بسم الله الرحمن الرحيم
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ Sunni Whatsapp Group Click : আমাদের সুন্নি বাংলা WhatsApp গ্রুপে যুক্ত হোন,আমাদের মুফতি হুজুরগণ আপনার ইসলামিক সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিবেন ইন শা আল্লাহ,জয়েন করতে ক্লিক করেন Sunni Bangla Whatsapp group আর Sunni Bangla facebook group এবং Sunni Bangla facebook group মাসলাক এ আলা হজরত জিন্দাবাদ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত জিন্দা বাদ ৭৩ফিরকা ১টি হক পথে ।নবিﷺ এর প্রেমই ঈমান।ফরজ সুন্নাত তাসাউফ সূফীবাদ নফল ইবাদতের আরকান আহকাম সমুহ মাস'আলা মাসায়েল ইত্যাদি জানতে পারবেন।নবিﷺ সাহাবাرضي الله عنه ওলি গণের জীবনি ও অমুল্য বাণী জানতে পারবেন।মুসলিম জগতের সকল খবর ও ম্যাগাজিন পাবেন এখানেহাদিস শরীফ, কুর'আন শরীফ , ইজমা কিয়াস সম্বলিত বিশ্লেষণ, বাতিলদের মুখোশ উম্মচন করে প্রমাণ সহ দলীল ভিত্তিক আলোচনা ।জানতে পারবেন হক পথে কারা আর বাতিল পথে কারা জা'আল হক। বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্নি আলিমদের বাংলায় নাত গজল ওয়াজ নসিহত অডিও ভিডিও ডাউনলোড করুন এখান থেকে অনলাইনে সুন্নি টিভি Live দেখতে আর রেডিও Live শুনতে পাবেন। প্রচুর সুন্নি বাংলা কিতাব ডাউনলোড করুন এখান থেকে।সুন্নি ইসলামিক কম্পিঊটার এপ্লিকেশন এন্ড্রইড এপ্স পাবেন এখানে। প্রতিদিন ভিজিট করুন প্রতিদিন নতুন বিষয় আপডেট পেতে ।ভিজিট করার জন্য ধন্যবাদ জাজাকাল্লাহু খায়ের ।

শারীয়াত-সম্মত পদ্ধতিতে মাজার শরীফ জিয়ারত করুন : লেখক : মাওলানা মুহাম্মাদ এ কে আযাদ

শারীয়াত-সম্মত পদ্ধতিতে মাজার শরীফ জিয়ারত করুন : লেখক : মাওলানা মুহাম্মাদ এ কে আযাদ

শারীয়াত-সম্মত পদ্ধতিতে মাজার শরীফ জিয়ারত করুন : মাজার শরীফে সিজদাহ করবেন না এবং নারী গণকে মাজার শরীফে নিয়ে আসবেন না 
          লেখক : মাওলানা মুহাম্মাদ এ কে আযাদ 


     আউলিয়ায়ে কেরামের মাযার শরীফ বা কবর শরীফ যিয়ারত করা অতি-পবিত্র আমল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম স্বয়ং কবর জিয়ারত করেছেন এবং সকলকে কবর জিয়ারত করতে নির্দেশ দান করেছেন। কিন্তু আমাদের অতীব-সতর্ক থাকা অপরিহার্য যে, মাজার শরীফ যিয়ারত করতে গিয়ে যেন শরীয়ত বিরোধী কোন কর্ম সংঘটিত না হয় । মাজার শরীফে সিজদাহ, নারী-পুরুষের অবাধ সংমিশ্রণ, হৈ-হল্লা, আনন্দ-তামাসা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও পরিত্যাজ্য। জিয়ারতের উদ্দেশ্য যেন হয় মৃত্যুকে স্মরণ করা, আখেরাতকে স্মরণ করা, মাজার শরীফে বিশ্রাম-রত নেক-বান্দার দোয়া লাভ করা এবং তাঁর আদর্শে নিজের জীবন-শৈলীকে পরিচালিত করে পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ করা। আল্লাহর ওলীর মাজার শরীফ জিয়ারত করার পরেও যদি আখেরাতের স্মরণ না আসে, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতির ব্যাকুলতা না আসে, জীবন-শৈলী সংশোধনের সুদৃঢ় উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে বুঝতে হবে যে, আমাদের নিয়তে ত্রুটি আছে। এখানে উল্লেখ্য যে, কিছু লোক অজ্ঞতা-বশতঃ মাযার শরীফ যিয়ারতকে মাযার-পূজা বা কবর-পুজা বলে। স্মরণ রাখতে হবে যে, মাযার শরীফ যিয়ারতকে মাযার-পূজা বা কবর-পুজা বলা ইসলাম-দ্রোহিতা, গোমরাহি এবং পথভ্রস্টতা ।  

মাজার শরীফ জিয়ারতের ক্ষেত্রে নিম্ন-লিখিত বিষয়-সমূহ মাথায় রাখুন 

১। পর্দা-হীনতার এই যুগে নারীগণকে মাজার শরীফ নিয়ে আসবেন না। আহলে সুন্নাতের ওয়াল জামায়াতের ফতোয়া অনুযায়ী, বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীগণকে মাজার শরীফ নিয়ে আসা নিষিদ্ধ।[ তথ্যসূত্রঃ ফাতওয়ায়ে রেযভীয়া- খন্ড নং ৪ – পৃ নং ১৭০]। ‘গুন্নিয়াত’ গ্রন্থে এ-প্রসংগে কঠোরতম ভাষায় লিখা হয়েছে যে, “ ইমাম কাজীকে জিজ্ঞাসা করা হোল যে, নারীগণের  মাজার শরীফ জিয়ারত করা জায়েজ কি না? উত্তরে তিনি বলেছেন যে, জায়েজ কি না এটা জিজ্ঞাসা করো না, বরং একথা জিজ্ঞাসা করো যে, এক্ষেত্রে নারীগণের উপর কতটা অভিশাপ বর্ষিত হয় ? যখন নারীরা কবরের উদ্দেশ্যে গৃহ থেকে বের হওয়ার নিয়ত করে তখন তাদের উপর আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতা বর্গের অভিশাপ বর্ষিত হয়। যখন সে  গৃহ থেকে বের হয় , তখন শয়তান তার সঙ্গ নেয়। যখন সে কবরে পৌঁছায় তখন কবরস্থ ব্যক্তির রুহ তার উপর অভিশাপ বর্ষণ করে। যখন সে প্রত্যাবর্তন করে তখন তার উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হয়” [ তথ্যসূত্রঃ গুন্নিয়াত - পৃ নং ৫৫০]। তবে মাজার শরীফে জিয়ারতের স্বতন্ত্র ব্যবস্থা থাকলে, প্রচণ্ড ধর্ম-ভীরু বৃদ্ধা মহিলারা কঠোর পর্দার সঙ্গে কখনও কখনও জিয়ারত করতে পারবেন বলে কোনও কোনও আলেম মত-প্রকাশ করেছেন। আল্লামা শায়খ আমযাদ আলী বলেন যে, “ নারীদেরকে কবর জিয়ারত থেকে বিরত রাখাই নিরাপদ” [ তথ্যসূত্রঃ বাহারে শারীয়াত – চতূর্থ অধ্যায়- পৃ নং ৫৪৯] 
২। মাজার শরীফের আশে-পাশে যেন হৈ-হুল্লোড়, খেলাধুলা, হাসি-তামাশা, আনন্দ-বিনোদন, তরুণ-তরুণীর সংমিশ্রণ ইত্যাদি হারাম কাজের সমাহার গড়ে না উঠে সেদিকে সতর্ক থাকুন এবং আপনার সন্তান- সন্ততি যেন ঐ অবাঞ্ছিত কাজ-সমূহে লিপ্ত না হয়, সে-বিষয়ে সজাগ থাকুন। 
৩। আদবের সঙ্গে মাজার শরীফে প্রবেশ করুন। মাজার শরীফে বিশ্রাম-রত নেক-বান্দার পায়ের নিকট দাঁড়ান । জায়গা না থাকলে অন্যদিকে দাঁড়ান। কোন বুজুর্গের  জীবদ্দশায় তার সম্মানে যতটা নিকটে বা দূরে বসা হয় ততটা দূরে বা নিকটে বসবেন। তাওয়াফ করবেন না। মাজার শরীফ স্পর্শ করবেন না বা চুমু খাবেন না ; বেয়াদবি হবে। [ তথ্যসূত্রঃ হুরমাতে সিজদায়ে তা’জীম – আলা হজরাত শাহ ইমাম আহমাদ রেযা – পৃ নং ৫৪]
৪। শায়খুল ইসলাম মুজাদ্দিদ ঈমাম আহমাদ রেযা  রাহমাতুল্লাহি আলাইহ স্বীয় ফতোয়ায় বলেছেন, “মাজার শরীফে বিশ্রাম-রত নেক-বান্দার চার হাত দূরত্বে অবস্থান করবে। তার পরে বিনম্র ভাবে এভাবে সালাম প্রদান করবে, ‘ আস্‌সালামু আলায়কুম ইয়া সাইয়িদী ! ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’। এরপরে পাঠ করবেঃ
ক। দরূদে গওসিয়া - ৩ বার [ বা যে কোন দরূদ শরীফ ]
খ।  সূরা ফাতিহা - ১ বার
গ। আয়াতুল কুরসী – ১ বার 
ঘ। সূরা ইখলাস – ৭ বার
ঙ।  দরূদে গওসিয়া – ৭ বার [ বা যে কোন দরূদ শরীফ ]
হাতে সময় থাকলে ‘সূরা ইয়াসিন’ এবং ‘সূরা মুলক’ও তেলাওয়াত করবে। তার পরে আল্লাহ পাকের নিকট এভাবে দোয়া করবে, ‘ হে আল্লাহ ! আমি যা পাঠ করলাম তার সওয়াব তোমার প্রিয় বান্দাহকে [মাজার শরীফে বিশ্রাম-রত নেক-বান্দাকে] প্রদান করুন, ততটা পরিমানে প্রদান করুন যতটা আপনার মহানুভবতার উপযুক্ত, আমার আমলের অনুপাতে নয়’। এর পরে আল্লাহ পাকের নিকটে শারীয়ত-সম্মত যে কোন দোয়া করুন এবং বলুন যে ‘হে আল্লাহ! তোমার প্রিয় বান্দাহর [মাজার শরীফে বিশ্রাম-রত নেক-বান্দার] ওসিলায় আমার দোয়া কবুল করুন’। অতঃপর, পূর্বের ন্যায় সালাম প্রদান করে ফিরে আসবে”[ তথ্যসূত্রঃ ফাতওয়ায়ে রেযভীয়া- খন্ড নং ৪ – পৃ নং ২৩১ ]     

৫। সাবধান! খু-উ-ব সাবধান! মাজার শরীফে সিজদা করবেন না। উম্মুল মুমীনীন হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদ্বিআল্লাহু আনহা থকে বর্ণিত আছে যে, “ হজরত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম মুহাজির এবং আনসারদের এক জামায়াতে আবস্থান করছিলেন। তথায় একটি উট এসে হুজুরকে সিজদা করল। সাহাবীগন বললেন, ‘ ইয়া রসূলাল্লাহ! আপনাকে চতুস্পদ জন্তু এবং বৃক্ষ সিজদা করে। কিন্তু আমরা হলাম আপনাকে সিজদা করার অধিক হকদার। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বললেন, ‘ আল্লাহর ইবাদত কর ও আমার তা’জীম কর। যদি আমি কাউকে সিজদার হুকুম দিতাম, তাহলে, স্ত্রীকে হুকুম দিতাম নিজ স্বামীকে সিজদা করার জন্য” [ তথ্যসূত্রঃ আহমাদ বিন হাম্বল- মুসনাদ- খন্ড নং ৬ – পৃ নং ৭৬ – হাদীস নং ২৪৫১৫]।  হজরত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম আরও বলেন, “ নিকৃষ্ট লোক হচ্ছে তারা, যারা কবরকে সিজদা-গাহে পরিনত করে” [ তথ্যসূত্রঃ মুসান্নাফ আবদূর রায্‌যাক । সংগৃহিত-  হুরমাতে সিজদায়ে তা’জীম – আলা হজরাত শাহ ইমাম আহমাদ রেযা – পৃ নং ৩৩] 
   আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সুস্পষ্ট ফতোয়া হল যে, মাজার শরীফে সিজদা করা কঠোর হারাম। ইমামে আহলে সুন্নাত শায়খুল ইসলাম ইমাম আহমাদ রেযা রাহমা তুল্লাহি আলাইহি লিখেছেনযে, “ আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ইবাদতের নিয়তে সিজদাহ করা নিঃসন্দেহে শিরক এবং সুস্পস্ট কুফরী এবং তাজিমী সিজদা করা হারাম ও কবীরা গূনাহ” [ তথ্যসূত্রঃ হুরমাতে সিজদায়ে তা’জীম – আলা হজরাত শাহ ইমাম আহমাদ রেযা – পৃ নং ৫]। শাইখ ইমাম আহমাদ রেযা রাহমা তুল্লাহি আলাইহি তাঁর ‘হুরমাতে সিজদায়ে তা’জীম’ গ্রন্থে কুরআন শরীফের আয়াত, চল্লিশটি হাদীস এবং একশত ফিকহী প্রমাণ দ্বারা তাজিমী সিজদাকে হারাম প্রমাণিত করেছেন।  


মাযার শরীফ যিয়ারতকে মাযার-পূজা বা কবর-পুজা বলা ইসলাম-দ্রোহিতা, গোমরাহি এবং পথভ্রস্টতা

     কিছু লোক অজ্ঞতা-বশতঃ মাযার শরীফ যিয়ারতকে মাযার-পূজা বা কবর-পুজা বলে। এটা সুস্পষ্ট ইসলাম-দ্রোহিতা। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেন, “ আমি তোমাদেরকে কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করছিলাম, এখন থেকে যিয়ারত কর” [ তথ্যসূত্রঃ সহীহ মুসলিম- ১ম খন্ড পৃ নং ৩১৪ ]। সহীহ বুখারীতে বর্নিত আছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম স্বয়ং ওহুদের শহীদ-গণের মাযারাত জিয়ারত করেছেন। লক্ষণীয় বিষয় হল যে, তিনি একা যিয়ারতে যান নি; নিজের সঙ্গে সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে নামায পড়েছিলেন বা দোয়া করেছিলেনে এবং ভাষণ প্রদান  করেছিলেন এবং ঘোষণা করেছিলেন যে, আমি এই ভয় করি না যে, আমার পর তোমরা শির্ক করবে বা মুশরিক হয়ে যাবে [ তথ্যসূত্রঃ সহীহ বুখারী- ৪র্থ খন্ড- পৃ নং ১৪৮৬- হাদীস নং ৩৮১৬ ]। ওহুদের শহীদ-গণের মাযারাত জিয়ারত এবং দোয়ার পর মাযারাতে অবস্থান কালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর এ-ঘোষণা ভীষণ তাত্পর্য-পূর্ন । তিনি জানতেন যে, অজ্ঞ বেআদবরা একসময় কবর-যিয়ারতকে কবর-পূজা বলে অভিহিত করবে এবং একে শির্ক বলবে। তাই তিনি নিজ ঘোষাণার দ্বারা সম্পূর্ণ বিষয়টির মিমাংসা করে গেছেন। এর পরেও যারা কবর-যিয়ারতকে কবর-পূজা বলে অভিহিত করবে, তারা নিজেরাই ইসলাম-দ্রোহী, পথভ্রষ্ট এবং ইমান-হীন বলে বিবেচিত হবে কারন তারা সরাসরি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লামকে চ্যালেঞ্জ জানাছে। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে শারীয়ত-সম্মত ভাবে কবর যিয়ারতের তাওফীক দান করুন। আমীন। 

Sign In or Register to comment.
|Donate|Shifakhana|Urdu/Hindi|All Sunni Site|Technology|