★بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيم★لآ اِلَهَ اِلّا اللّهُ مُحَمَّدٌ رَسُوُل اللّهِ★اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ★
YaNabi.in
শেখ নেয়ামতউল্লাহ একজন নিরালস সুফি সাধক - Tasawuf Discussions on

শেখ নেয়ামতউল্লাহ একজন নিরালস সুফি সাধক

edited June 9 in Tasawuf

নেট সার্ফিং করছিলাম। হঠাৎ একটা ছবিতে চোখ পড়ল। এক বৃদ্ধ দরবেশ জাপানের রাস্তায় কি যেন বিলি করছেন। আগ্রহ নিয়ে পোস্ট টা পড়লাম। উনার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করলাম।

নাম শেখ নেয়ামতউল্লাহ। জন্ম ও বেড়ে উঠা তুরস্কে। প্রয়াত সুলতান আব্দুল হামিদের সমসাময়িক অনেক ইসলামী স্কলারের কাছে ধর্মীয় শিক্ষা নেন। জীবনের ১৫ বছর কাটান মদিনা মনোয়ারায়। ইমামতি করেছেন তুরস্কের অনেক মসজিদে। মক্কার জাবাল আল-নূর মসজিদেরও ইমাম ছিলেন।

ইসলামের দাওয়াত প্রচারের লক্ষ্যে ভ্রমণ করেছেন ৫০টিরও বেশি দেশ। ১৯৮১ সালে চায়নিজ সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে ২০ হাজার কপি কোর’আন শরীফ বিতরণ করেন। রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে -৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায়ও দ্বীন প্রচারের কাজ করছেন।

তিনি একজন সূফি সাধক। জাপানে পরিবারসহ বসবাস করছেন ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে । জাপানে অনেক মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। হাজারো জাপানিজ তাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। জাপানে ইসলামের আলো পৌছার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান Japanese Converted মুসলিমরা শ্রদ্ধাভরে স্বীকার করে।

ওহাবী মুভমেন্ট Radical Islam এর Concept চালুর মাধ্যমে Traditional সুফিজমকে নাকচ করার ষড়যন্ত্রের প্লট বুনতে শুরু করে ১৭০০ সালের কিছু সময় পর থেকে। নতুন বোতলে পুরোনো মদের মতই, সেই ওহাবীজম কে নানা নামে Secular Science পড়া ইউনিভার্সিটি গ্রাজুয়েটদের এবং সাধারণ মানুষকে খাওয়নো চেষ্টায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ মারাত্মক ভূমিকা রাখে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তি জয় লাভের পর ১৯২৩ সালের লূজন চুক্তির মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বে থাকা অটোমান/ওসমানি সম্রাজ্য’কে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করা হয়। ১৯২৫ বা ১৯২৬ সালের দিকে ওহাবীদের নেতৃত্বে জান্নাতুল বাকিতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয় (If you google Jannatul Baqi before 1925, you will find lots of picture to compare)।

অটোমান সম্রাজ্য যতদিন মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বে ছিল, ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উল্লেখযোগ্য কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। ব্রিটেন ১৯১৭ সালে অটোমানদের হাত থেকে জেরুজালেম দখল করে এবং ঐ বছর আর্থার বেলফোর প্যালেস্টাইনে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। এটি পরবর্তীতে উসমানীয় সাম্রাজ্যের সাথে সেভ্রে শান্তি চুক্তি ও ফিলিস্তিনের মেন্ডেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

১৯৩২ সালে সৃষ্ট ওহাবী নেতৃত্বাধীন সৌদি আরব নামের নতুন রাষ্ট্র (পূর্বে যা হিজাজ সহ জাজিরাতুল আরবের কিছু অংশ ছিল) মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বে আসে। ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তানে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু করে। পরের ইতিহাস সবার জানা। একটা ইন্টেরেস্টিং ব্যপার যে, আমরা সুন্নী মুসলিমরা শিয়া’দের নাকচ করি। কিন্ত ইসরাইল ইসুতে শিয়াপন্থি ইরান যতটা Vocal এবং Initiatives নিয়েছে, তার ১% ও সৌদি আরব নিত তাহলে আজ ইসরাইলের রাজধানী At least তেল আবিব থেকে জেরুজালেম হতোনা।

অনেককেই দেখি, সূফিদের সম্পর্কে সরাসরি বাজে মন্তব্য করে বসেন। সূফিজম কে নাকচ করা মানে যেমন হাজারো সূফি যারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইসলাম প্রচার করেছেন এটাকে যেমন অস্বীকার করা হয়, তেমনি হযরত আব্দুল কাদের জিলনী (রহঃ), নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রহঃ), খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ), আল্লামা জালালুদ্দিন রুমি (রহঃ), শাহ জালাল (রহঃ), শাহ পরাণ (রহঃ), কুতুব উদ্দিন বখতিয়ার কাকি (রহঃ),  আহমেদ রেজা খান (রহঃ), ফজলে হক খায়রাবাদী (রহঃ), মেহের আলী শাহ (রহঃ) প্রমূখ (উইকিপিডিয়াতে List of Sufi পেইজে অসংখ্য সূফিদের পেইজের লিংক দেয়া আছে, কেউ জানতে চাইলে ওখান থেকে উনাদের জীবনী এবং অবদান জেনে নিতে পারবেন) এরকম অসংখ্য সূফিদের অবদান কে অস্বীকার করা হবে। আমাদের পূর্বপুরুষরা যেমন উনাদের হাত ধরে ইসলামে ধর্মে কনভার্টেড হয়েছেন, ঠিক তেমনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তারাই ইসলামের আলো পৌছে দিয়েছেন। এখন সূফি সাধকদের কথা বলা মানেই হচ্ছে আনস্মার্ট মুসলিম।

যাইহোক, যার কথা বলছিলাম- শেখ নেয়ামতউল্লাহ নকশবন্দী সিলসিলার একজন বুজুর্গ এবং স্কলার। তিনি শেখ নাজিম আল হাক্কানির একজন মুরীদ। উনার ভেরিফাইড ফেসবুক, টুইটার বা লিংকড ইন একাউন্ট নেই, নেই অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেল। কিন্ত উনার কাজ উনি করেই যাচ্ছেন, নীরবে নিভৃতে। উনার মৃত্যুর ১০০ বছর পর যদি জাপানিজ মুসলিমরা তাঁদের ইসলামী হিস্ট্রি এনালাসিস করে উনাকে সম্মান প্রদর্শন করেন তাতে নেগেটিভ কিছু দেখিনা। যেকোন সেকুলার সাবজেক্ট পড়তে গিয়ে যেভাবে আমরা হিস্ট্রি পড়ি, তেমনি ইসলাম নিয়ে স্টাডি করতে গেলেও ইসলামিক হিস্ট্রি পড়েই শুরু করা উচিত। হিস্ট্রি পড়লেই দেখা যাবে, এভাবেই আমাদের অজান্তেই প্রত্যেক যুগেই সূফিগণ ইসলাম প্রচারে কাজ করেছেন, করে যাচ্ছেন এবং করবেন।

আমরা বিভিন্ন ধর্মীয় ইসু নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিতর্ক করেই দিন কাটাচ্ছি, যেখানে সাধারণ মানুষের জন্য ধর্মীয় ইসুতে বিতর্ক হারাম করা হয়েছে। যাদের ইউটিউব লেকচার দেখে সূফিদের সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করছি, তাঁরা কোন মতাদর্শের বা কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে সেটা আগে জেনে নেয়া উচিত। কারণ কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠি সম্পর্কে আপনি কোন দোষারূপ করলে যদি তিনি বা তাঁরা বাস্তবে দোষী না হন তবে এটা তাঁর বা তাঁদের হক নষ্ট করা হচ্ছে। আর বান্দার হক আল্লাহ ততক্ষণ মাফ করবেন না, যতক্ষণ বান্দা মাফ না করে।

২০২৩ সালে লুজন চুক্তি শেষ হবে, সেই সাথে অবসান হবে তুরষ্কের উপর আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা (যেমন- জ্বালানী  উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা, বসফরাস প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয়া, প্রশাসনিক ভাবে জাজিরাতুল আরবের দিকে অগ্রসর না হওয়া ইত্যাদি)। হয়তো তখন সূফিজম নতুন কোন মাত্রা পেতে পারে, কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে ফিলিস্তানিদের অধিকার রক্ষার, নতুন মাত্রা পেতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি-ইরান স্নায়ু যুদ্ধের। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, স্বপ্ন দেখতে দোষ  নেই। নিশ্চিত পানিতে ডুবে যাছেন জেনেও সামান্য কাঠের টুকরো ধরে বেঁচে থাকার আশা যে কেউ করতেই পারেন।
May Allah help us to understand, refrain us from involving any sort controversy & debate regarding Islam in these days of fitna and guide us towards the right path. (Ameen)
Sign In or Register to comment.
|Donate|Shifakhana|Urdu/Hindi|All Sunni Site|Technology|