بسم الله الرحمن الرحيم
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ Sunni Whatsapp Group Click : আমাদের সুন্নি বাংলা WhatsApp গ্রুপে যুক্ত হোন,আমাদের মুফতি হুজুরগণ আপনার ইসলামিক সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিবেন ইন শা আল্লাহ,জয়েন করতে ক্লিক করেন Sunni Bangla Whatsapp group আর Sunni Bangla facebook group এবং Sunni Bangla facebook group মাসলাক এ আলা হজরত জিন্দাবাদ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত জিন্দা বাদ ৭৩ফিরকা ১টি হক পথে ।নবিﷺ এর প্রেমই ঈমান।ফরজ সুন্নাত তাসাউফ সূফীবাদ নফল ইবাদতের আরকান আহকাম সমুহ মাস'আলা মাসায়েল ইত্যাদি জানতে পারবেন।নবিﷺ সাহাবাرضي الله عنه ওলি গণের জীবনি ও অমুল্য বাণী জানতে পারবেন।মুসলিম জগতের সকল খবর ও ম্যাগাজিন পাবেন এখানেহাদিস শরীফ, কুর'আন শরীফ , ইজমা কিয়াস সম্বলিত বিশ্লেষণ, বাতিলদের মুখোশ উম্মচন করে প্রমাণ সহ দলীল ভিত্তিক আলোচনা ।জানতে পারবেন হক পথে কারা আর বাতিল পথে কারা জা'আল হক। বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্নি আলিমদের বাংলায় নাত গজল ওয়াজ নসিহত অডিও ভিডিও ডাউনলোড করুন এখান থেকে অনলাইনে সুন্নি টিভি Live দেখতে আর রেডিও Live শুনতে পাবেন। প্রচুর সুন্নি বাংলা কিতাব ডাউনলোড করুন এখান থেকে।সুন্নি ইসলামিক কম্পিঊটার এপ্লিকেশন এন্ড্রইড এপ্স পাবেন এখানে। প্রতিদিন ভিজিট করুন প্রতিদিন নতুন বিষয় আপডেট পেতে ।ভিজিট করার জন্য ধন্যবাদ জাজাকাল্লাহু খায়ের ।
উছিলা বিষয়ক সমস্ত প্রশ্নাবলী ও তার উত্তর কি??দালিলিক জবাব।

উছিলা বিষয়ক সমস্ত প্রশ্নাবলী ও তার উত্তর কি??দালিলিক জবাব।

edited February 2016 in Mas'la Masayel
প্রশ্নঃ আম্বিয়ায়ে কেরাম عليه السلام এবং আউলিয়ায়ে কেরামের উছিলা ধরা শরীয়ত মতে জায়েজ কিনা ?
,,,,,,,,
উত্তরঃ আম্বিয়ায়ে কেরাম ও আউলিয়ায়ে কেরামকে উছিলা ধরা, তাদের নিকট ফরিয়াদ করা ও সাহায্য প্রার্থনা করা- ইহকালীন ও পরকালীন উভয় ক্ষেত্রেই শরীয়ত মতে ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের ঐক্য মতে জায়েজ । আহলে সুন্নাতকে হাদিস শরীফে ছেওয়াদে আজম বা সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলমানের দল বলা হয়েছে এবং তাদের অনুসরণ করার জন্য তাকিদ করা হয়েছ । তাদের ঐক্যমত বা ইজমা সত্যের দলিল । কেননা, অসত্যের উপর সকলে একমত হতে পারে না । তাদের ইজমা ভুলত্রুটি হতে মুক্ত । এ প্রসঙ্গে নবী করিম ﷺ এর কয়েকখানা হাদিস শরীফ প্রণিধান যোগ্য ।
১) ইমাম আহমদ ও তাবরানী কর্তৃক রেওয়ায়েতকৃত হাদিসে নবী করিম ﷺ এরশাদ করেছেনঃ
আমি আমার রবের দরবারে এই ফরিয়াদ করেছি যে, আমার সখ্যাগরিষ্ঠ উম্মত যেন কোন বাতিল বিষয়ে একমত না হয় । আল্লাহ আমার প্রার্থনা মঞ্জুর করেছেন
— ইমাম আহমদ ও তাবরানী
এতে বুঝা গেল যে বিষয়ে জমহুরে উম্মত একমত হয় তা বাতিল নয় ।
২) ইমাম হাকেম হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه হতে নবী করিম ﷺ এর বানী উদ্ধৃত করেছেন এভাবে
আল্লাহ তা’আলা আমার সমস্ত উম্মতকে গোমরাহির বিষয়ে কখনও ঐক্যমত্য করবেন না । আরও এরশাদ করেছেন, মুসলানগনের মতে যাহা ভাল ও উত্তম, তাহা আল্লাহর নিকটও উত্তম বলে গণ্য
— হাকেম ও তাবরানী
♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥π
প্রশ্নঃ উছিলা ধরার অর্থ কি ? কিভাবে উছিলা ধরা হয় ?

উত্তরঃ আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণকে স্মরণ করে তাদেরকে মাধ্যম বানিয়ে বরকত লাভ করার নাম উছিলা । আল্লাহ তা’আলা তাদের কারনেই আপন বান্দাদেরকে রহম করেন । অতএব- ঐসব নেক বান্দাগণকে উছিলা ধরার সরল অর্থ হচ্ছে- তাঁদেরকে মাধ্যম বা চ্যানেল ধরে মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য এবং মাকসুদ হাসিলের জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করা । কেননা, তারা আমাদের তুলনায় আল্লাহর অতি নিকটে । আল্লাহ তা’আলা তাদের দোয়া ও সুপারিশ কবুল করে থাকেন । এ প্রসঙ্গে একখানা হাদিস শরীফ উল্লেখযোগ্য । যথাঃ
বোখারী শরীফে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ হতে একখানা হাদিসে কুদ্‌সী উল্লেখ করে নবী করিম ﷺ এরশাদ করেছেনঃ
আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা করেছেনঃ যে কেউ আমার কারনে আমার কোন ওলীর সাথে শত্রুতা পোষণ করে, আমি তাঁকে যুদ্ধের জন্য আহবার জানাই । আমার বান্দা আমার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য আমার সর্বাধিক প্রিয় যে ইবাদত করে- তা হচ্ছে আমার নির্ধারনকৃত ফরজ ইবাদত । আর তার ইচ্ছাকৃত নফল ইবাদতের মাধ্যমেও ক্রমশঃ বান্দা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে । শেষ পর্যন্ত সে আমার প্রিয় বন্ধু হয়ে যায় । আর যখন সে আমার বন্ধু হয়ে যায়- তখন আমি তার শ্রবণশক্তি (কান) হয়ে যাই- যার মাধ্যমে সে শুনতে পায় । আমি তার দৃষ্টিশক্তি (চোখ) হয়ে যাই- যার মাধ্যমে সে দেখতে পায় । আমি তার ধারণ শক্তি (হাত ) হয়ে যাই- যার মাধ্যমে সে ধরে । আমি তার চলনশক্তি (পা) হয়ে যাই- যার মধ্যমে সে চলাচল করে । আর যদি সে আমার কাছে কিছু যায়- তবে অবশ্য অবশ্যই আমি তাঁকে তা দেই । আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় চায় তবে অবশ্যই আমি আশ্রয় দেই” ।
— বোখারী শরীফ
এতে প্রমাণিত হল- আল্লাহর প্রিয় বান্দার ডাক আল্লাহ শুনেন । তারা আল্লাহতে মসে যান (ফানা হয়ে যান) । তাঁদের মধ্যে খোদা প্রদত্ত (কুদরতি) শ্রবণ শক্তি, দৃষ্টিশক্তি, ধারণ শক্তি ও চলশক্তি এসে যায় । এগুলোকে কারামত বলে । অতএব- তাঁদের সুপারিশ আল্লাহ কবুল করেন । যেমন- লোহা আগুনের ন্যায় সংস্পর্শে এলে সে আগুনের শক্তি লাভ করে । তখন সেও আগুনের ন্যায় জালাতে পারে । তদ্রূপ- আল্লাহর ওলীগন আল্লাহ নহেন । কিন্তু ফানা ফিল্লাহ হয়ে গেলে খোদায়ই কুদরতি শক্তি লাভ করেন । তারা খোদার নিকট যা চান- তা পান । সেজন্যই লোকেরা মাজারে যান ।
প্রশ্নঃ আম্বিয়ায়ে কেরাম ও আউলিয়ায়ে কেরামকে উছিলা ধরার কোন দলিল প্রমাণ আছে কি ?

উত্তরঃ হাঁ আছে । অসংখ্য হাদিস দ্বারা এর প্রমাণ পাওয়া যায় । যথাঃ-
১) ইমাম তিরমিজি, ইমাম নাছাই, ইমাম বায়হাকী ও ইমাম তাবরানী সহীহ সনদের মাধ্যমে সাহাবী হযরত উসমান ইবনে হানীফ رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه থেকে বর্ননা করেনঃ
ওসমান ইবনে হানীফ رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه বলেনঃ এক অন্ধ সাহাবী নবী করিম ﷺ এর খেদমতে এসে আরজ করলো- ইয়া রাসুলুল্লাহ ! আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুণ যেন তিনি আমার অন্ধত্ব দূর করে দেন । হুজুর আকরাম ﷺ তাঁকে বললেন- যদি তুমি চাও, তাহলে আমি দোয়া করবো । আর যদি ইচ্ছা করো, তাহলে সবর করতে পারো । এটা তোমার জন্য মঙ্গলজনক হবে । উক্ত সাহাবী বললেন- বরং আপনি আল্লাহর কাছে আমার জন্য দোয়া করুণ । তার অনুরোধে নবী করিম ﷺ তাঁকে উত্তমরূপে ওজু করে এই দোয়া পড়তে শিখিয়ে দিলেন- “হে আল্লাহ ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি এবং তোমার নবী যিনি রহমতের নবী সে নবী মুহাম্মদ ﷺ কে উছিলা করে তোমার দিকে আমি মুতাওয়াজ্জাহ (মনোযোগী) হলাম । হে প্রিয় মুহাম্মদ ﷺ, আমি আমার এই মাকসুদ পূরণের জন্য আপনার মাধ্যমে (উছিলায়) আল্লাহর দিকে মুতাওয়াজ্জহ হলাম । হে আল্লাহ ! তুমি আমার মাকসুদ পূরণের ব্যাপারে হুজুর ﷺ এর সুপারিশ কবুল করো । ” এই দোয়া করে ঐ সাহাবী চলে গেলেন । তারপর পুনরায় ফিরে আসলেন । ইত্যবসরে আল্লাহ্‌ তার চক্ষু ভাল করে দিয়েছেন । বায়হাকীর বর্ননায় আছে উক্ত সাহাবী উঠে দাঁড়াতেই তার চক্ষু ভাল হয়ে গেলো ।”
— তিরমিজি, নাছায়ী, বায়হাকী, তাবরানী
পর্যালোচনা
এই হাদিসের মধ্যে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে- অন্ধত্ব দূর করার জন্য সাহাবী একবার আল্লাহকে সম্বোধন করেছেন । আর একবার রাসুলুল্লাহ ﷺ কে সম্বোধন করেছেন । এইভাবে সম্বোধন করা জায়েজ । হাদিস বিশারদগণ বলেছেনঃ এই হাদিসে নবী করিম ﷺ কে উছিলা করে দোয়া করা এবং নবী করিম ﷺ কে সম্বোধন করে ডাক দেয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় । এই দোয়া এস্তেমাল করেছেন সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, সলফে সালেহীন ও পরবর্তী বুযুর্গানে দ্বীন- তাঁদের মকসুদ পূরণের জন্য ।
উক্ত হাদিসে আরও প্রমাণিত হয় যে, নবীজির জীবদ্দশায় এবং ইন্তিকালের পরবর্তী সময়ে যাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গিয়েছিল, সেসব বুযুর্গানে দ্বীন উপরোক্ত আমল করে সকলেই দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছেন । এতে প্রমাণিত হল হুজুর ﷺ এর ইন্তিকালের পরেও তাঁকে উছিলা ধরা যায় । সত্যি কথা এই হুজুর ﷺ আগমনের পূর্বেও সকল নবী ও সকল উম্মত তার পবিত্র নামের উছিলা ধরেই বিপদ থেকে মুক্ত হয়েছিলেন । যেমনঃ হযরত আদম عليه السلام এর তওবা কবুল, নূহ عليه السلام এর কিস্তি ঝড় তুফান থেকে রক্ষা পাওয়া, হযরত ইব্রাহীম عليه السلام এর নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে নিষ্কৃতি লাভ ইত্যাদি । এগুলো নবীযুগের হাজার হাজার বৎসর পূর্বের ঘটনা । সুতরাং উছিলা ধরা শুধু জায়েজই নয় বরং নবীগনেরই ছুন্নাত ।
২) কোন সাহাবী বা ওলীর উছিলা ধরার প্রমাণ নিম্ন বর্নিত হাদীস খান যা বুখারী শরীফে উদ্ধৃত হয়েছেঃ
হযরত আনাস رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه হতে বর্নিত - তিনি বলেনঃ হযরত ওমর رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه এর খেলাফত কালে যখন অনাবৃষ্টির কারনে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিত, তখন তিনি হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মোত্তালিব رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه কে উছিলা করে খোদার কাছে বৃষ্টি কামনা করতেন এবং ইস্‌তিস্‌কার নামাজ পড়তেন । হযরত ওমর رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه এভাবে দোয়া করতেনঃ “হে আল্লাহ, এতদিন আমরা নবী করিম ﷺ এর উছিলা দিয়ে বৃষ্টি কামনা করতাম । বর্তমানে নবীজীর চাচা হযরত আব্বাস رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنهকেও উছিলা করে তোমার কাছে বৃষ্টি কামনা করছি । তুমি আমাদেরকে বৃষ্টি দাও” । হযরত আনাছ رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه বলেনঃ এভাবেই লোকেরা বৃষ্টি পেতো
— বুখারী
হাদীস বিশারদ উলামা ও ইমামগণ বলেছেনঃ এই হাদীস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করছে যে, বুযুর্গানে দ্বীনের উছিলা করে দোয়া করা হযরত ওমরের رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه সুন্নাত । কেননা, হযরত আব্বাস رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه ছিলেন রাসুল ﷺ এর চাচা এবং বিশিষ্ট সাহাবী । লোকেরা তাঁকে উছিলা করে বৃষ্টি প্রার্থনা করার সাথে সাথে বৃষ্টিপাত হতো । নবীজীর বংশের গুন এবং বুযুর্গীর মর্যাদা আল্লাহর নিকট অতি উচ্চ ।
বিপথগামীদের জন্য সতর্কবানী
বিপথগামী লোকেরা বলে থাকে- হযরত ওমর رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه নবীজীর উছিলা না ধরে তাঁর যুগে জীবিত হযরত আব্বাস رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه কে উছিলা ধরেছেন । এতে বুঝা যায়- মৃত কাউকে উছিলা ধরা জায়েয নেই (নাউযুবিল্লাহ)
জবাবঃ হাদিস বিশারদ ওলামাগণ বলেছেন- বিপথগামীরা হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা ও অপব্যাখ্যা করেছে । বরং উক্ত হাদীসের প্রকৃত ব্যাখ্যা হচ্ছে এইঃ হযরত ওমর رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه হযরত আব্বাস رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه কে উছিলা ধরে একথাই বুঝিয়েছেন যে, নবীজী ছাড়াও ঐসব লোককে উছিলা ধরা যায়- যারা নবীজীর অতি নিকটের এবং আত্নীয়জন । সুতরাং পাক পাঞ্জাতন ও আউলিয়া কেরামের উছিলা ধরার প্রকৃষ্ট প্রমান হলো - হযরত ওমর رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه এর উক্ত আমল । অন্যান্য সাহাবীগনকে উছিলা না ধরার মধ্যে কারন হলো- নবীজী ও তাঁর পরিবারের সদস্যগনের বুযুর্গী ও মর্তবা আল্লাহর কাছে কত বেশী তা প্রকাশ করা । ওহাবীদের প্রতারনামূলক ব্যাখ্যা যে সম্পূর্ন মিথ্যা- তা অন্যান্য হাদিস দ্বারাও প্রমানিত হয়েছে ।
♣♣œ♣♣œ♣♣^♣♣♣♣
প্রশ্নঃ ইন্তিকালের পর কাউকে উছিলা ধরার কোন বাস্তব প্রমান আছে কি ?

,,,,,,
উত্তরঃ
অবশ্যই আছে । অসংখ্য প্রমান পেশ করা যেতে পারে । যেমন-
১) ইবনে হিব্বান, হাকেম ও তাবরানী সহীহ সনদের মাধ্যমে একটি হাদিস বর্ননা করেছেন । হযরত আলী رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه এর মা হযরত ফাতেমা বিনতে আছাদ رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه যখন ইন্তিকাল করেন (৩য় হিজরী) তখন নবী করিম ﷺ তাঁর জন্য এভাবে দোয়া করেছেনঃ
হে আল্লাহ! তুমি আমার মা (চাচী) ফাতেমা বিনতে আছাদ رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه কে মাফ করে দাও, তাঁর জন্য তাঁর কবরকে প্রশস্ত করে দাও । তোমার প্রিয় নবী (আমি) ও আমার পূর্ববর্তী সকল আম্বিয়ায়ে কেরামের উছিলায় আমার চাচীর মাগফিরাত করো ।
— ইবনে হিব্বান, হাকেম ও তাবরানী
২) ওহাবী সম্প্রদায়ের নেতা ইবনে কাইয়েম তা যাদুল মাআদ গ্রন্থে হযরত আবু সাঈদ খুদরী رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه এর একখানা হাদীস উল্লেখে করেছেনঃ
হযরত আবু সাঈদ খুদরী رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه বর্ননা করেন- নবী করিম ﷺ এরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি মসজিদে নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হবার সময় এই দোয়া পাঠ করবেঃ
“হে আল্লাহ! প্রার্থনাকারীগণের যে মর্যাদা তুমি দিয়েছো- তাদের সে মর্যাদার উছিলা ধরে আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি । আরও উছিলা ধরছি- তোমার পথে আমার এই চলাকে । কেননা- আমিতো অহঙ্কার করার জন্য বা খারাপ উদ্দেশ্যে লোক দেখানো বা সুনাম অর্জনের জন্য বের হইনি । আমি বের হয়েছি তোমার অসন্তোষ থেকে বাঁচবার জন্য এবং তোমার রেজামন্দি তলব করার জন্য । আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি- তুমি আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো এবং আমার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করো । তুমি ব্যতিত আর কেউ গুনাহ মাফ করতে পারেন না । "
নবী করিম ﷺ এরশাদ করেনঃ এভাবে দোয়া চাইলে আল্লাহ তায়ালা তাঁর জন্য সত্তর হাজার ফেরেস্তা নিয়োজিত করে দেন । ঐ ফেরেস্তারা তাঁর জন্য মাগফিরাত কামনা করেন এবং আল্লাহ তায়ালা তাঁর দিকে (রহমতের দৃষ্টি দিয়ে) তাকিয়ে থাকেন- যতক্ষন না সে নামাজ শেষ করে ।
— যাদুল মাআদ- ইবনে কাইয়েম ওহাবী ও ইবনে মাজা
এখানে প্রার্থনাকারী বলতে জীবিত ও মৃত সকলকেই বুঝানো হয়েছে । কাজেই ইন্তিকালের পর কাউকে উছিলা ধরা জায়েজ প্রমানিত হলো ।
৩) বৃষ্টির জন্য নবী করিম ﷺ এর উছিলায় দোয়া করা
নবী করিম ﷺ এর ইন্তিকালের পর হযরত উমর رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه এর খেলাফত যুগে জনৈক সাহাবী বেলাল ইবনে হারেছ রাসুলুল্লাহ ﷺ এর রওজা মোবারকে গিয়ে বৃষ্টির জন্য হুজুর ﷺ এর খেদমতে প্রার্থনা করেছিলেন । ইমাম বায়হাকী, ইবনে আবি শায়বা প্রমুখ হাদীস বিশারদগণ সহীহ সনদের মাধ্যমে এ মর্মে নিম্নোক্ত হাদীস শরীফখানা বর্ননা করেছেন-
মদীনাবাসীগণ একবার হযরত ওমর رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه এর খেলাফতকালে অনাবৃষ্টির কারণে দূর্ভিক্ষে পতিত হন । হযরত বেলাল ইবনে হারেছ رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه নামক জনৈক সাহাবী নবী করিম ﷺ এর রওযা মোবরকে গিয়ে আরজ করলেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ ﷺ! আপনার উম্মতেরা ধবংসের সম্মুখীন হয়েছে । আপনি তাদের জন্য বৃষ্টির জন্য দোয়া করুন । অতঃপর রাত্রে স্বপনে এসে নবী করিম ﷺ বেলাল رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه কে বললেনঃ তুমি ওমর ইবনুল খাত্তাবের رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه নিকট গিয়ে আমার সালাম জানিয়ে বলো- তারা বৃষ্টি পাবে । স্বপ্ন দেখে বেলাল ইবনে হারেছ رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه হযরত ওমর رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه কে এ শুভ সংবাদ দিলেন । হযরত ওমর رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه এ সংবাদ শুনে কেঁদে ফেললেন । মদিনাবাসীগণ রহমতের বৃষ্টি লাভ করলেন ।
— বায়হাকী ও ইবনে আবি শায়বা
ফায়দাঃ বর্নিত হাদীসে কয়েকটি বিষয়ে প্রাণিধানযোগ্য । যথাঃ
ক) ইন্তিকালের পর নবী করিম ﷺ কে ইয়া রাসুলুল্লাহ বলে সম্বোধন করা জায়েজ । যেমন- সম্বোধন করেছিলেন হযরত বেলাল ইবনে হারেছ رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه ।
খ) বৃষ্টির জন্য দোয়া প্রার্থনা করা সুন্নাত ।
গ) ইন্তিকালের পর নবী করিম ﷺ কে উছিলা করে বৃষ্টির প্রার্থনা করা উত্তম ।
ঘ) হযরত বেলাল (মোয়াজ্জিন বেলাল নহেন) একজন সাহাবী । তাঁর উক্ত কাজে হযরত ওমর رضي الله ﺗﻌﺎﻟﯽٰ عنه অথবা অন্য কোন সাহাবী কর্তৃক আপত্তি না করাই বৈধতার প্রমাণ ।
৪) ইমাম বায়হাকী, ইবনে সুন্নী, হাফেজ আবু নোয়াইম প্রমুখ মোহাদ্দেস ও ইমামগণ নবী করিম ﷺ এর নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময়ের দোয়া এভাবে উল্লেখ করেছেনঃ
হে আল্লাহ! তোমার কাছে প্রার্থনাকারীদের যে মর্যাদা রয়েছে, সে মর্যাদার উছিলা দিয়ে আমি প্রার্থনা করছি ।
— বায়হাকী, ইবনে সুন্নী, আবু নোয়াইম
পর্যালোচনাঃ
ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ ওলামাগণ উপরোক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণ করেছেন যে, জীবিত অথবা ইন্তিকাল প্রাপ্ত যে কোন মোমেন বান্দার উছিলা ধরা পরিস্কারভাবে জায়েজ । নবী করিম ﷺ সাহাবায়ে কেরামকে উক্ত দোয়া পাঠ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন । অতীত যুগের সকল বুযুর্গানে দবীন নামাজে যাওয়ার সময় উক্ত দোয়া এস্তেমাল করতেন । কাজেই ইন্তিকাল প্রাপ্ত আম্বিয়া ও আউলিয়া - এমনকি জীবিত মুমিন বান্দাদের উছিলা ধরাও শরীয়ত মতে জায়েজ এবং সুন্নাত ।
চুড়ান্ত ফতোয়াঃ
ইন্তিকালের পর কোন নবী অথবা অলীগনকে উছিলা করে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা- শুধু জায়েজই নয়, বরং সাহাবীগনের সুন্নাতও বটে ।


মানুন
না
মানুন
আপনার
ব্যাপার ,
তবে
মোরতে তো
এক দিন
হবেই!
তখন টের পাবেন। 


\m/ Like & Share :-bd Bellow Text for This Post নিচের বক্সের লেখাটি শেয়ার করেন এটা এই পোস্টের লিঙ্ক
উছিলা বিষয়ক সমস্ত প্রশ্নাবলী ও তার উত্তর কি??দালিলিক জবাব। http://yanabi.in/u/1a
Sign In or Register to comment.
|Donate|Shifakhana|Urdu/Hindi|All Sunni Site|Technology|