্লাহর ওয়াহদানিয়াতকে স্বীকার করেছি , এর পরেও যদি কাধেঁ মুশরিকের ফতুয়া চাপিয়ে দেয়া হয় তবে বলুন আপনারা কোন কালেমা পড়ে মুসলিম হয়েছেন ???? এই কি এ কথা বুঝায় না , যে আপনারা কালেমাকে ভাল ভাবে বুঝার জ্ঞান অর্জন করেন নাই ???? এতই যদি আহম্মক থাকেন তবে কেন ফতুয়ার এত বাহার লাগান ???
এই সব ব্যক্তি এত জ্ঞানহীন যাদের কাছে না আছে আরবি বুঝার জ্ঞান না রাখে কুরান হাদিছের গভীর জ্ঞান !! আমরা নিম্নের হাদিছে দেখি রাসুল ﷺ কি বলেছেন !!
صلي رسول الله صلي الله عليه واله و سلمّ علئ قتل احد ثم سعد المنبر كالمودع للاحياء و الاموات . فقال اني فرطكم علي الحوض، و ان عرضه كما بين ايلة الي الجحفه. اني لست اخشي عليكم ان تشركوا بعدي. ولكني اخشي عليكم الدنيا ان تنافسوا فيها،وتقتتلوا فتهلكوا، كما هلك من كان قبلكم،
قال عقبة: فكانت اخر ما رايت رسول الله صلي الله عليه واله و سلمّ علي المنبر-
اخرخه هذا الحديث امام المسلم من كتاب الفضائل تحت العنوان "باب اثبات حوض نبينا صلي الله عليه واله و سلمّ صفاته" ٤: ١٧٩٦ ، الرقم ٩٦٢٢ :
অথঃ - হযরত ওকবা বিন আমের থেকে বণিত, তিনি বলেন , রাসুল ﷺ উহুদ যুদ্ধের শহিদদের জানাজার নামাজ আদায় করেন, অতপর মিম্বরের উপর উপস্থিত হয়ে এমনভাবে নছিহত করতে লাগলেন যেন মৃত ও জীবিত উভয়কে নছিহত করতে লাগলেন,
রাসুল ﷺ এরশাদ করেন, নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে হাওজে কাউছার এর পানি পান করাব, (হাওজে কাওছারের পানি অনুমতি আছে ) আর এই হাওজের শুরু আয়িলা নামক জায়গা থেকে জোহফা পর্যন্ত, আমার কোন ভয়ে নেই যে  (উম্মত) আমার অনুপস্থিতে তোমরা কোন প্রকার শিরিক করবে। কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছি যে দুনিয়া তোমাদেরকে পেয়ে বসবে, এবং একে অপরের সাথে দাঙ্গা হাঙ্গামা করবে এতে নিজেরা ক্ষতি গ্রস্থ হবে । যেভাবে তোমাদের পূববতী জাতিরা ধংস হয়েছে।
হযরত ওকবা বিন আমের বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহিসালাম কে শেষবাবের মত এই মিম্বরে দাড়াঁতে দেখেছি ।
(তথ্য সূত্রঃ- ইমাম মুসিলম এই হাদিছকে “কিতাবুল ফযায়েলে” “এছবাতু হাওযু নব্বীয়েনা ﷺ ওয়া সিফাতিহি” অধায়ে বর্ণনা করেন - ৪ ঃ ১৭৯৬, হাদিছ নং ঃ ২২৯৬ )
বইঃ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২০/ জানাযা, হাদিস নম্বরঃ ১২৬৩
 
باب الصَّلاَةِ عَلَى الشَّهِيدِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ يَوْمًا فَصَلَّى عَلَى أَهْلِ أُحُدٍ صَلاَتَهُ عَلَى الْمَيِّتِ، ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ ‏ "‏ إِنِّي فَرَطٌ لَكُمْ، وَأَنَا شَهِيدٌ عَلَيْكُمْ، وَإِنِّي وَاللَّهِ لأَنْظُرُ إِلَى حَوْضِي الآنَ، وَإِنِّي أُعْطِيتُ مَفَاتِيحَ خَزَائِنِ الأَرْضِ ـ أَوْ مَفَاتِيحَ الأَرْضِ ـ وَإِنِّي وَاللَّهِ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تُشْرِكُوا بَعْدِي، وَلَكِنْ أَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تَنَافَسُوا فِيهَا ‏"‏‏.‏
 
বইঃ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২০/ জানাযা, হাদিস নম্বরঃ ১২৬৩
 

 
৮৫৫. শহীদের জন্য জানাযার সালাত। 

১২৬৩। আবদুল্লাহ‌ ইবন ইউসুফ 
رحمة الله عليه ... উক্‌বা ইবনু আমির 
رضي الله থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বের হলেন এবং উহুদে পৌঁছে মৃতের জন্য যেরূপ (জানাযার) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা হয় উহুদের শহীদানের জন্য অনুরূপ সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এরপর ফিরে এসে মিম্বারে তাশরীফ রেখে বললেনঃ আমি হবো তোমাদের জন্য অগ্রে প্রেরিত এবং আমি তোমাদের জন্য সাক্ষী। আল্লাহর কসম! এ মুহূর্তে আমি অবশ্যই আমার হাউয (হাউয-ই-কাওসার) দেখছি। আর অবশ্যই আমাকে পৃথিবীর ভান্ডারসমূহের চাবিগুচ্ছ প্রদান করা হয়েছে। অথবা (রাবী বলেছেন) পৃথিবীর চাবিগুচ্ছ আর আল্লাহর কসম! তোমরা আমার পরে শিরক করবে এ আশংকা আমি করি না। তবে তোমাদের ব্যপারে আমার আশংকা যে, তেমরা পার্থিব সম্পদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়বে।

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

উক্ত হাদিছে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে উম্মতে মুহাম্মদির মধ্যে কখনো শিরিকি কাজ সংগঠিত হবেনা যেহেতু ইমানের প্রতি উম্মতে মুহাম্মদি সাল্লাল্লাহু আলাইহিসালাম মাথা ঝুকিয়ে দিয়েছেন । রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহিসালাম ও জানতেন যে এই উম্মত কখনো শিরিকে লিপ্ত হবেনা ।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে রাসুল ﷺ উম্মতের মধ্যে শিরিকের সন্দেহ নেয় এই কথা বলার পরও ইসলামের লেবাসধারি আলখেল্লাপরা মোল্লারা কেন শিরকের কথা বলে ?? ওরা কি এই হাদিছ পড়েনি ??? নাকি না পড়ে ফতুয়া বাজি করছে, কোনটা ??? কে ইসলাম লেবাসধারি আলখেল্লাপরা মোল্লাদের মুসলমানদের ক্ষেত্রে শিরিক বলার অধিকার দিয়েছে ?? এর কোন উত্তর আছে কি ??
শিরকের বিপরিতে তাওহিদ বা আল্লাহ একক, এর ঘোষনা । ওলামায়ে কেরামের বর্ণনার আলোকে তাওহিদ কি ??
التوحيد تفعيل من الوحدة ، و هو جعل الشئ واحدا. و المقصود بتوحيد الله تعالي اعتقاده انه تعلئ واحد فئ ذاته وفي
صفاته وفي افعاله, فلا يشاركه فيها احد ولا يشبهه فيها احد
তাওহিদ শব্দটি আরবি গ্রামার অনুযায়ি তাফয়িলুন এর ওজনে বা তাফয়িলুন এর সূত্র ব্যবহার হয় , যাকে “ওয়াহদাতু” শব্দ থেকে নেয়া হয়েছে , অথঃ- কোন বস্তুকে একক মানা , আল্লাহর তাওহিদের উদ্দেশ্য হচ্ছে এসব বিষয়ের বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহ তায়ালা তার সত্ত্বাগত , গুণগত ও কর্মপদ্ধতিতে একক, এর মধ্যে কারো অংশিদারিত্ব নাই, এর সাথে কারো তুলনাও নাই ।
আল্লাহর তাওহিদের বর্ণনায় “হযরত ইমাম আবু জাফর তাহাবি رحمة الله عليه, “আল আকিদাতুত তাহবিয়া” ৯-১১ পৃষ্টায়, হযরত ইমাম আবুল হাসান আল আসয়ারি رحمة الله عليه “ আল ইবানাতু আল উসুয়ুলু দিয়ানাহ” ৭ পৃষ্টায় , হযরত ইমাম গজ্জালি رحمة الله عليه “ কাওয়ায়েদুল আকাঈদে” পৃষ্টা নং ৫০-৫৪ একই কথা উল্লেখ করেন, আমি শুধু হযরত ইমাম গজ্জালি رحمة الله عليه “ কাওয়ায়েদুল আকাঈদে” পৃষ্টা নং ৫০-৫৪ এর কথা উল্লেখ করলাম “
انه في ذاته واحد لا شريك له، فرد لا مثيل له، صمد لا ضد له، منفرد لا ند له ، وانه واحد قديم لا اوّل له، ازليّ لا بداية له، مستمر الوجود لا اخر له، ابدي لا نهاية له، قيوم لا انقطاع له، دايم لا انصرم له، لم يزل موصوفا بنعوت الجلال ، لا يقضي عليه بالانقضاء،والانفصا ل ، بتصرم الاباد، و انقراض الاجال، بل هوالاول و الاخر واالظاهرو الباطن ، وهو بكل شي عليم
আল্লাহ তাঁর সত্ত্বাতে একক , যারঁ কোন অংশিদারিত্ব নেই , যার কোন তুলনা নেই, যার কোন বিপরীত কেও নেই , যার প্রকার কেউ নেই, নিশ্চয় তিনি একক ও চিরন্জিব, যার প্রথম বলতে নেই , তিনি তখন থেকে যখন সময়ের উল্লেখ নেই ,তিনি চীরস্থায়ি যার শেষ নেই , তিনি সর্বাবস্থায় বিরাজমান , তিনি জালালি গুনে গুনান্নিত । যুগের শেষে , সময়ের শেষের পরে সব কিছুর ধংসের যে বিষয় তা তার বিপরীতে নেই । বরং তিনিই প্রথম তিনিই শেষ , তিনিই প্রকাশ্য তিনিই অপ্রকাশ্য , তিনিই সবকিছুর জ্ঞান রখেন ।
অতএব আলোচনা থেকে এই কথায় প্রমানিত হয় যে তারঁ সব গুন সত্ত্বাগত ।
এবার আসুন শিরিক কাকে বলে দেখি ঃ-
শিরিকের শাব্দিক অথে “লেসানুল আরবে” হযরত ইবনে মানজুর আফ্রিকি ৪৪৮ পৃষ্টায় বলেন ,
اِلشركة والشَركة سواء :مخالطة الشريكين: يقال : اشتركنا بمعني تشاركنا ، وقد اشترك الرجلان وتشاركا و شارك احدهما الاخر
“শিরকাতুন” অথবা “শারিকাতুন” এই দুয়ের অর্থ হচ্ছে দুজন অংশিদ্বারকে একই বস্তুতে সমান ভাবে অংশিদ্বারি করা, যেমন বলা হয় , আমাদের অংশিদ্বারিত্ব হয়েছে, আথবা দুজন ব্যক্তি একে অন্যের সাথে অংশিদ্বার হয়েছে। অথবা তাদের অধিকার প্রতিষ্টা হয়েছে, সুতরাং একে অন্যের সাথে অংশিদ্বার হয়েছে।
অতএব বিষয়টা স্পষ্ট যে সমান ভবে অংশিদ্বারিত্ব প্রতিষ্টাই হচ্ছে শিরিক .
“লেসানুল আরবে” হযরত ইবনে মানজুর আফ্রিকি ৪৪৯ পৃষ্টায় বলেন ,
والشرك با لله :جعل له شريكا في ملكه، تعالي الله عن ذالك، والشرك ان يجعل الله شريكا في ربوبيته،تعالي الله عن الشركاء والانداد، لان الله وحده ل شريك له ولا نّد له ولا نديد له
যখন ইহাই বলা হয় যে ঐ ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরিক করেছে তখন এর অর্থ হচ্ছে, এই ব্যক্তি অন্য কাওকে আল্লাহর রাজ্যে ও তাঁর শাষণের মধ্যে সমান অংশিদারত্ব প্রতিষ্টা করে দিয়েছে, আর শরিকের অর্থ হচ্ছে আল্লাহর প্রভূত্বে কাওকে অংশিদ্বারীত্ব করা, অথচ আল্লাহর জাতটা অংশিদ্বারীত্ব থেকে ও প্রতিদ্বন্দী থেকে আল্লাহ পবিত্র । কেননা আল্লাহ তায়ালা একক ও তার কোন শরিক নেই, তার সমকক্ষ কোন শাসক নেই। তারঁ কোন দৃষ্টান্ত নেই ।
মোদ্দাকথা হচ্ছে, 1. সমান অংশিদ্বার দাবি করা শিরিক,
2. একজন মুসলমান শিরিক কখনো করবে না বা করার সম্ভাবনা
নেই .
3. তাওহিদের বিপরীতে হচ্ছে শিরিক
এরপর দেখা আল্লাহ এবং সৃষ্টির মধ্যে মিল আছে কিনাঃ-
 আল্লাহ এবং তার সব শ্রেষ্ট সৃষ্টি মানবের সাথে আল্লাহর কিছু বিষয়ে মিল খোজেঁ পাই
তবে এই মিলের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন. 1.আল্লাহর গুনাবলি তথা সবকিছু জাতি বা স্বত্বাগত আর মাখলুকের ক্ষেত্রে তা আতায়ি বা প্রাপ্ত .
2. আল্লাহ ওয়াজেবুল ওয়াজুদ তথা আল্লাহর অবস্থান আবশ্যক এর শেষ নেই আর মাখলুক মুমকেনুল ওয়াজুদ বা থাকা সম্ভবনাময়ি , এর  শেষ আছে .
3. বান্দাকে আল্লাহ কিছু কিছু বিষয় দিয়েছন যা বান্দা এবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে  অর্জন করে ।ক। যেমনঃ فجعلناه سمعام بصيرا
(সুরা আদ-দাহার ৭৬ ঃ ২ )
অতপর আমি ইনসানকে শ্রবনকারি ও প্রত্যক্ষকারি হিসেবে বানিয়েছি । এখানে শ্রবনকারি ও প্রত্যক্ষকারি কি ধরনের তার উল্লেখ নেই । ইহা হতে পারে বাহ্যিক দূষ্টিতে দেখা অথবা আভ্যন্তরিন দৃষ্টিতে দেখা ।
উল্লেখ্য যে আল্লাহ দেখেন ও শুনেন অনুরুপ বান্দা ও দেখেন ও শুনেন কিন্তু এই  দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে , আল্লাহর পক্ষে যা হয় তা হল আওসাফে কামেলা বা আওসাফে জাতি তথা স্বত্বা গত, আর বান্দারটা আওসাফে আতায়ি তথা প্রাপ্ত। অতএব এতে শিরিকের বিন্দু মাত্র সন্দেহ নেই .

খ। আল্লাহ নিজের  সম্পর্কে ঘোষণা করেন انه هو السميع البصير
(বনি ইসরাঈল , ১৭ ঃ ১ )
নিশ্চয় আল্লাহ শ্রবনকারি ও প্রত্যক্ষকারি ,
উপরের এবং নিচের দুইটি আয়াত মিলালে আমরা দেখতে পাই বান্দাও “ সামিয়ুন বাসির” আল্লাহও “ সামিয়ুন বাসির”
এখন প্রশ্ন হচ্ছে যারা শিরিক শিরিক করে তারা এই আয়াতের ব্যাপারে কি ফতোয়া দিবে ??? এর কোন সদুউত্তর ইসলামের লেবাসধারি আলখেল্লাপরা মোল্লারা দিতে পারবেন ???
আল্লাহ আমার রাসুলের শানে বলেন , بالمومنين رءوف الرحيم
( আত তাওবা ৯ঃ ১৬৮ )
মুমিনের জন্য রাসুল নিহায়ত করুনাময়ি
আল্লাহ তায়লা নিজের সম্পর্কে ঘোষণা করেন انّ الله بالناس لروءف رحيم
(বাকারা ২ ঃ ১৪৩ )
নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা মানুষের প্রতি অধিকতর করুনাময়ি বা দয়াবান।
উপরের এবং নিচের দুইটি আয়াত মিলালে আমরা দেখতে পাই রাসুল ﷺ ও “রাউফর রহিম” আল্লাহ ও “রাউফর রহিম”
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এতে শিরিক হল কিনা ?? ধোকাবাজ কাঠ মোল্লারা যেখানে সেখানে শিরিক শিরিক করেন এখানে কি হবে ? এইকি শিরিক হবে ??


আমরা মাজার বা কবর জিয়ারত করি কেন? জেনে শুনে শিরিক করার জন্য?

১ নং কারণঃ মাজারে যাওয়া সাহাবাগণের
সুন্নাত । যেমন হাদিস শরীফে এসেছে..
ﺍﺻﺎﺏ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻗﺤﻂ ﻓﻲ ﺯﻣﺎﻥ ﺻﻠﻌﻢ ﻓﻘﺎﻝ ﻳﺎﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻤﺮ _ ﻓﺠﺎﺀ ﺭﺟﻞ ﺍﻟﻲ ﻗﺒﺮ ﺍﻟﻨﺒﻲ
ﺍﺳﺘﺴﻒ ﻻﻣﺘﻚ ﻓﺎﻧﻬﻢ ﻗﺪ ﻫﻠﻜﻮﺍ
ﻓﺎﺗﻲ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﻨﺎﻡ ﻓﻘﻴﻞ ﻟﻪ
ﺍﺋﺖ ﻋﻤﺮ ﻓﺎﻗﺮﺋﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ _
ﻭﺍﺧﺒﺮﻩ ﺍﻧﻜﻢ ﻣﺴﺘﻘﻴﻤﻮﻥ
হযরত ওমর رضي الله عنه এর সময় একদা অনাবৃষ্টির কারণে মানুষের উপর দুর্ভিক্ষ পতিত হল । তখন এক
সাহাবী হযরত বেলাল বিন হারেস رضي الله عنه রাসূল ﷺ এর
রওযা মোবারকে এসে আবেদন করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ
ﷺ আপনার উম্মত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আপনি আল্লাহর
দরবারে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করুন ।
সে সাহাবিকে স্বপ্নযোগে বলা হল , হযরত ওমর رضي الله عنه কে গিয়ে সালাম বল এবং তাকে বল যে তোমাদেরকে বৃষ্টি
দান করা হবে । সুবহানাল্লাহ !
_______________ _______________
* আল মুসান্নাফ ,ইবনে আবি শায়বাহ । (খন্ড ১২ ,পৃঃ৩২
হাদিস নং ১২০৫১.) *হযরত ইবনে হাজর আসকালানী
رحمة الله عليه, ফতহুল বারী শরহে বুখারী , (খন্ড ২ পৃঃ ৪৯৫ ও ৪১২) _______________
_______________
হযরত ইবনে আবি শায়বাহ, ইবনে হাজর আসকালানী ,ও
ইমাম কোস্তলানী رحمة الله عليه তারা বলেছেন-
ﻫﺬﺍ ﺣﺪﻳﺚ ﺻﺤﻴﺢ
অত্র হাদিস খানা সহীহ সনদে বর্ণিত ! * * * * * * * * * * * * * * *
* * * * * * * * * * * * * * *
২নং কারণঃ আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণের রওযা হল
দোআ কবুলের বিশেষ স্থান।
যেমন ইমাম শাফেয়ী رحمة الله عليه বলেন ...
ﺍﻧﻲ ﻻﺗﺒﺮﻙ ﺑﺎﺑﻲ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﻭﺍﺟﻲﺀ ﺍﻟﻲ ﻗﺒﺮﻩ ﻓﺎﺫﺍ ﻋﺮﺿﺖ ﻟﻲ ﺣﺎﺟﺔ
ﺻﻠﻴﺖ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ ﻭﺟﺌﺖ ﺍﻟﻲ ﻗﺒﺮﻩ
ﺗﺒﻌﺪ ﻋﻨﻲ ﺣﺘﻲ ﺗﻘﻀﻲ ﻭﺳﺎﻟﺖ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺤﺎﺟﺔ ﻋﻨﺪﻩ ﻓﻤﺎ_ নিশ্চয়ই আমি ইমাম আবু হানিফা رضي الله عنه হতে বরকত হাসিল
করি এবং আমি তার রওজায় জিয়ারত করতে আসি । আমার
যখন কোন প্রয়োজন পড়ে তখন আমি দুই রাকাত নামাজ
পড়ে তার কবরে আসি এবং তার পাশে দাড়িয়ে আল্লাহর
নিকট মুনাজাত করি । অতঃপর আমি সেখান থেকে আসতে
না আসতেই আমার প্রয়োজন পূর্ণ হয়ে যায় । সুবহানাল্লাহ ! _______________ _______________
ফতোয়ায়ে শামী , খন্ড ১ পৃঃ ১ .তারিখে বাগদাদ , খন্ড
১ পৃঃ ১২৩ রুদ্দুল মুখতার খন্ড ১ পৃঃ ৪১ আল খায়রাতুল
হাসান , পৃঃ ৯৪
_______________ _______________
ওহাবী ভাইদের বলছি । আপনারা কি নিজেদের ইমামকে শাফেয়ী رحمة الله عليه এর চেয়ে বড় মুফতী মনে
করেন ? নাউযুবিল্লাহ ।
* * * * * * * * * * * * * * *
* * * * * * * * * * * * * * *
(খ ) শাহ আব্দুল হক মোহাদ্দেস দেহলবী رحمة الله عليه যিনি
সকলের কাছে মান্য ও গ্রহণযোগ্য , এবং যিনি প্রচ্যের বুখারী হিসেবে পরিচিত ।
তিনি তার কিতাবে ইমাম শাফেয়ী رحمة الله عليه এর একটি
উক্তি উল্লেখ করে বলেন হযরত মুছা কাজেম এর কবর
শরীফ দোআ কবুল হবার জন্য পরশ পাথরের মত
পরীক্ষিত ! সুবহানাল্লাহ!
_______________ _______________ # আশিয়াতুল লুমআত ( খন্ড ২ পৃঃ ৯২৩ ). * * * * * * * * * * * * * *
*
* * * * * * * * * * * * * * *
৩ নং কারণঃ সম্মানিত জায়গা বলে.. যেমন আল্লাহ
তাআলার বাণী-
ﺗﻘﻮﺍﻱ ﺍﻟﻘﻠﻮﺏ ﻭﻣﻦ ﻳﻌﻈﻢ ﺷﻌﺎﺋﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﺎﻧﻬﺎ ﻣﻦ যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শন সমূহকে তাজিম বা
সম্মান করল তার নিশ্চয়ই উহা অন্তরের তাকওয়া বা
খোদাভীতির অন্তর্ভুক্ত। (আল কোরআন) _______________
_______________
আর যেহেতু আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ তার নিদর্শনের
অন্তর্ভূক্ত সেহেতু তাদের প্রতি সম্মান করা মূলত খোদা ভীতির অন্তর্ভূক্ত ।
* * * * * * * * * * * * * * **************
এখন এ ব্যপারে ওহাবী গুরু আশরাফ আলী থানবী কি বলে
দেখি...
ﻭ ﻗﺪﺭﺕ ﻣﺴﺘﻘﻞ ﮬﻮ ﻭﮦ ﺟﻮ ﺍﺳﺘﻌﺎﻧﺖ ﻭ ﺍﻧﺘﻤﺪﺍﺩ ﺑﺎﻋﺘﻘﺎﺩ
ﻋﻠﻢ ﺷﺮﮎ ﮨﮯ ﺍﻭﺭ ﺟﻮ ﺑﺎﻋﺘﻘﺎﺩ ﻋﻠﻢ
ﻭﻗﺪﺭﺕ ﻏﯿﺮ ﻣﺴﺘﻘﻞ ﮨﻮ ﺍﻭﺭ ﻭﮦ
ﮐﺴﯽ ﺩﻟﯿﻞ ﺳﮯ ﺛﺎﺑﺖ ﮨﻮ ﺟﺎﮰ ﺗﻮ
ﺟﺎﺋﺰ ﮨﮯ ﺧﻮﺍﮦ ﻣﺴﺘﻤﺪ ﻣﻨﮧ ﺯﻧﺪﮦ
ﮨﻮ ﯾﺎﻣﻮﺕ .. অর্থঃ "অলীগণের জ্ঞান ও ক্ষমতাকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে
করে তাদের নিকট যে সাহায্য প্রার্থনা করা হয় তা
শিরক ।
কিন্তু অলীগণের জ্ঞান ও ক্ষমতাকে স্বয়ং সম্পূর্ণ মনে
না করে বরং আল্লাহ প্রদত্ত মনে করে যদি তাদের
নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা হয় এবং যেকোন প্রমাণ ও উদাহরণ দ্বারা তাদের উক্ত খোদা প্রদত্ত জ্ঞান ও
ক্ষমতা প্রমাণিত হয় তাহলে তাদের নিকট সাহায্য
প্রার্থনা করা জায়েয । চাই তিনি জীবিত হোন অথবা
মৃত"।
_______________ _______________
[ইমদাদুল ফতোয়া , খণ্ড ৩ , আকায়েদ ও কালাম অধ্যায় ।]
_______________ _______________
এখন তো আপনাদের ফতোয়ায় আপনারা মুশরিক ।
আহলে সুন্নাতের আক্বীদা হল মাজারে গিয়ে আল্লাহর
কাজে চাইলে দোয়া তাড়াতাড়ি কবুল
হয় । এতে আপনারা শিরক ফতোয়া দেন । আর এখন আপনাদের মুরব্বী মাজারে শায়িত ব্যক্তির
কাছে চাইতে বলল ।

মাজার শরীফ বা কবর যিয়ারত করা খাস সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত
*********************************************
*************************
আসুন আমরা বিস্তারিত দলীল আদিল্লা দ্বারা প্রমান পেশ করি মাজার শরীফ বা কবর যিয়ারত করা খাস সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত !
সহীহ হাদীস শরীফের মধ্যে এরশাদ হয়েছে--
ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻣﻦ ﺯﺍﺭ ﻗﺒﺮﻱ ﻭﺟﺒﺖ ﻟﻪ ﺷﻔﺎﻋﺘﻲ
অর্থ: হযরত ইবনে ওমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এরশাদ করেছেন, যে ব্যাক্তি আমার কবর ( রওজা শরীফ) যিয়ারত করলো তার জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে গেল |"
দলীল--
√ জামে ছগীর ১৭১ পৃষ্ঠা
√ শিফাউস সিকাম ২
√ ওফাউল ওফা ৩৯৪ পৃষ্ঠা !
হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রওজা শরীফ যিয়ারত প্রসঙ্গে শতাধিক হাদীস শরীফ আছে | প্রয়োজনে সেগুলা পরে উল্লেখ করা যেতে পারে !এবার আসুন কবর যিয়ারত প্রসঙ্গে অন্যান্য হাদীস শরীফ গুলা লক্ষ্য করি |
বিখ্যাত হাদীস শরীফের কিতাব " মিশকাত শরীফে " কবর যিয়ারত প্রসঙ্গে " যিয়ারাতুল কুবুর" বা কবর যিয়ারত নামক একটা অধ্যায় রচনা করা হয়েছে ! সেখান থেকে কিছু দলীল পেশ করা হলো -
ﻋﻦ ﺑﺮﻳﺪﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻛﻨﺖ ﻧﻬﻴﺘﻜﻢ ﻋﻦ ﺯﻳﺎﺭﺓ ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ ﻓﺰﻭﺭﻭﻫﺎ
অর্থ : হযরত বুরায়দা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা করতে পারো |'
দলীল-
√ মুসলিম শরীফ
√ মিশকাত শরীফ ১৬৭০ ( বাংলা অনুবাদ, সুবিধার জন্য হাদীস নম্বর বাংলা অনুবাদ কিতাব থেকে দেয়া হলো যাতে সবাই সহজেই খুজে পায় )
ﻛﻨﺖ ﻧﻬﻴﺘﻜﻢ ﻋﻦ ﺯﻳﺎﺭﺓ ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ ﻓﺰﻭﺭﻭﻫﺎ ﻓﺎ ﻧﻬﺎ ﻧﺰﻫﺪ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻭﺗﺬﻛﺮﺓ ﺍﻻﺧﺮﺓ
অর্থ : হযরত ইবনে মাসুদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, নিশ্চয়ই হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম , এখন তোমরা তা করতে পারো | কেননা উহা দুনিয়ার আসক্তি কমায় এবং আখিরাতকে স্মরন করায় !"
দলীল-
√ ইবনে মাজাহ
√ মিশকাত শরীফ ১৬৭৭
হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, একদিন নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনা শরীফের কিছু কবরের নিকট গেলেন অতঃপর তাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, সালাম হোক তোমাদের প্রতি হে কবরবাসী !"
দলীল-
√ তিরমীযি শরীফ √ মিশকাত শরীফ ১৬৭৩
হাদীস শরীফে আরো এরশাদ হয়েছে--
হযরত ইবনে নোমান রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ননা করেন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি প্রত্যেক জুমুয়ার দিন নিজ পিতা-মাতা অথবা তাদের মধ্যে একজনের কবর যিয়ারত করবে তাকে মাফ করে দেয়া হবে |"
দলীল--
√ শুয়াইবিল ঈমান লিল বায়হাক্বী
√ মিশকাত ১৬৭৬
এছাড়া আরো অসংখ্য সহীহ হাদীস শরীফে কবর যিয়ারত করার ব্যাপারে বলা হয়েছে ।

শেষে এটাই বলবো উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় মাজার বা কবর জিয়ারত কবর পুজা বা শিরক না এটা একটা সুন্নাতে সাহাবা সুন্নাতে রসুল। এতে নেকি আছে গুনাহ নাই। যারা না জেনে বুঝে মাজার বা কবর জিয়ারত কে কবর পুজা বা শিরক বলে তারা ধোকাবাজ মিথ্যাবাদী আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। যারা এমন করছেন তাদের কে বলছি এখনও সময় আছে তওবা করে আহলে সুন্নাত ওয়া জামাত এর পথে চলে আসেন আর নিজেকে সংশোধন করে নেন। বুঝলে বুঝেন না বুঝলে একদিন মরবেন ঠিক বুঝবেন ।



IMG_20161209_190752-picsay.jpg
600 x 338 - 74K
Sign In or Register to comment.
|Donate|Shifakhana|Board|All Sunni Site|EarnMB.in|